শিরোনাম

লতিফ সিদ্দিকী কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক   |  ০২:৩০, জুন ২০, ২০১৯

বগুড়ায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা একটি মামলায় সাবেক পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার (২০জুন) সকালে বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক নরেশ চন্দ্র রায় জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বগুড়ায় পাটকলের প্রায় আড়াই একর জমি দরপত্র ছাড়াই বিক্রির মাধ্যমে সরকারের ৪০ লাখ ৭০ হাজার টাকা আর্থিক ক্ষতির অভিযোগে ২০১৭ সালের ১৭ অক্টোবর সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীসহ দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মামলার অপর আসামি হলেন-ওই জমির ক্রেতা বগুড়া শহরের কাটনাপাড়া এলাকার মৃত হারুন-অর-রশিদের স্ত্রী জাহানারা রশিদ।

পরে মামলাটিতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। বৃহস্পতিবার মামলাটিতে জামিন নিতে বগুড়ার আদালতে গেলে জামিন নামঞ্জুর করে লতিফ সিদ্দিকীকে কারাগারে পাঠানো নির্দেশ দেন বিচারক।

আদমদীঘি উপজেলার দরিয়াপুর মৌজায় অবস্থিত বাংলাদেশ জুট করপোরেশনের (বিজেসি) মালিকাধীন ২ দশমিক ৩৮ একর জমিটি পাটকলের ক্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

এজাহারে বলা হয়েছে, তৎকালীন পাটমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী অপর আসামি জাহানারা রশিদের পূর্ব পরিচিত ছিলেন। সেই সুবাদে তিনি বিজেসির মালিকানাধীন ২ দশমিক ৩৮ একর জমি স্থায়ীভাবে বরাদ্দ নেয়ার জন্য ২০১০ সালের ১১ মে পাটমন্ত্রী বরাবর আবেদন করেন।

এর দু'দিনের মাথায় বছরে ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় ওই জমি তার নামে ভাড়া দেয়া হয়। কিন্তু জাহানারা রশিদ পরবর্তীতে ভাড়া চুক্তি সম্পাদন কিংবা ভাড়া পরিশোধ না করে ওই জমিটি কেনার জন্য প্রায় দেড় বছর পর ২০১১ সালের ২৩ নভেম্বর পাটমন্ত্রী বরাবর পুনরায় আবেদন করেন।

পরে সরকারি ওই সম্পত্তি আবেদনকারী জাহানারা রশিদের নামে বিক্রির জন্য পাটমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী 'ইচ্ছাপত্র' জারির নির্দেশ দেন। এরপর মন্ত্রীর একক নির্দেশে ২০১২ সালের ৩০ ডিসেম্বর ওই সম্পত্তি জাহানারা রশিদের নামে দলিল সম্পাদন ও রেজিস্ট্রি করে দেয়া হয়। সরকারি ওই জমির মূল্য ৬৪ লাখ ৬৩ হাজার ৭৯৫ টাকা হলেও তা মাত্র ২৩ লাখ ৯৪ হাজার ৭৪৪ টাকায় বিক্রি করা হয়।

মামলার এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, বিজেসির আওতাধীন সরকারি সম্পত্তি উন্মুক্ত দরপত্রের (টেন্ডার) মাধ্যমে বিক্রির নীতিমালা থাকলেও আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী মন্ত্রী হিসেবে তা না করে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে একক সিদ্ধান্তে বেআইনিভাবে সরকারি সম্পত্তি বিক্রি করেছেন। প্রকৃত মূল্যের চেয়ে কম দামে ওই সম্পত্তি বিক্রি করায় সরকারের ৪০ লাখ ৬৯ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

এমএআই

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত