শিরোনাম

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতন, এএসআই সাইফুল্লা কারাগারে

নড়াইল প্রতিনিধি  |  ১১:৪২, মে ২৭, ২০১৯

নড়াইলে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী নির্যাতন মামলায় স্বামী আশুলিয়া থানার প্রত্যাহারকৃত এএসআই সাইফুল্লার (২৮) জামিন বাতিল করে কারাগারে প্রেরণ করেছেন আদালত। গতকাল রোববার (২৬ মে) দুপুরে নড়াইলের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২ নম্বর আদালতের বিচারক আমাতুল মোর্শেদা এ আদেশ দেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৩ অক্টোবর গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানার নিজামকান্দি গ্রামের শাহিদুল ইসলামের ছেলে সাইফুল্লার সাথে নড়াইলের নড়াগাতি থানার পাটনা গ্রামের গঞ্জর খানের মেয়ে মোসা: রাশিদা খানমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের দাম্পত্য জীবনে একটি ছেলে সন্তান হয়। যার বয়স এখন ১৩ মাস।বিয়ের পর রাশিদার স্বামী পুলিশের এএসআই সাইফুল্লা তাকে (রাশিদা) শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এছাড়া বিভিন্ন সময়ে যৌতুক দাবি করলে রাশিদার বাবার বাড়ি থেকে সাইফুল্লাকে মোটরসাইকেল কিনে দেয়া হয়। মোটরসাইকেল কিনে দেয়ার পর ঢাকায় জমি কেনার জন্য রাশিদার পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন এএসআই সাইফুল্লা। ঢাকায় জমি কেনার টাকা দিতে না পারায় চলতি বছরের ২জানুয়ারি সকালে রাশিদাকে ঢাকার বাসায় শারীরিক ভাবে নির্যাতন করেন সাইফুল্লা। এরপর শিশু সন্তানসহ রাশিদাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

এসব ঘটনায় রাশিদা খানম বাদী হয়ে গত ৩১ মার্চ নড়াগাতি আমলী আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ধারায় মামলা দায়ের করেন। এরপর মীমাংসার শর্তে গত ২৫ এপ্রিল বিজ্ঞ আমলী আদালতে (নড়াগাতি) সাইফুল্লার অন্তবর্ন্তীকালীন জামিন হয়। পরবর্তীতে গত ২৯ এপ্রিল নড়াইল জজকোর্ট ভবনের নিচতলায় বাদী ও বিবাদীসহ দু’পক্ষের আত্মীয়-স্বজন, পিপি ও আইনজীবীর উপস্থিতিতে সিদ্ধান্ত হয়, ২ মে আসামিপক্ষ বাদীর বাবার বাড়ি থেকে রাশিদাকে স্বামীর সংসারে নিয়ে যাবে।

এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওইদিন (২ মে) রাশিদা ও তার সন্তানকে স্বামীর বাড়ি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানার নিজামকান্দি গ্রামে নিয়ে যায় স্বামী সাইফুল্লা । এর পর পাঁচ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে গত ৬ মে রাতে স্বামী সাইফুল্লা রাশিদাকে আবারো নির্যাতন করে ঘরে আটকে রাখেন। এ খবর পেয়ে রাশিদার ভাই ও ভাবী ঘটনার পরের দিন ৭ মে তাকে স্বামীর বাড়ি থেকে উদ্ধার করে নড়াইলের কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

তবে এ সময় রাশিদার ১৩ মাসের শিশু সন্তান রোহানকে ওই বাড়িতে জোর করে রেখে দেন সাইফুল্লা। এ ঘটনায় রাশিদা খানম গত ১৫ মে নড়াইলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার শিশু সন্তান উদ্ধারের জন্য মামলা করেন। তবে এখনো শিশু সন্তান ফিরে পায়নি রাশিদা। এদিকে আসামি এএসআই সাইফুল্লা মীমাংসার শর্ত ভঙ্গ করায় গত ১৬ মে আদালতে অন্তবর্তীকালীন জামিন বাতিলের আবেদন করেন রাশিদা। এ প্রেক্ষিতে রোববার (২৬) বাদী-বিবাদী পক্ষের শুনানি শেষে গৃহবধূ রাশিদার স্বামী আশুলিয়া থানার প্রত্যাহারকৃত এএসআই সাইফুল্লার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন আদালত।

এ ব্যাপারে ভূক্তভোগী রাশিদা খানম তার শরীরে নির্যাতনের চিহৃ দেখিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, আমার স্বামী চরম ভাবে আমাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেছে। তার যথাযথ শাস্তি দাবি করছি। আমাকে নির্যাতনের কারণে তাকে ঢাকার আশুলিয়া থানা থেকে তাকে প্রত্যাহার করে ঢাকায় নেয়া হয়েছে । তবুও নমনীয় হয়নি সাইফুল্লা।রাশিদা তার শিশু সন্তানকে ফিরে পেতে প্রশাসনসহ মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন।

এমআর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত