শিরোনাম

অনৈতিক রায়ের অভিযোগে বিচারপতি সালমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থার আবেদন

আদালত প্রতিবেদক  |  ১৫:১১, মে ১৬, ২০১৯

হাইকোর্টের বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে রায় পাল্টে দেয়ার অভিযোগে উঠেছে। ন্যাশনাল ব্যাংকের ঋণ সংক্রান্ত এক রিট মামলায় অবৈধভাবে ডিক্রি জারির মাধ্যমে তিনি রায় পাল্টে দেন বলে অভিযোগ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

এরপর আদালত ঋণ সংক্রান্ত এই মামলার হাইকোর্ট ও বিচারিক আদালতের সব রায় বাতিল ঘোষণা করেন। অভিযোগ শুনে আপিল বিভাগ উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, এটা নজিরবিহীন।

বৃহস্পতিবার (১৬মে) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চে এ অভিযোগ তোলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, ফিদা এম কামাল ও রোকন উদ্দিন মাহমুদ সহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী প্রধান বিচারপতিকে বিচারপতি সালমা মাসুদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতির কাছে অভিযোগ করার পরামর্শ দেন।

তিনি বলেন, ‘আদালতের যে মর্যাদা, এই ধরনের রায়ে বা আদেশে সেই মর্যাদা ব্যহত হয়, ক্ষুণ্ন হয় এবং অবনমিত হয়। সেই প্রেক্ষিতে আদালতের কাছে আবেদন রেখেছি, রাষ্ট্রপতির কাছে হোক বা আদালতের কাছেই হোক, বিষয়টি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য।’

সিনিয়র আইনজীবী বাসেত মজুমদার জানান, ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে ৩৬ কোটি টাকার ঋণ নিয়েছিল এম আর ট্রেডিং। সেই ঋণ খেলাপী হওয়ায় ন্যাশনাল ব্যাংক অর্থঋণ আদালতে এম আর ট্রেডিংয়ের বিরুদ্ধে মামলা করে। সে মামলার কার্যক্রম চালু থাকাকালীন দুই পক্ষের মধ্যে আপসনামা হয় এবং সে অনুসারে টাকা মিলমিশ করে নিয়ে যাবে। এরপর তারা ওই আপসনামা অর্থঋণ আদালতে দাখিল করে সে অনুযায়ী ডিক্রি চান।

কিন্তু অর্থঋণ আদালত সে আপসনামার ভিত্তিতে ডিক্রি জারি করেনি। এরপর ওই ডিক্রির বিরুদ্ধে এম আর ট্রেডিং হাইকোর্টে আবেদন জানায়। সে আবেদনের শুনানি নিয়ে আদালত রুল জারি করেন এবং আপসনামা ভিত্তিতে অর্থঋণ আদালতকে ডিক্রি জারির নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এরপর পুনরায় অর্থঋণ আদালত ডিক্রি দেন এবং এম আর ট্রেডিং হাইকোর্ট থেকে জারি করা রুল উইথড্র করে নেন।

তিনি আরও বলেন, ‘পরে ন্যাশনাল ব্যাংক আপিল বিভাগে আসে এবং ন্যাশনাল ব্যাংক হাইকোর্টের ওই আদেশকে পুরোপুরি বেআইনি বলে উল্লেখ করে। তারা আরও বলে, ওই আদেশের ভিত্তিতে (হাইকোর্টের) যে ডিক্রি (অর্ধঋণ আদালত থেকে) হয়েছে তাও বেআইনি।

তখন আপিল বিভাগ শুনানি করে দেখলেন হাইকোর্টের ওই আদেশ দেওয়া ঠিক হয়নি। এজন্য হাইকোর্টের রায় ও অর্থঋণ আদালতের ডিক্রি বাতিল করেছেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে ওই মামলাটি পুনরায় চালু করার নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। এছাড়াও আদালত এম আর ট্রেডিংকে ১ কোটি টাকা জরিমানা করেছেন। জারিমানার এই টাকা হাইকোর্টে জমা দিতে বলা হয়েছে বলে জানান তিনি।’


এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত