শিরোনাম

‘মশা-জলাবদ্ধতা রোধে দুই সিটির অবহেলা আছে’

আদালত প্রতিবেদক  |  ১৮:১২, মে ১৫, ২০১৯

বায়ুদূষণ, জলাবদ্ধতা ও মশা রোধে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অবহেলা রয়েছে। নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতে সংস্থা দুটিকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলেছেন হাইকোর্ট।

আদালতের তলবে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রধান দুই নির্বাহী হাজির হলে বুধবার (১৫মে) বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান এবং বিচারপতি কেএম কামরুল কাদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টেও দ্বৈত বেঞ্চ এ কতা বলেন।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন-আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

শুনানিতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী মো. আবদুল হাই এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী মোস্তাফিজুর রহমান হাজির ছিলেন। গত ৫ মে এ দুইজনকে তলব করা হয়েছিল। তাদের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন আইনজীবী ড. নুরুন্নাহার নুপুর।

শুরুতে দুই সিটির নির্বাহীরা বায়ু দূষণরোধে গৃহীত পদক্ষেপগুলো প্রতিবেদন আকারে আদালতে দাখিল করেন। সরকার মেট্রোরেলসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প হাতে নেয়ায় বায়ুদূষণ রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে তারা আদালতকে জানান।

তখন আদালত বলেন, ‘বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজের সময় আপনাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা দেখা যায় কেন? আপনারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় খোঁড়াখুঁড়ি করেন। তাই সমন্বিতভাবে কাজ করবেন।

এছাড়া নাগরিক যেসব সুযোগ-সুবিধা রয়েছে তাও আপনারা নিশ্চিত করবেন। পয়োনিষ্কাশন, জলাবদ্ধতা ও মশা নিধনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।’

আদালত বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে একটু বৃষ্টি হলেই বিভিন্ন এলাকায় হাঁটুপানি উঠে যায়। আবার মশার উৎপাতও বেড়ে যায়। তাই আগামী বর্ষায় মশার উৎপাত কমাতে পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। বাংলাদেশে অনেক বিদেশি বসবাস করেন, বেশ কয়টি দূতাবাসও রয়েছে। দেশে বিনিয়োগের আরও সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সেগুলো লক্ষ্য রাখতে এবং সচেতন হয়ে আরও কর্মমুখী হতে হবে।’

আদালত আরও বলেন, জনগণ যেভাবে ট্যাক্স দিচ্ছেন তাতে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা পাওয়া তাদের অধিকার। তাই সব অনিয়ম ও প্রতিবন্ধকতা থেকে বেরিয়ে অচিরেই সব সমস্যা সমাধান করতে দুই সিটির নির্বাহীদের নির্দেশ দেন আদালত।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার বলেন, ‘এক রিটের প্রেক্ষিতে ঢাকার বায়ুদূষণের মাত্রা পরিমাপ করে এবং দূষণ রোধে কী কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তার ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছিলেন হাইকোর্ট। যার ধারাবাহিকতায় আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছিল। কিন্তু বায়ুদূষণ রোধের উপযুক্ত জবাব ওই প্রতিবেদনে না উঠে আসায় সন্তুষ্ট হতে পারেননি আদালত।

মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্টে সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদন করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

পরদিন রাজধানী ঢাকার বায়ু দূষণ রোধে অন্তবর্তীকালীন আদেশ ও রুল জারি করেন হাইকোর্ট। এছাড়া পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক ও ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তাদের ওই আদেশ পালন করে গৃহীত পদক্ষেপ আদঅরতকে প্রতিবেদন আকাওে জানাতে বলা হয়।

গত ১৩ মার্চ ঢাকার বায়ুদূষণের মাত্রা পরিমাপ করে এবং দূষণ রোধে কী কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তা প্রতিবেদন আকারে দাখিল করতে পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দিয়েছিলেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত