শিরোনাম

নুসরাত হত্যা : ওসি মোয়াজ্জেমের মামলা পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ

আদালত প্রতিবেদক  |  ১৭:৪২, এপ্রিল ১৫, ২০১৯

মাদ্রাসাশিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় সোনাগাজী থানার প্রত্যাহার হওয়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। নুসরাত জাহান রাফি থানায় অভিযোগ দিতে আসার পর তাকে আপত্তিকর প্রশ্ন করা এবং ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে ওসির বিরুদ্ধে এই মামলা হয়।

সোমবার (১৫ এপ্রিল) ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আসলাম জগলুল হোসেন এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে আগামী ৩০ এপ্রিল ডিআইজি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিআইবি) প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। দুপুরে ঢাকার সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে বাদী হয়ে মামলাটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের মামলা তুলে না নেওয়ায় গত ৬ এপ্রিল কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় নুসরাতের গায়ে। নুসরাতকে আগুনে পোড়ানোর মামলার আসামিদের ধরতে গড়িমসির অভিযোগ ওঠার পর ১০ মার্চ মোয়াজ্জেম হোসেনকে সোনাগাজী থানার দায়িত্ব সরিয়ে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে বদলি করা হয়।

ওই দিন রাতেই ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নুসরাত। পরদিন ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, থানায় ওসির সামনে অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ধরতে গিয়ে অঝোরে কাঁদছিলেন নুসরাত।

নুসরাত তার মুখ দুই হাতে ঢেকে রেখেছিলেন। সে সময় ওসি মোয়াজ্জেম ‘মুখ থেকে হাত সরাও, কান্না থামাও’ বলার পাশাপাশি তিনি এও বলেন, ‘এমন কিছু হয়নি যে এখনও তোমাকে কাঁদতে হবে’। ওই ভিডিও ধারণের জন্য ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে আজ দুপুরে ঢাকার সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে বাদী হয়ে মামলাটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

আরজিতে বলা হয়েছে, গত ২৭ মার্চ ওই ছাত্রীকে অধ্যক্ষ শ্রেণিকক্ষে নিয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠলে দুজনকে থানায় নিয়ে যান ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন। ওসি নিয়ম ভেঙে জেরা করতে নুসরাতের বক্তব্য ভিডিও করেন। মৌখিক অভিযোগ নেওয়ার সময় দুই পুরুষের কণ্ঠ শোনা গেলেও সেখানে নুসরাত ছাড়া অন্য কোনো নারী বা তার আইনজীবী ছিলেন না।

ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া এই ভিডিও নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীরা। তাদের মতে, ভিকটিমের এ ধরনের ভিডিও ধারণ অপরাধের মধ্যে পড়ে। অভিযোগকারীর বক্তব্য কেউ আইন না মেনে ভিডিও করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ আছে বলেও জানিয়েছেন পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা। তবে এ বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তা মোয়াজ্জেমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, গত ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে সোনাগাজী ইসলামিয়া মাদ্রাসার ছাদে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় বোরখা পরিহিত কয়েকজন। পরে ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় রাফি।

আরও পড়ুন : নুসরাতকে হারিয়ে দিয়েছে ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন!<

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত