শিরোনাম

নূর চৌধুরীর ফেরত : কানাডার আদালতের সিদ্ধান্ত কয়েক দিনের মধ্যে

আমার সংবাদ ডেস্ক  |  ১৬:২৪, মার্চ ২৬, ২০১৯

বিদেশে পালিয়ে থাকা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি নূর চৌধুরীকে ফেরতের বিষয়ে কয়েকদিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাবে কানাডার আদালত। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয় জানিয়েছে কানাডায় বাংলাদেশ হাই-কমিশন।

গতকাল সোমবার (২৫মার্চ) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে নয়টায় ওন্টারিওর ফেডারেল আদালতে নূর চৌধুরীকে বাংলাদেশে ফেরানোর লক্ষে করা মামলার শুনানি শুরু হয়। শুনানিতে নূর চৌধুরীর বিষয়ে তথ্য সরবরাহের পাশাপাশি দীর্ঘ বিতর্ক হয়। বিচারপতি ও’ রাইলির আদালতে বাংলাদেশের পক্ষে শুনানি করেন-আইনজীবী জন টেরি। শুনানি শেষে আদালত এ বিষয়ে কয়েকদিনের মধ্যেই সিদ্ধান্ত দেবে বলে জানায়।

নূর চৌধুরীকে ফেরত পাঠিয়ে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় কানাডার আদালত সহযোগিতা করবেন বলে প্রত্যাশা কানাডায় বাংলাদেশ হাইকমিশন ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের। এদিকে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিকে দেশে বিচারের মুখোমুখি করতে সরকার দৃঢ়প্রত্যয়ী বলে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক ছয় আসামির মধ্যে চারজনের অবস্থান নয় বছরেও শনাক্ত হয়নি। বাকি দুজনের অবস্থান বিদেশে শনাক্ত হলেও তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে দণ্ড কার্যকর করার ক্ষেত্রে চলমান আলোচনায় এখনো কোনো সুফল আসেনি।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সেনাবাহিনীর একদল কর্মকর্তা ও সৈনিকের হাতে সপরিবারে জীবন দিতে হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবকে। দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা সে সময় দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান। এই হত্যাকাণ্ডে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১২ জনের মধ্যে পাঁচজনের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে ২০১০ সালে। বাকীদের একজন মারা গেছেন এবং ছয়জন পলাতক আছেন।

এরা হলেন- আব্দুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম, এম রাশেদ চৌধুরী, এসএইচএমবি নূর চৌধুরী, আব্দুল মাজেদ ও রিসালদার মোসলেমউদ্দিন। তাদের বিরুদ্ধে ২০০৯ সালে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিস জারি করা আছে।

এদের মধ্যে নূর চৌধুরী কানাডায় এবং এম রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে বলে নিশ্চিত রয়েছে ইন্টারপোলের বাংলাদেশ শাখা ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)।বাকিরা কোথায় আছে সেবিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো ধারণা না থাকলেও সম্ভাব্য যে সব দেশে তাদের অবস্থানের কথা বলা হচ্ছে, সেগুলোর সঙ্গে এনসিবি নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১২ জনের মধ্যে সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, মুহিউদ্দিন আহমদ (আর্টিলারি), বজলুল হুদা ও এ কে এম মহিউদ্দিনের (ল্যান্সার) ফাঁসি কার্যকর হয় ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি। আজিজ পাশা ২০০১ সালের মাঝামাঝি জিম্বাবুয়েতে মারা যান বলে পুলিশ জানিয়েছে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার চার বছরের মধ্যে ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট স্বাধীনতার স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে একদল সেনা সদস্য। তারপর ইনডেমিনিটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে বিচারের পথও রুদ্ধ করে দেওয়া হয়।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফেরার পর বিচারের পথ খোলে; মামলার পর বিচার শুরু হলেও বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় যাওয়ার পর ফের শ্লথ হয়ে যায় মামলার গতি। আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করে দণ্ডিত পাঁচজনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত