শিরোনাম

পরকীয়ার জেরে স্ত্রী-সন্তান হত্যায় ব্যাংক কর্মকর্তার যাবজ্জীবন

আদালত প্রতিবেদক  |  ১৯:৫০, মার্চ ২০, ২০১৯

রাজধানীর মিরপুরের পাইকপাড়ায় স্ত্রী-সন্তান হত্যা মামলায় ব্যাংক কর্মকর্তা আমান উল্ল্যাহকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক মো. মনির কামাল আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর আসামিকে সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো নির্দেশ দেন আদালত। আসামি আমান উল্ল্যাহ মিরপুরের মধ্য পাইকপাড়ার আ. সোবহান শেখের ছেলে। তিনি পূবালী ব্যাংকের এলিফ্যান্ট রোড শাখার সিনিয়র অফিসার।

২০১৪ সালের ৫ নভেম্বর দিবাগত রাতে মিরপুর ৬৭/এ, মধ্য পাইকপাড়ার পঞ্চম তলার ভাড়া বাসায় খুন হন আইরিন আক্তার আরজু ও তার ৭ বছর বয়সী ছেলে সাবিদ। স্ত্রীকে প্রথমে বালিশ চাপা ও পরে গলাটিপে হত্যা করেন আমান। সাবিদ তা দেখে ফেলায় পরে সন্তানকে গলা টিপে হত্যা করেন। সেখানে নিহত আরজুর দেড় বছরের শিশু সন্তান সানভীরও ছিল।

সানজিদা ইসলাম সুবর্ণা নামে এক নারীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে তাকে বিয়ে করার জন্যই আমান তার স্ত্রী ও সন্তানকে হত্যা করেন মর্মে তদন্তে উঠে আসে। মামলা অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০০৪ সালে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় আমান-আরজুর। আমান তার স্ত্রী আরজুকে আগেও বেশ কয়েকবার হত্যার চেষ্টা করেছিলেন। সর্বশেষ শিশু সাবিদকে সঙ্গে নিয়ে জুমার নামাজ পড়তে গিয়ে সুবর্ণার সঙ্গে দেখা করেছিলেন। ওই বিষয়টি সাবিদ তার মা আরজুকে বলে দেয়।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আমান তার শিশু সন্তানকে মারধর করেন। এতে বাধা দিতে গেলে স্ত্রী আরজুকেও মারধর করেন আমান। ওই ঘটনায় দুই পরিবারের সদস্যরা কয়েক দফা সালিশ করলেও আমান ওই পথ থেকে সরে আসেননি। পরে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেন স্ত্রীকে।

নিহত আরজু ইডেন কলেজ থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। তার বাবা মৃত রহমান হাওলাদার। গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজংয়ে। ওই ঘটনায় নিহতের চাচা ইউনুস হাওলাদার মিরপুর থানায় একটি মামলা করেন। মামলা তদন্তের পর ডিবি ইন্সপেক্টর নিবারণ চন্দ্র বর্মন ২০১৫ সালের ১৮ এপ্রিল আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। একই বছরের ১৮ আগস্ট আদালত আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন। মামলাটির বিচারকালে আদালত ২২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত