শিরোনাম

বেড়েছে বইয়ের দাম ক্রেতাদের অসন্তোষ

প্রিন্ট সংস্করণ॥রাসেল মাহমুদ  |  ০০:৪১, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৯

দিন যত যাচ্ছে, ততই ভিড় বাড়ছে বাঙালির প্রাণের সাথে মিশে থাকা অমর একুশে গ্রন্থমেলায়। বইপ্রেমীদের সরব উপস্থিতি প্রতিদিনই মেলাকে করছে সমৃদ্ধ-প্রাণবন্ত। বিস্তৃত পরিসরে মেলা হওয়ায় এ বছর স্বাচ্ছন্দে ঘুরাফেরা করতে পারছেন মেলায় আগত পাঠক, লেখক, প্রকাশকরা। তবে বইয়ের দাম নিয়ে পাঠকদের মধ্যে কিছুটা অসন্তোষ বিরাজ করছে। তারা বলছেন, গত বছরের চেয়ে এ বছর বইয়ের দাম কিছুটা বেড়েছে। ক্রেতাদের দাবি, এ দাম শুধু নতুন বইয়ের ক্ষেত্রে নয়, পুরাতন বইয়ের নতুন মুদ্রণেও বেড়েছে দাম। প্রকাশকদের দাবি, কাগজসহ আনুষাঙ্গিক জিনিসের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে নতুন বইয়ে। এছাড়া বইয়ের দাম বাড়ার রয়েছে একাধিক কারণ। তারা বলছেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর কাগজ, কালি, শ্রম ও ছাপার খরচ বেড়েছে। ফলে অনিচ্ছা সত্ত্বেও কিছুটা দাম বাড়ানো হয়েছে। গত বছরের চেয়ে এ বছর বইয়ের দাম বেড়েছে অভিযোগ করে ঢাকা কলেজের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী রবিন হাসান বলেন, এ বছর বইয়ের দাম অন্যান্য বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি। গত বছর ৫ ফর্মার বই কিনেছি ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। এবার সেই বই কিনতে হচ্ছে ১৫০ টাকায়। বছরের ব্যবধানে বইয়ের দাম এভাবে বৃদ্ধি আমার কাছে অস্বাভাবিক বলে মনে হচ্ছে। বইয়ের দাম বৃদ্ধির অভিযোগ করেছেন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী রাফিয়া রহমান। তিনি বলেন, আসলে অন্যান্য পণ্যের মতো আমরা বইয়ের দাম নিয়ে বেশি চিন্তা করি না। বইয়ের কাভারে একটা দাম লেখা থাকে, সেখান থেকে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ ছাড় দিয়ে বিক্রি হয়। ফলে আমরা খেয়ালই করি না আসলেই যে টাকা থেকে ছাড় দেয়া হচ্ছে তা যৌক্তিক দাম কিনা। আর এ কারণেই দাম বাড়লেও আমরা তেমন কিছু করতে পারি না। কবি নজরুল সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাফিজুল ইসলাম অভি বলেন, গত বছরের চেয়ে এ বছর বইয়ের দাম কিছুটা বেশি। নাজনীন নামের এক পাঠক জানান, এ বছর বইয়ের দাম বেশি। এ জন্য বেশি বই কিনতে পারিনি। যে পরিমাণ বই কেনার চিন্তা করেছিলাম, দামের কারণে সে পরিমাণ বই কেনা সম্ভব হয়নি। তার মতে, পুরনো বইগুলো যে দামে বিক্রি হচ্ছে একই বই নীলক্ষেত থেকে কিনলে মেলার চেয়ে কম দামে কেনা যাবে। রাজধানীর কলাবাগান থেকে মেলায় বই কিনতে আসা রাশেদ ও লাবনী দম্পতির অভিযোগ একই। তারা জানান, গত বছরের চেয়ে এ বছর বেশি দামে বই বিক্রি হচ্ছে। সায়েন্স ফিকশন পড়তে পছন্দ করেন বুয়েটের শিক্ষার্থী চন্দন রায়। বই পড়ার নেশা তার ছোট বেলা থেকেই। এ কারণে প্রতিবছরই মেলায় এসে পছন্দের বই কেনেন তিনি। তবে এ বছর বইয়ের দাম তার কাছে কিছুটা বেশি বলে মনে হচ্ছে। তাই অসন্তোষ নিয়েই কিছু বই কিনে মেলা ছেড়েছেন তিনি। চন্দন বলেন, পাঠকের আগ্রহ ধরে রাখতে এবং নতুন পাঠক সৃষ্টির জন্য বইয়ের দাম আরও কমা দরকার। সরকারের বিশেষ নজরদারিও কামনা করেন তিনি। এদিকে ক্রেতাদের অসন্তুষ্টি থাকলেও প্রকাশকদের কিছুই করার নেই বলে জানান একাধিক প্রকাশক-বিক্রেতা। প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান আকাশ প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী আলমগীর সিকদার লোটন বলেন, এখন কাগজ, কালি, মুদ্রণ, বাইন্ডিংসহ সবকিছুর দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই দাম কিছুটা বেড়েছে। ‘অনন্যা’ প্রকাশনীর মিজানুর রহমান জানান, ৫ ফর্মার বই গত বছর ১২০ টাকা বিক্রি করেছি। এ বছর সেই বইয়ের দাম রাখা হচ্ছে ১৫০ টাকা। দাম বাড়ার কারণ জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রতি বছরই কাগজের দাম বাড়ছে। সে সাথে বাড়ছে শ্রমিক মজুরি, ছাপা ও বাইন্ডিং খরচ। সবমিলিয়ে বই তৈরি পর্যন্ত যে খরচ আসে তাতে সামান্য হলেও দাম বাড়াতে হয়। তাই ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও দাম কমানোর সুযোগ থাকছে না। প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ‘ঐতিহ্য’র ব্যবস্থাপক আমজাদ হোসেন খান কাজল বলেন, গত বছরের চেয়ে এ বছর প্রতি রিম কাগজে ৪০০ টাকা বেড়েছে। সেই সাথে প্রতি বছরই বাড়ছে যাতায়াত ভাড়া, প্রেস শ্রমিকদের বেতন, ছাপার কালি ও বাইন্ডিং খরচ। তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই দাম বাড়াচ্ছেন প্রকাশকরা। বই সংশ্লিষ্ট জিনিসের দাম বাড়ার কারণেই নতুন বইয়ের দাম বেড়েছে বলে দাবি করেছেন সময় প্রকাশনের ব্যবস্থাপক আনিছুর রহমান। তিনি জানান, গ্রাম হিসেবে কোনো কোনো কাগজের প্রতি রিমে দাম বেড়েছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। ফলে বইয়ে তার প্রভাব পড়ছে। ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশের বিক্রয়কর্মী অভি বলেন, প্যাভিলিয়নে আসার পর অনেকেই বলছে, দাম বেশি কেন? কাগজের দাম বেড়েছে বলেই বইয়ের দাম বেড়েছে। এদিকে দাম বাড়লেও প্রতিবছরের মতো এ বছরও বেশি বিক্রি হচ্ছে প্রতিষ্ঠিত লেখকদের বই। এ তালিকায় রয়েছেনÑ হুমায়ূন আহমেদ, জাফর ইকবাল, আনিসুল হক, সেলিনা হোসেন, মোস্তাক আহমেদসহ অন্যান্য লেখকরা। এসব নামিদামি লেখকদের পাশাপাশি নতুন লেখকদের বইও কিনছেন তরুণ পাঠকরা। তরুণ লেখকদের মধ্যে বেশি বিক্রি হচ্ছে আয়মান সাদিক ও সাদমান সাদিকের ‘স্টুডেন্ট হ্যাকস’ বইটি। এদিকে অমর একুশে গ্রন্থমেলার ১১তম দিন গতকাল সোমবার নতুন বই এসেছে ৯০টি। এদিন বিকাল ৩টা থেকে শুরু হয়ে মেলা চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকাল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় নৃত্যাচার্য বুলবুল চৌধুরী : জন্মশতবর্ষ শ্রদ্ধাঞ্জলি শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অনুপম হায়াৎ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন আমানুল হক, লুভা নাহিদ চৌধুরী এবং শিবলী মহম্মদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কামাল লোহানী। একই দিন সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় কবি কণ্ঠে কবিতা পাঠ, কবিতা-আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত