শিরোনাম

‘বর্ষার আগেই নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা’

পানিসম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম
প্রিন্ট সংস্করণ॥আসাদুজ্জামান আজম  |  ১৮:৫০, জানুয়ারি ০৯, ২০১৯

আগামী বর্ষার আগেই সারাদেশে নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নতুন উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম এমপি। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে কার্যদিবসের প্রথমদিনে আলাপকালে এমন ঘোষণা দেন তিনি। প্রথম এমপি ও মন্ত্রিপরিষদ সদস্য হিসেবে আপনার চ্যালেঞ্জ কি হতে পারে জানতে চাইলে একেএম এনামুল হক শামীম বলেন, ছোট বেলা থেকেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই বড় হয়েছি। জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি প্রথম, মন্ত্রিপরিষদ সদস্যও হয়েছি প্রথম। স্বৈরাচার এরশাদের সময় জাকসুর ভিপি ছিলাম, স্বৈরাচারী খালেদা জিয়ার সময় ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলাম। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ৩ বার সদস্য হয়ে এখন সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছি। চ্যালেঞ্জ গ্রহণ ও তা মোকাবিলার করার জন্য সবসময় প্রস্তুত থাকি। যখন ছাত্রলীগ করেছি, তখন বিরোধী দলে ছিলাম, সুতরাং চালেঞ্জ মোকাবিলাই ছিল আমার নিত্যসঙ্গী। নিজ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন প্রসঙ্গে উপমন্ত্রী বলেন, আমরা প্রথমেই যে বিষয়টা গুরুত্ব দিয়েছি সেটা হলো নদীভাঙন এলাকা অনেক, বর্ষা চলে আসবে, আর ৩-৪ মাস পরই। বর্ষার আগেই নদীভাঙন এলাকা যেগুলো আছে, আগামী মৌসুমে সেখানে যাতে আর না ভাঙে, সেটার ব্যবস্থা করা। তিনি বলেন, আমি নদীভাঙন এলাকার মানুষ। গত বর্ষায় নড়িয়াতে সাড়ে ৫ হাজার পরিবার নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। সাড়ে ১১শ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। সে কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আমি রোববার মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে সেখানে যাচ্ছি। কাজের অগ্রগতি দেখব এবং বর্ষার আগেই কিভাবে দ্রæততম সময়ে বাস্তবায়ন করা যায়। শুধু নড়িয়া নয়, বাকি যে জায়গাগুলো আছে, এই দুই মাস প্রতিমন্ত্রী মহোদয়, সচিব মহোদয়সহ সফর করবো এবং করণীয় ঠিক করবো। আগামী বর্ষায় যেন বাংলাদেশের নদীগুলো আর না ভাঙে সেটার ব্যবস্থা করা। প্রসঙ্গত, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরীয়তপুর-২ (নড়িয়া-সখিপুর) আসনে নৌকা প্রতীকে ২ লাখ ৭৩ হাজার ১৯২ ভোট পেয়ে রেকর্ড জয় পান একেএম এনামুল হক শামীম। ছাত্রজীবনের শুরু থেকেই ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে পড়েন তিনি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের বিপুল ভোটে ১৯৮৯ সালে তিনি জাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন। ১৯৯০ সালে তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হয়। ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়। ২০০১-২০০৬ সালে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামে সারাদেশের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সংগঠিত করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করেন। ২০০৪ সালের গ্রেনেড হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হয়ে মৃত্যুর সাথে লড়াই করে ফিরে আসেন তিনি। এখনো শরীরে গ্রেনেডের আঘাতের চিহ্ন ও স্প্লিন্টার বয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। ১/১১ এর পরিবর্তিত সময়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার মুক্তি আন্দোলনে অগ্রভাগে ছিলেন তিনি।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত