শিরোনাম

অভিবাসন ব্যয় কমানোই প্রধান লক্ষ্য: ইমরান আহমেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১৯:৫২, জানুয়ারি ০৮, ২০১৯

অভিবাসন ব্যয় কমানোই প্রধান লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেছেন নব নিযুক্ত প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমেদ। প্রবাসীকর্মীরা বৈদেশিক মূদ্রা পাঠাচ্ছেন। তাই তাদেরই গুরুত্ব দিয়েই মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন নতুন এই প্রতিমন্ত্রী। মঙ্গলবার (০৮ জানুয়ারি) বিকালে রাজধানীর ইস্কাটনস্থ প্রবাসীকল্যাণ ভবনের সভাকক্ষে মন্ত্রণালয় ও অধিনস্থ সংস্থা ও সংগঠনের ঊর্ধতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে নবনিযুক্ত প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব রৌনক জাহানের সভাপতিত্বে এতে সাবেক সচিব ও প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান বেগম শামসুন্নাহার, ওয়েজ আর্নার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ডের মহাপরিচালক গাজী মোহাম্মদ জুলহাস, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক সেলিম রেজাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রী এমরান আহমেদের সামনে তুলে ধরেন।

প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমেদ বলেন, প্রবাসীদের কল্যাণের জন্য আমরা কী করেছি এবং কী করবো আগে চিহ্নিত করতে হবে। বিশেষ করে মিডলইস্টে যারা আছে তারা যন্ত্রণায় রয়েছে. তারাই বেশি রেমিটেন্স পাঠায়। তাদের যন্ত্রণা থেকে বাঁচানোর জন্য কী পদক্ষেপ নিয়েছি? যদি না নেয়া হয় তাহলে কী নেয়া যায় তা ভাবতে হবে। টিটিসি সেন্টারগুলোকে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, ভাবতে হবে।

মন্ত্রণালয়ের যেকোনো কর্মকর্তার জন্য প্রতিমন্ত্রীর দরজা খোলা জানিয়ে তিনি বলেন, মাই ডোর অলওয়েস ওপেন। বিশেষ করে এখানকার কর্মকর্তাদের জন্য। তবে বাইরের-ব্যবসায়ী যারা আছেন,... তাদের জন্য বুঝে শুনে দরজা খোলা থাকবে। কিংবা থাকবে কিনা সিদ্ধান্ত নিতে হবে ভেবে। কারণ এই মন্ত্রণালয়ের নামের সাথে কিন্তু... শুধু তো সুনাম থাকে না। দুর্নামও থাকে। ৩২ বছরের রাজনীতিতে মোটামুটি ক্লিন ইমেজে পার করেছি। বাকি সময়ে কোনো দিকে কালিমা লাগাতে দেবো না।

অতীতের নাম, বদনাম বা দুর্নাম থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আর বেরিয়ে আসতে পারলে কোনো সমস্যা আর থাকবে না, সমাধান হয়ে যাবে। যদি আইন পরিবর্তন করতে হয়, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে হয় বলব।

ইমরান আহমেদ বলেন, সবচেয়ে বড় টার্গেট অভিবাসন ব্যয় কমানো। বৈদেশিক মুদ্রা যারা আনেন ওই প্রবাসীরাই যদি আমাদের এক নম্বর টার্গেট হয়, বিজনেস ম্যানরা তো আমার টার্গেট না। টার্গেট হলো প্রবাসীরা।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে জনশক্তি বিটে কাজ করা সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় করেন প্রতিমন্ত্রী। এসময় বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি। প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে দায়িত্ব দিয়েছেন, তার অনেক স্বপ্ন নিয়ে দায়িত্ব দিয়েছেন। মন্ত্রী হিসেবে এটা বাস্তবায়ন করবো। এটা টিম ছাড়া সম্ভব না। যে টিম দেখলাম, গ্রেট টিম। প্রথম টার্গেট হলো দক্ষ মানবসম্পদ রপ্তানি করা। ট্রেনিং ফ্যাসিলিটিজ, ক্যাপাসিটি ডেভেলপ খুবই জরুরি। প্রথমে ট্রেইনার্স ট্রেইন করে ফ্যাসিলিটিজ বিল্ডাপ করব। আমাদের যে নির্বাচনি ইশতেহার সেটা বাস্তবায়নের চেষ্টা করবো।

প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় নিয়ে অতীতে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি রয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত নতুন প্রতিমন্ত্রীর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনিয়ম হলে অ্যাকশন হবে। অতীতে কী হয়েছে এটা আমার বিষয় না। আগামীতে কী হবে ওটা আমার বিষয়। এই মন্ত্রণালয়কে যদি আজ থেকে ধরেন ৬ মাস পরে জাজমেন্ট (বিচার) করবেন। অতীত দিয়ে জাজমেন্ট করবেন না।

অভিবাসন ব্যয় কমানো প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে ইমরান আহমেদ বলেন, অভিবাসন ব্যয় কমানোর জন্য ইতোমধ্যে সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা হয়েছে। এটাই হলো প্রধান টার্গেট আমাদের।  শ্রমিক হিসেবে বিদেশ যাওয়াদের হিসাব থাকলেও ফিরে আসাদের পরিসংখ্যান নেই প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে। বিদেশ ফেরতদের ডাটাবেজ তৈরি করা হবে কিনা জানতে চাইলে প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদেশে যাওয়া মানুষের যদি রেকর্ড থাকে, ফেরার মানুষের রেকর্ড থাকবে না কেন? যারা বিদেশ যাচ্ছে তাদের অফিসিয়াল আইডি কার্ড আছে, স্মার্টকার্ড আছে। সব বাদ দিলাম, পাসপোর্ট নিয়ে তো তারা বিদেশ যায়। পাসপোর্ট স্ক্যানিং করেও তো হিসাব রাখা যায়। বিমানবন্দরে যদি মন্ত্রণালয়ের একটা কাউন্টার থাকে আর যারা ফিরছে তারা যদি জানে রেজিস্ট্রি করলে বেনিফিট আছে। তাহলে তারা নিজেরাই নিজের নাম তালিকাবদ্ধ করবে। এটা করা তো অসম্ভব কিছু দেখি না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত