শিরোনাম

শাহজালালে দুর্ঘটনা মোকাবেলায় মহড়া অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১৮:৪২, নভেম্বর ১৫, ২০১৮

ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করতে গিয়ে উড়োজাহাজ এবিসি ০০১ সিঙ্গাপুর থেকে ১০০ যাত্রী নিয়ে ক্রাশ হয়ে রানওয়ে থেকে দক্ষিণ পাশে ছিটকে পড়ে।

এরপর ওই যাত্রীবাহী বিমানটিতে হঠাৎ আগুন ধরে যায়। সেই আগুন ক্রমশই মারাত্মক হয়ে দাঁউ দাঁউ করে জ্বলতে থাকে। হঠাৎ উড়োজাহজে আগুন লেগে যাওয়ায় দগ্ধ যাত্রীরা ডাক চিৎকার করতে থাকে।

আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলালচল সংস্থা (আইকাও) নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতি দুই বছরে একবার জরুরী দুর্যোগ মোকাবেলায় মহড়া অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (১৫নভেম্বর) দুপুরে উড়োজাহাজ সদৃশ্যবস্থাতে আগুন দিয়ে এই মহড়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

বিমান দুঘটনা মোকাবেলা মহড়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন-বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী একেএম শাহজাহান কামাল। এছাড়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মুহিবুল হক।

একেএম শাহজাহান কামাল বলেন, ‘আওকাও নিয়মানুযায়ী প্রতি দুই বছর পর পর এই মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। সেই আলোকেই আজকে এই মহড়া হয়েছে। আমি আশা করি আওকাও নিয়ম দেশের অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও এই মহড়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মুহিবুল হক বলেন, বিমান দুর্ঘটনা কেউ চায় না, কিন্তু হঠাৎ করে এটি ঘটে যায়। এ কারণে দুর্ঘটনা পরিস্থিতি পরবর্তী মোকাবিলা কীভাবে করব তার জন্য প্রস্ততি নেয়া প্রয়োজন। আর নেপালের কাঠমন্ডু বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দুর্ঘটনা মোকাবিলায় যদি যথেষ্ট প্রস্ততি থাকত, তাহলে ইউএস-বাংলা উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় এত মানুষের প্রাণহানি ঘটতো না বলে জানান তিনি।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম নাইম হাসান বলেন, এই মহড়া অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সকলের সাথে কো-অর্ডিনেশন রক্ষা করা। কোনো দুর্ঘটনা হলে তাৎক্ষণিকভাবে এম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস কোনো পথ দিয়ে বিমানবন্দরে ঢুকবে বা কীভাবে কাজ করবে, তার ধারণা পাবে।

মহড়ার সময় উড়োজাহাজটি ক্রাশ হওয়ার সাথে সাথেই এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) থেকে ফায়ার সার্ভিসকে জরুরী ভিত্তিতে জানানো হয়। মুহূর্তের মধ্যে বিমানবন্দর ফায়ার সার্ভিস শাখার ৩টি গাড়ি, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ফায়ার গাড়ি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, নৌ-বাহিনীর এম্বুলেন্স, সরকারি বেসরকারি হাসপাতালের রোগি ও লাশ বহনকারী এ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে থাকে।

ফায়ার সার্ভিস টিমগুলো আগুন নেভাতে দ্রুতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। আর চিকিৎসকরা গুরুতর আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাৎক্ষণিক এ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালের দিকে নেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া গুরুতর আহত দুইজনকে তাৎক্ষণিকভাবে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টরে করে চিকিৎসার জন্য চিএমএইচ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে, এ ঘটনা বাস্তব নয়। এটি ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় মহড়ার দৃশ্যমাত্র।

মহড়ার অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-সোমরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী একেএম শাহজাহান কামাল, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মুহিবুল হক,বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম নাইম হাসান সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য উধ্বতন অফিসারগনরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত