শিরোনাম

‘হাতুড়ির স্থান পেরেকের ওপর ছাত্রের ওপর নয়’

প্রিন্ট সংস্করণ॥ঢাবি প্রতিনিধি  |  ০০:৩৬, জুলাই ১২, ২০১৮

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ও নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। গতকাল বুধবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মোকাররম ভবন এলাকায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কোটা সংস্কার আন্দোলনে হামলায় গুরুতর আহত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থী তরিকুল ইসলাম তারিক। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে লিখেছেন, ‘হাতুড়ির স্থান পেরেকের ওপর, ছাত্রের ওপর নয়’।মনববন্ধনে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন, অধ্যাপক ফাহমিদুল হক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানজিম উদ্দিন খানসহ বিভিন্ন বিভাগের প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। অধ্যাপক ফাহমিদুল হক বলেন, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলন অনেক দিন হলো চলছিল। এটা ছিলো ছাত্রদের আন্দোলন। আমরা এ আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে তখনি পাশে দাঁড়িয়েছি, যখন ছাত্রদের ওপর হামলা হয়েছে। আমরা সচেতনভাবে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছি। আমরা দেখছি, যাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। তাদের রিমান্ডে নিয়ে অত্যাচার করা হচ্ছে। যারা নিপীড়ক, তারা সবাই চিহ্নিত কিন্তু তাদের বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে না।’সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক সামিনা লুৎফা বলেন, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলন সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীত ঐতিহ্য ছাত্রদের আন্দোলন করার জন্য প্রেরণা দিচ্ছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ই আমাদের প্রতিবাদ করতে শিখিয়েছে। বাংলাদেশ রাষ্ট্র ভুল করতে পারে, কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষকরা ভুল করতে পারে না।’ছাত্রলীগকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যখন ঘোষণা দিলেন কোটা থাকবে না, তখন আপনারা আনন্দ মিছিল করলেন। বললেন আপনারা আগে ছাত্র পরে লীগ। কিন্তু যখন ছাত্ররা প্রজ্ঞাপনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করতে গেলো তখনি হাতুড়ি দিয়ে হামলা চালালেন।’

জঙ্গি ইস্যুতে ছেলেখেলা করছেন ঢাবি ভিসি: নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীরা
কোটা আন্দোলনে জঙ্গিবাদের ছায়া খুঁজে পান’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আখতারুজ্জামানের দেওয়া এমন বক্তব্য প্রত্যাখান করে নিপীড়ন বিরোধী শিক্ষার্থীরা বলেছেন, জঙ্গিবাদের মতো আন্তর্জাতিক সমস্যাকে তিনি ছেলেখেলা হিসেবে উপস্থাপন করছেন।গতকাল বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মধুর কান্টিনে নিপীড়ন বিরোধী শিক্ষার্থীবৃন্দ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য অরণী সেমন্তী খান।তিনি বলেন, জাতি হিসাবে যে সমস্যা আমারা অভ্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে মোকাবেল করেছি তিনি সেটিকেই হেয়জ্ঞান করেছেন। এই দায়সার বক্তব্যের জন্য তিনি সামাজিক চাপে পড়ে অবশেষে দু:খ প্রকাশও করছেন। আমরাও দু:খিত তার মতো এমন ভিসি পেয়ে।কোটা আন্দোলন নিয়ে তিনি বলেন, কোটা আন্দোলনের মতো অহিংস আস্থিতিশীলতা দেখেন জঙ্গিবাদের ছায়া দেখেন, রাতে হলে মেয়েদের চেঁচামেচির আওয়াজ শুনতে পান। কিন্ত ছাত্রলীগের রড় লাঠি, ছুরি চাপাতি, পিস্তল-হাতুড়ি দেখেন না। সংবাদ সস্মেলনে আরও বেশ কিছু দাবি তুলে ধরা হয়।

দাবিগুলো হলো : কোটা আন্দোলন ও ক্যাম্পাসের নিরাপত্তারর দাবি করা সেসকল শিক্ষার্থী গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।হামলা আহত প্রত্যেক শিক্ষার্থীর চিকিৎসা রাষ্ট্র নিতে হবে। অসিংহ আন্দোলনে যারা হামলা করছে তাদের চিহৃত করে বিচারের আওয়াত নিতে হবে।কোন শিক্ষার্থীদের জোর করে সাংগঠনিক কর্মসূচিতে যোগদানে বাধ্য করা যাবে না।পাশাপাশি কোন ছাত্র স্বেচ্ছোয় কোনো অহিংস আন্দোললনে যোগ দিলে তাকে হলের ভেতরে যেকোন অত্যাচার বা নিগ্রহের হাত থেকে হল প্রশাসনকে সুরক্ষা দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন প্রশাসক তার উপরে প্রদত্ত দায়িত্ব পালন না করে নিপীড়নমূলক অবস্থান নিলে তাকে অপনারণ করতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত