শিরোনাম

ওরা আমার শরীরের কোথায় হাত দিয়েছে শুনতে চান?

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১৮:২৭, জুলাই ০৫, ২০১৮

সরকারি চাকরির কোটা সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম-আহ্বায়ক ফারুক হাসানকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে ছাত্রলীগের হামলা থেকে বাঁচাতে গিয়ে নিজেই নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী মরিয়ম মান্নান।বৃহস্পতিবার (০৫জুলাই) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের সামনে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে একটি কর্মসূচীতে অংশ নিতে আমি সেদিন সোমবার (০২ জুলাই) শহীদ মিনারে গিয়েছিলাম। এর আগে আমি ফারুক ভাইকে ব্যক্তিগতভাবে চিনতাম না। এসে দেখি কিছু লোক ফারুক ভাইকে প্রচুর মারছে। তখন এ দৃশ্য দেখে আমি ফারুক ভাইকে বাঁচাতে এগিয়ে যাই।’ “তারা ভাইকে এমনভাবে মারছে, তা দেখে শুধু আমি না, যে কেউ এগিয়ে যাবে। তারপর আমি ফারুক ভাইকে একটি রিক্সায় তুলতে চাইলে ছাত্রলীগের নেতারা ফারুক ভাইকে মেরে একটি মোটরসাইকেলে করে তুলে নিয়ে যায়।”

মরিয়ম আরও বলেন, তারপর তারা আমাকে ধরে নিয়ে আমার শরীরের কোন কোন জায়গায় হাত দিছে তা আপনারা শুনতে চান? আপনারা আমাকে সিমপ্যাথি দেখাতে আসবেন না। সিমপ্যাথি নেওয়ার মেয়ে আমি না। আমি ইনটেনশনালি এই আন্দোলনে এসেছি। “অ্যাজ এ হিউম্যান, আমার কিছু রাইটস আছে। যদি আমার কোনো অন্যায় হয়ে থাকে, তাহলে পুলিশ আমাকে ধরে নিয়ে যেতে পারতো। আমাকে কোর্টে চালান করে দিতে পারতো। কিন্তু বাহিরের ছেলেরা কেন আমাকে তুলে নিয়ে যাবে। কেন তারা আমার গায়ে টাচ করবে? এটা শুনতে ইচ্ছা করছে আপনাদের?”

মরিয়ম বলেন, যখন আমাকে তুলে সিএনজির ভিতরে করে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন সিএনজির প্রত্যেকটা মূহূর্ত ছিল আমার কাছে জাহান্নাম। পরে আমি ভাবছি হয়তো থানায় গেলে আমি সেইভ থাকবো। কিন্তু না, থানা ছিল আমার জন্য সেকেন্ড জাহান্নাম। ওরা আমার সাথে খুব বাজে ব্যবহার করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ যুগ্ম-আহ্বায়ক আফসানা সাফা ইমু বলেন, আমরা যৌক্তিক একটি আন্দোলন করছি। কিন্তু সেই আন্দোলনে ছাত্রলীগ হামলা করে। যারা হামলা করেছে তাদের আটক না করে যারা অপরাধ করেনি তাদের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আটকদের মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত আমরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করবো। তাদের জেলে রেখে আমরা ক্লাসে যাব না।

উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্রী শেখ মৌসুমী বলেন, যৌক্তিক আন্দোলনে অংশ নিয়ে রাশেদ রিমান্ডে, নূর হাসপাতালে, ফারুক কারাগারে এ অবস্থায় আমরা ক্লাসে অংশ নিতে পারি না। তাদের মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত আমরা ক্লাসে ফিরবো না।

আজকে আমরা যখন বিক্ষোভ করে গ্রন্থাগারের সামনে আসি সেখানে অনেক ছেলে আমাদের কটূক্তি করেছে। আমরা ক্যাম্পাসে নিরাপদ থাকতে চাই। কোনো ধরনের হামলা চাই না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও প্রক্টরকে নিরাপত্তা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মৌসুমী বলেন, আজ মিছিল নিয়ে বের হওয়ার সময় লাইব্রেরির সামনে আমাদের হয়রানি করা হয়েছে। আমাদের নিয়ে কটূক্তি করা হয়েছে। আমাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে এ ধরনের হয়রানি সত্যিই আশ্চর্যজনক। আমরা ক্যাম্পাসে নিরাপদ থাকতে চাই। কোনো ধরনের হামলা চাই না। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাব্যবস্থা করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও প্রক্টরের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, গত সোমবার শহীদ মিনারে ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদ জানাতে পূর্বঘোষিত কর্মসূচী অনুযায়ী আন্দোলনকারীরা সেখানে জড়ো হতে চেষ্টা করলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বলে আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন। এসময় ঘটনাস্থল থেকে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক ফারুক হাসানকে কিল, লাথি, ঘুষি দিয়ে তুলে নিয়ে শাহবাগ থানায় পুলিশকে সোপর্দ করা হয়। তখন আন্দোলনকারী মরিয়ম ফারুককে বাঁচাতে গেলে তাকেও তুলে নিয়ে নির্যাতন করে ছাত্রলীগ কর্মীরা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত