শিরোনাম

ডিআইজি হাবিবুর রহমান জনবান্ধব পুলিশের অনন্য পথিকৃৎ

প্রিন্ট সংস্করণ॥নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ০০:১৯, জুলাই ০৫, ২০১৮

জনবান্ধব পুলিশ। ‘জনতাই পুলিশ, পুলিশই জনতা’ স্লোগানধর্মী প্রতিপাদ্য। বলাবাহুল্য, পুলিশ ও জনগণের সম্পর্ক পরিপূরক। কখনো কেউ বলে, পুলিশও মানুষ। যেন পুলিশ মানুষই নয়! পুলিশ নিয়ে আজো অনেকের ধারণা নেতিবাচক। রাজনীতি বা গণমাধ্যম পুলিশকে ইতিবাচক বিশ্লেষণ করে খুব কমই। কিন্তু আজকের বাংলাদেশে পুলিশ আধুনিক। সেটা শুধু কর্মপরিধিতে নয়। সৃজনশীলতা ও মননশীলতার দিক থেকেও এখন বহুমাত্রিক দৃষ্টান্ত। পুলিশ এখন উপসংহার নয়, উদাহরণের গল্প।সিনেমার গল্প, চরিত্রের মতো কাল্পনিক নয়, বাস্তব হিরো। তেমনি একজন নায়ক হাবিবুর রহমান বিপিএম (বার), পিপিএম। পুলিশ সদর দপ্তরের নতুন ডিআইজি। একজন পেশাদার ও সফল পুলিশ কর্মকর্তা। পুলিশি গুরুদায়িত্ব পালনে সাফল্যের স্বীকৃতি ছাড়াও মানুষের জন্য কাজ করা ব্যতিক্রমধর্মী চিন্তা ও অনবদ্য ভূমিকা তাকে দিয়েছে বিশেষ খ্যাতি। জনবান্ধব পুলিশের এক অনন্য পথিকৃৎ। জনমনে প্রশংসিত এক কিংবদন্তি।ডিআইজি হাবিবুর রহমান পুলিশবাহিনীর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন তার মানবিক মূল্যবোধ, প্রজ্ঞা ও সমাজকল্যাণকর উদ্যোগের মাধ্যমে। তার উদ্যোগ মানবকল্যাণে অনন্য দৃষ্টান্ত রেখেছে। মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে গড়ে তুলেছেন উত্তরণ ফাউন্ডেশন। অপরাধমুক্ত সমাজ বিনির্মাণে পুলিশি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হাবিবুর রহমান তার মেধা, মনন ও আন্তরিকতা দিয়ে সমাজ বিশ্লেষণ করেছেন। অপরাধ সীমান্তে বসবাসরত অনগ্রসর বিশেষ মহলের অন্ধকার জীবনধারার সামনে সূচনা করেছেন আলোকিত পথ। তাদের করেছেন আলোর পথযাত্রী। নিজে হয়েছেন আলোকবর্তিকা। ডিআইজি ও উত্তরণ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান স্বকীয় প্রচেষ্টায় পুলিশ সম্পর্কে সমাজের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিকে পাল্টে দিয়েছেন। প্রশংসিত করেছেন সমকালীন পুলিশের প্রবণতা ও উদ্যমকে। পুলিশের জনকল্যাণধর্মী ভূমিকার অন্যতম আইকন ডিআইজি হাবিবুর রহমান হয়ে উঠেছেন রোল মডেল। ডিআইজি হাবিবুর রহমান ‘পুলিশ জনগণের বন্ধু’ এই প্রবাদের সার্থকতাকে তিনি শতভাগ প্রতিপন্ন করেছেন তার পুলিশি ভূমিকায়। যে ভূমিকার গল্প কিংবদন্তি হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে দেশজুড়ে। পুলিশ পারে, একথা উদাহরণসহ সত্য। সমাজ পরিবর্তনে, মানুষের কল্যাণে, মানবতার স্বার্থে পুলিশের কার্যকর ভূমিকায় ব্যতিক্রমধর্মী অবদান রেখে চলেছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে আসছে তার অনন্য সাফল্যগাঁথা। যেসব এলাকায়, যে জনগোষ্ঠীর মধ্যে তিনি পরশপাথর হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন, সেখানে তিনি রোল মডেল হিসেবে পেয়েছেন জনমানুষের আকাশছোঁয়া ভালোবাসা। জনপ্রিয়তা, খ্যাতি, আস্থায় ডিআইজি হাবিবুর রহমানের নাম ভূমিকা এখন পুলিশবাহিনীরই গর্ব। যে সাফল্যের গল্প এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশে পুলিশের সমকালীন জনবান্ধব নীতির উপাখ্যান। যেখানে পুলিশের উদ্যমী ও উদ্ভাবনী ভূমিকায় পশ্চাদপদ বেদে জনগোষ্ঠীর জীবনধারা পাল্টে গেছে। বেদেপল্লিতে লেগেছে দিনবদলের ছোঁয়া। প্রমাণ হয়েছে, পুলিশ চাইলে বদলে দিতে পারে উন্নয়নবঞ্চিত, অবহেলিত সমাজ বাস্তবতা। শুধু তাই নয়, অনগ্রসর সমাজের নারী উন্নয়নে তাদের আত্মবিশ্বাস বিকাশে, কর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তোলার মতো মানবকল্যাণবাদী ভূমিকাকে পুলিশ কাজ করে দেখিয়েছে সমাজ পরিবর্তনেও পুলিশের অবদান অনুসরণীয়। বিশেষ করে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের জীবনবোধ ও জীবনমানের উন্নয়নে পুলিশ যে দৃষ্টান্ত রেখেছে তা পথিকৃতের।বর্তমানে পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি হাবিবুর রহমান তার বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে যে সাফল্যধারার সূচনা করেছেন তা এক মাইলফলক হিসেবে মূল্যায়িত হচ্ছে। যার সূত্রপাত হয়েছিল কয়েক বছর আগে। যখন তিনি ঢাকার পুলিশ সুপার (এসপি) এবং তারপর পুলিশ সদর দপ্তরে অতিরিক্ত ডিআইজি পদে কর্মরত থাকার সময়। গোপালগঞ্জের চন্দ্রদীঘলিয়া গ্রামের মানুষ, কৃতী সন্তান হাবিবুর রহমান। বাবার নাম আব্দুল আলী। মুক্তিযুদ্ধের সুমহান চেতনার অনুসারী। ১৯৯৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ১৭তম বিসিএস ক্যাডার হিসেবে সহকারী পুলিশ সুপার  (এএসপি) পদে যোগদান করেন। ২০০০ সালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে যোগ দেন। ২০০১ সালে পদায়ন হন আরএমপিতে সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে। জাতিসংঘ শান্তিমিশন শেষে ২০০৯ সালে ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার এবং ২০১১ সালে ঢাকার পুলিশ সুপার (এসপি) হন হাবিবুর রহমান। পরবর্তীতে পুলিশ সদর দপ্তরে যোগ দেন অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি পেয়ে। সবশেষ বর্তমানে রয়েছেন পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি হিসেবে। ডিআইজি হাবিবুর রহমানের একক প্রচেষ্টায় রাজারবাগ পুলিশ লাইনে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘পুলিশ মুক্তিযুদ্ধের জাদুঘর’। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দায়বদ্ধতা থেকেই তার এই উদ্যোগ। যা এক ঐতিহাসিক স্থাপনা। আলোকিত এ পুলিশ কর্মকর্তার চিন্তা-চেতনায় রয়েছে তার পিতার প্রভাব। যিনি তাকে মানুষ নিয়ে ভাবতে শিখিয়েছিলেন। বলেছিলেন- সব মানুষকে সমানভাবে দেখতে হবে, তাহলেই মানুষে মানুষে ভেদাভেদ কমে যাবে। বাবার শিক্ষার প্রতিফলন হিসেবে তার কাছে গুরুত্ব পেয়েছে বেদে সম্প্রদায়, হিজড়া বা তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ বা দরিদ্র শ্রেণির মানুষ। যাদের নিয়ে তিনি কাজ করেছেন স্বীয় পেশাগত বলয় থেকেও। যে কাজ সমাজ উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছে এবং সমাজে সাড়া জাগিয়েছে। যার দৃষ্টান্ত হয়ে আছে রাজধানীতে, সাভারে, রাজারবাগে বা আশুলিয়ায়। একইসঙ্গে বেদে সম্প্রদায় ও হিজড়াদের মধ্যেও।
পর্যবেক্ষক মহলের মতে, একজন পুলিশ কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান সমাজ উন্নয়নে যে মাইলফলক দৃষ্টান্ত রেখেছেন তা সম্ভব হয়েছে তার সৃজনকুশল ও মননশীলতার সুবাদে। ইদানিং পুলিশের মধ্যে দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী বিভিন্ন ইতিবাচক উদ্যোগ বাস্তবায়নের প্রবণতা দেখা যায়। হাবিবুর রহমানের উদ্যোগটি সেক্ষেত্রে অনন্য-অসাধারণ। যিনি তার নিজস্ব মূল্যবোধে উদ্দীপ্ত এবং বিশ্বাস করেন মানুষ মানুষের জন্য। তাই স্বীয় আন্তরিক প্রচেষ্টায় তিনি সমাজ বাস্তবতায় বহুমাত্রিক পরিবর্তনের সফল রূপকার হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেছেন। পুলিশি ভূমিকা হিসেবে যা সমাজ-মানুষের মধ্যে এক বিস্ময়কর নীরব বিপ্লব সূচনা করেছে। তিনি প্রমাণ করেছেন, মানুষের আন্তরিক প্রচেষ্টায় বদলে যেতে পারে অনুন্নত জনপদ, পাল্টে যেতে পারে একটি জনপদের জীবনযাত্রার চেহারা। যুগযুগ ধরে বঞ্চিত মানুষ ঘুরে দাঁড়াতে পারে, নারী ও যুবসমাজ স্বাবলম্বী হয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে। সমাজ থেকে কুসংস্কারের অন্ধকার দূর হয়ে সূত্রপাত হতে পারে নতুন পথযাত্রা। সমাজ থেকে অন্যায়, অবিচার, অপরাধ, দুর্নীতি দূর করে শান্তি-শৃঙ্খলা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা ও অগ্রযাত্রা দূর করতে যা হতে পারে দূরদৃষ্টি সম্পন্ন প্রতিশ্রুতি। ডিআইজি হাবিবুর রহমান যখন ঢাকার পুলিশ সুপার (এসপি) তখনই সমাজ থেকে অপরাধ দূর করতে গিয়ে তিনি অনুধাবন করেন- সামাজিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সমস্যার গভীরে রয়েছে বিদ্যমান এক বাস্তবতা। যা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নৈতিকতা ও আর্থিক অসঙ্গতির বেড়াজালে বন্দি। বঞ্চনা, উপেক্ষা, অবহেলায় স্বয়ংক্রিয় অসুস্থ সমাজকে শুধু আইনি পদক্ষেপে সুস্থ করা সম্ভব নয়, তাদের সুপথে আনতে হলে কঠিন ও দীর্ঘ সময় ধরে সমাজ উন্নয়ন ও মানবিক কল্যাণের পথে নিবিড় প্রয়াস প্রয়োজন। সেই চিন্তাধারা থেকেই তিনি কাজ শুরু করেন। সমাজ বিশেষজ্ঞদের মতে, বেদে ও হিজড়া সমাজকে অপরাধমুক্ত করতে ডিআইজি হাবিবুর রহমানের উদ্যোগ সফল হয়েছে। এক্ষেত্রে একজন পুলিশ কর্মকর্তার চিন্তার রূপায়ণ মূলত একটি দর্শন। যা মানবিক কল্যাণে পুলিশের ভূমিকার সাফল্য ও গুরুত্বকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। সমাজ সংস্কারক হিসেবেও তার ভূমিকা মূল্যায়নযোগ্য। ঢাকার পুলিশ সুপার (এসপি) থাকাকালে হাবিবুর রহমান সাভার এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে প্রথমে সমস্যাটি বিবেচনায় নেন। সামাজিক অস্থিরতা ও মাদকের ভয়াবহতা থেকে সংঘাতময় পরিস্থিতিতে সাভারের বেদেপল্লির বেদে সম্প্রদায়ের সম্পৃক্ততা পুলিশের অভিযানের সামনে এক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেয়। সার্বিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে হাবিবুর রহমান এই সংকট নিরসনে কার্যক্রম হাতে নেন।সাভারের অমরপুর, পোড়াবাড়ি, কাঞ্চনপুরসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রায় ২০ হাজার বেদে পরিবারের বসবাস। এই বেদেপল্লিতে হাত বাড়ালেই ইয়াবা, ফেনসিডিল। মাদক বাণিজ্যে জড়িত বেদেরা চট্টগ্রামে সাপের খেলা দেখাতে গিয়ে ফেরার পথে মাদকদ্রব্য নিয়ে ফেরে। মাদকের ছোবলে সমাজ ক্ষতবিক্ষত হয়। মরণ নেশা ইয়াবার বিস্তার প্রতিরোধে পুলিশ বেদেদের পেশার নেপথ্যের প্রবণতা রোধে তাদের জন্য নতুন পেশার কথা বিবেচনা করে। কাজটি সহজ ছিল না মোটেও। কেননা বেদে জীবনের সমস্যা বিচিত্র। নৌকায় বসবাস, ভাসমান জীবন, ছিন্নমূল, লেখাপড়া নেই, কর্মসংস্থান নেই, কর্ম উদ্যোগের অভাব, অলস জীবনযাপন, প্রতারণামূলক ধান্ধা, সাপের খেলা, শিঙ্গা লাগানো, তাবিজ কবজ এসব পেশার সাথে রয়েছে সামাজিক বৈষম্য। এমনকি মৃত্যুর পর কবরের ব্যবস্থাও নেই। এ অবস্থায় সাভারের বেদেপল্লিতে তাদের বাসস্থান গড়ে উঠলেও জীবনমান অনুন্নত। বেদেসমাজ উন্নয়নে প্রথমে তাদের ছেলে-মেয়েদের স্কুলে ভর্তির ব্যবস্থা, কবর সমস্যার সমাধান করা হয়। পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের জন্য আলাদা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, তাদের প্রশিক্ষণ, পুঁজি ইত্যাদির ব্যবস্থা নেওয়া হয়। হাবিবুর রহমানের উদ্যোগের সঙ্গে হাত মেলান সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ। পুলিশ ও জনগণ মিলে এলাকার অনগ্রসর একটি জনগোষ্ঠীকে বিকল্প কর্মসংস্থানের মাধ্যমে নতুন গতিপথে চালিত করে। আর এভাবেই মাদক বাণিজ্য ও অপরাধ জগত থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়। একজন এসপি হাবিবুর রহমান সাভারের বেদেপল্লিতে পরিবর্তন আনতে গিয়ে যে মানবিক আবেদন নিয়ে কাজ করেন তা বেদে জনগোষ্ঠীর কাছে তার জনপ্রিয়তাকে বিশেষ মর্যাদায় উন্নীত করে। তিনি হয়ে ওঠেন তাদের আপনজন, কাছের মানুষ। শতাধিকের ওপর বেদে মহিলার কর্মসংস্থানের জন্য সেলাই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। বেদে নারীদের তৈরি করা পোশাকের বাজারেরও ব্যবস্থা করা হয়। এসপির উদ্যোগটিকে স্বাগত জানিয়ে বেদে মেয়েদের পাশে এগিয়ে আসেন তৈরি পোশাক প্রতিষ্ঠানের এক কর্ণধার নাজনীন বেগম। আশুলিয়ার ফ্যান্টাসি কিংডমের সামনে চালু করা হয় শো রুম। উত্তরণ বুটিকস। বেদে নারীদের উত্তরণের আনুষ্ঠানিক ধাপ সেটি। অন্যদিকে, ৩৫ বেদে যুবককে সাপ খেলার বদলে গাড়ি চালানোর পেশায় নামানো হয়। এজন্য তাদের জন্য ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। মহাখালি ও উত্তরায় ব্র্যাক সেন্টারে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ব্র্যাক এক্ষেত্রে সহায়তা দেয়। প্রশিক্ষণ শেষে লাইসেন্স নিয়ে এসব বেদে যুবক গাড়ি চালানোকেই এখন পেশা হিসেবে নিয়েছে। সাভারের বেদে সম্প্রদায় বংশ পরম্পরায় পেশা বদলে এখন জীবন জীবিকার প্রয়োজনে নতুন পেশায় নেমেছে। নতুন জীবনের হাতছানি তাদের সামনে। বদলে যাচ্ছে সময়। সেই সাথে জীবনমান। যে হাতে এক সময় থাকতো কালকেউটে, কালনাগিনী আজ সেই হাতে থাকছে গাড়ির স্টিয়ারিং। এগিয়ে যাচ্ছে সাভারের বেদেসমাজ। একসময় যে বেদের মেয়ে জোসনারা সাপ নাচাতো, এখন সেই নাগিন ডান্সের বদলে সুই-সুতোর নিপুণ সেলাইয়ে জীবনের নয়া জাগরণ। শিক্ষাদীক্ষায় এগিয়ে যাচ্ছে বেদে প্রজন্ম। পুনর্বাসনের উদ্যোগের ধারাবাহিক কর্মসূচি, তাদের জীবনকে অর্থবহ করে তুলেছে। নাগরিক মর্যাদা, সুযোগ-সুবিধা তাদের সামনে সম্ভাবনার নয়া দিগন্তের সূচনা করেছে। একসময় যে জীবনে ছিলো মাদকের আগ্রাসন, দ্বন্দ্ব, টানাপড়েন, এখন সেখানে নীতি- নৈতিকতার অভ্যুদয়। জীবন হয়ে উঠছে সুন্দর। বাল্যবিবাহসহ সামাজিক অনাচার-কুসংস্কার থেকে বেরিয়ে এসে বেদেসমাজ এখন সার্বক্ষণিক কর্মব্যস্ত। তারা এখন সচেতন।সাভারে একসময় ছিল সাপের হাট। এখন সাপুড়েদের আনন্দ উন্নত জীবনবোধে। সম্মানজনক জীবিকা, স্বাভাবিক দিন যাপনে অভ্যস্ত হয়ে ওঠা বেদেসমাজের জীবনধারা পাল্টে দিতে পুলিশবাহিনীর উদ্যোগ ও সহায়তা ফলপ্রসূ হয়েছে। যা ভবিষ্যতে সারা দেশে ভাসমান জীবনের উন্নয়নে পথিকৃৎ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আর ডিআইজি হাবিবুর রহমানকে এক্ষেত্রে ‘আইকন’ হিসেবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। যিনি পুলিশি দক্ষতায় সমাজ পরিবর্তনে কাজ করে যাচ্ছেন। সাভারের বেদেপল্লি। অশিক্ষা আর কুসংস্কারের অন্ধকারাচ্ছন্ন এক জনবসতি। মাদকসহ নানা অপরাধ, অনিয়মে জর্জরিত। সমাজে বাল্যবিয়েই নিয়ম। একটি অনুন্নত সমাজে সেটি অস্বাভাবিকও নয়। তেমনি একটি বাল্যবিয়ের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছিলেন সেই সময়ের এসপি হাবিবুর রহমান। বাল্যবিয়ে বন্ধ করে ছেলে ও মেয়েপক্ষকে বাল্যবিয়ের কুফল সম্পর্কে বোঝাতে সক্ষম হন। তার কথা মেনে নেন উভয় পরিবার। তিন বছর পর। যখন ছেলে মেয়ে প্রাপ্ত বয়স্ক। তখন তাদের বিয়ের সার্বিক দায়িত্ব বহন করেন সেই পুলিশ কর্মকর্তাই। বেদেপল্লিতে একদিনেই তিন জোড়া তরুণ-তরুণীর বিয়ে উৎসব। ব্যাপক আয়োজন। মজিরন আক্তার, মাছেনা ও লিমা বিবির বিয়েকে ঘিরে বেদে সম্প্রদায় বাল্যবিয়েমুক্ত সমাজ চেতনার দিকে এগিয়ে যায়। কথা দিয়ে কথা রেখে আরেকবার উজ্জ্বল এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন দেশপ্রেমিক পুলিশবাহিনীর চৌকস কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান। হিজড়া বা তৃতীয় লিঙ্গের জীবন বদলে দেওয়ার কাণ্ডারিও হাবিবুর রহমান। পুলিশের এই ডিআইজি বেদেদের মতোই হিজড়াদের জীবন-মান উন্নয়নে গড়ে তোলেন তিনটি বিউটি পার্লার। মাস কয়েক আগে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের আত্মবিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে দিতে নিয়ে আসা হয় বিশ্বখ্যাত হেয়ার স্পেশালিস্ট জাভেদ হাবিবকে। এতে করে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষরা নতুন উন্মাদনায় মেতে ওঠে। সমাজের পিছিয়েপড়া এই জনগোষ্ঠীকে হাতে-কলমে শিক্ষা দেন তিনি। গত ঈদুল ফিতরে তৃতীয় লিঙ্গের প্রায় চার শতাধিক মানুষের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণের সময় ডিআইজি হাবিবুর রহমান বলেন, আমরা ইতোমধ্যে আপনাদের (তৃতীয় লিঙ্গের) জন্য সাভার, আশুলিয়া ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিনটি পার্লার করে দিয়েছি। উত্তরায় ফ্যাক্টরি ও টেইলার্স করে দিয়েছি। একটি জুট ফ্যাক্টরিতে ২০ জনের কাজের ব্যবস্থা করেছি। বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি এবং সরকারের সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে বিভিন্ন কর্মমুখী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি যেন আপনারাও আমাদের সকলের মতো সম্মানের সাথে বাঁচতে পারেন।’
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত