শিরোনাম

আমরণ অনশনে যাচ্ছেন নন-এমপিও শিক্ষকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ০০:০৬, জুন ২০, ২০১৮

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুত নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে টানা অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন নন-এমপিও শিক্ষকরা। মঙ্গলবার (১৯জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের সড়কের উল্টো দিকে কর্মসূচির দশম দিন পার করেন তারা।

আগামী ২৩ জুনের মধ্যে এমপিওভুক্তির বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত চান তারা। দাবি আদায় না হলে আমরণ অনশন কর্মসূচিতে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার। এ বিষয়ে বুধবার দুপুরে শিক্ষকদের সভা শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

এ প্রসঙ্গে গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার বলেন, 'বুধবার দুপুরে আমাদের সভা হবে। সেখানে আমরণ অনশনের মতো কঠোর কর্মসূচির সিদ্ধান্ত আসতে পারে।'

প্রসঙ্গত, গত ১০ জুন থেকে টানা আন্দোলন করছেন শিক্ষকরা। গত সোমবার থেকে রাতেও অবস্থান করছেন। এর আগে একই দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনশন কর্মসূচিতে নামে নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশন। গত ৩১ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অনশন করার পর প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে তারা অনশন ভঙ্গ করে ফিরে যান। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা তখন তাদের দাবি পূরণের প্রতিশ্রুতি দেন।

এবারের ২০১৮-১৯ বাজেটে এমপিওভুক্তির বিষয়ে সুস্পষ্ট কিছু না থাকায় শিক্ষকরা আবার আন্দোলনে নামেন। এরপর ১১ জুন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে বলেন, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হবে। বাজেটে উল্লেখ না থাকলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, সেটা থেকেই এমপিওভুক্ত করা হবে।

তবে আন্দোলনরত শিক্ষকরা বলছেন, শিক্ষামন্ত্রীর কাছ থেকে একাধিকবার আশার কথা শুনেছেন। কিন্তু তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় এখন মন্ত্রীর কোনো কথায় তারা আশ্বস্ত নন। শিক্ষামন্ত্রী অন্তত ২৭ বার তাদের আশা দিয়েছেন। এখন আর ওনার কথায় আশ্বস্ত হতে পারছেন না তারা। সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ঘোষণা চান।

জানা গেছে, বর্তমানে সারাদেশে নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৫ হাজার ২৪২টি। এসব প্রতিষ্ঠানে এক দশকেরও বেশি সময় থেকে বিনা বেতনে পাঠদান করছেন— এমন শিক্ষকের সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার। ছয় বছর বন্ধ থাকার পর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সর্বশেষ ২০১০ সালে আওয়ামী লীগ সরকার এক হাজার ৬২৪টি বেসরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কলেজকে এমপিওভুক্ত করেছিল।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত