শিরোনাম

খুনের হুমকির পরও থানায় জিডি নেয়নি পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১৯:৩৯, মে ১৬, ২০১৮

বুধবার (১৬মে) বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক বলেন, ‘গত মঙ্গলবার রাতে ছাত্রলীগ নেতারা আমাদের খুনের হুমকি দেন। এরপর শাহবাগ থানায় জিডি করতে গেলে পুলিশ তা নেয়নি।

তিনি বলেন, থানায় আমাদের অভিযোগ শোনার পর আধাঘণ্টা বসিয়ে রাখে। কিন্তু জিডি নিতে বলা হলে তারা বলেছে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া জিডি নিতে পারব না। বিকাল ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে নুরুল হক এ অভিযোগ করেন।

নুরুল হক বলেন, ‘প্রথমত আমি রাষ্ট্রের একজন নাগরিক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী। আমাদের জিডি না নিয়ে পুলিশ দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছে। গণতান্ত্রিক দেশে আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই।’

কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান বলেন, ‘নিরাপত্তা না দিয়ে পুলিশ যে আচরণ দেখিয়েছে, তা আমরা ভালোভাবে নিইনি। আমাদের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া পুলিশের কর্তব্য।’ কোটা সংস্কারের প্রজ্ঞাপন না হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন থাকবে।

হত্যার হুমকির বিষয়ে জানতে চাইলে রাশেদ খান বলেন, মঙ্গলবার রাতে ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ইমতিয়াজ বুলবুল বাপ্পী, হাজি মুহম্মদ মুহসীন হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সানী ও চারুকলা অনুষদের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফাহিম ইসলাম লিমন তাকে ও নূরুল হককে হত্যার হুমকি দেন।

হুমকি বা হয়রানিতে আন্দোলন থামবে না জানিয়ে সংগঠনের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করা হলেই কেবল আমরা আন্দোলন থেকে সরে আসব।’

রাশেদ খান বলেন, গতকাল দিবাগত রাতে ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ইমতিয়াজ বুলবুল বাপ্পী, হাজি মুহম্মদ মুহসীন হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সানী ও চারুকলা অনুষদের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফাহিম ইসলাম লিমন তাঁকে ও নূরুল হককে হত্যার হুমকি দেন।

প্রসঙ্গত, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ২০১৩ সাল থেকে আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তা গতি পায়। আন্দোলনকারীদের দাবি, কোটায় ১০ শতাংশের বেশি নিয়োগ নয় এবং কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে মেধাতালিকা থেকে শূন্যপদ পূরণ করতে হবে।

দাবি আদায়ে গত ৮ এপ্রিল শাহবাগ অবরোধ করে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। পুলিশ তাদের উঠিয়ে দিলে রাতভর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়। সে রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর ও তাণ্ডব চালায় দুর্বৃত্তরা। পক্ষে-বিপক্ষে সংসদ ও দেশব্যাপী তুমুল আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে ১১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী সংসদে ঘোষণা দেন, সরকারি চাকরিতে আর কোটাই থাকবে না। এরপর আন্দোলনকারীরা প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশের দাবি জানিয়ে আসছে।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠকের পর ৭ মের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারির আশ্বাস দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রজ্ঞাপন না হওয়ায় ১০ এপ্রিলের মধ্যে প্রজ্ঞাপনের আল্টিমেটাম দেওয়া দেয় আন্দোলনকারীরা। অন্যথায় তারা ফের আন্দোলনের নামবেন বলে ঘোষণা দেন। তারই আলোকে গত সোমবার ঢাকার শাহবাগে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা।এরপর মঙ্গলবার (১৫মে) শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে সারাদেশের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পরীক্ষা বর্জন না করার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে ক্লাস বর্জন কর্মসূচি অব্যহত থাকবে বলে জানান আন্দোলনকারীরা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত