শিরোনাম

‘বাংলাদেশে দুর্নীতি কমেছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১২:২৮, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০১৮

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) দুর্নীতির ধারণা সূচক অনুযায়ী বাংলাদেশে দুর্নীতি তুলনামূলক কমেছে। শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৭তম। গত বছর এই অবস্থান ছিল ১৫তম।

বৃহস্পতিবার ( ২২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মাইডাস সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে দুর্নীতির ধারণা সূচক ২০১৭ তুলে ধরেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান।

টিআইয়ের সূচকে এবার শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ সোমালিয়া। তাদের স্কোর ১০০–তে ৯। সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ নিউজিল্যান্ড। তাদের স্কোর ১০০–তে ৮৯। বাংলাদেশের স্কোর ২৮। বাংলাদেশের সঙ্গে একই অবস্থানে রয়েছে গুয়াতেমালা, কেনিয়া, লেবানন ও মৌরতানিয়া।

২০০১ সালে এ সূচকে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর এবার রেকর্ড পরিমাণ অগ্রগতি। তবে দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন অবস্থানে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের পরে রয়েছে আফগানিস্তান। এশিয়া প্যাসিফকের ৩১টি দেশের মধ্যে চতুর্থ সর্বনিম্ন। ভুটান দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষে রয়েছে।৬৯ শতাংশ দেশ ৫০ ভাগের কম স্কোর পেয়েছে প্রথম স্থানে আফগানিস্তান। মোট ১৮০টি দেশকে এই সূচকে গণ্য করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক ৮টি সংস্থার তুলনামূলক প্রতিবেদন নিয়ে এ সূচক তৈরি। ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সেবাখাতের ডিজিটালাইজেশনে অনেকটা অগ্রগতি হয়েছে। তবে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, ব্যাংকিং খাতের ঋণ জালিয়াতি, সরকারি ক্রয় নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক একচ্ছত্র অধিকারের কারণে দুর্নীতির বিষয়ে অগ্রগতি কম। তবে দুর্নীতিতে টানা পাঁচবার সর্বনিম্ন অবস্থানের তুলনায় এ অবস্থান সন্তোষজনক।

তিনি আরও বলেন, দুদকের স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক আছে। সংকুচিত হচ্ছে গণমাধ্যমের কাজের জায়গা। ৫৭ ধারাকে ঘুরিয়ে ৩২ ধারায় আনলে দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ বাধাগ্রস্ত হবে। বাকস্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা না থাকলে দুর্নীতি রোধ সম্ভব না।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের এক্সিকিউটিভ ওপিনিয়ন সার্ভে, ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের কান্ট্রি রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট, ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্টের রুল অব ল ইনডেক্স, পলিটিক্যাল রিস্ক সার্ভিস ইন্টারন্যাশনাল কান্ট্রি রিস্ক গাইড, বার্টলসমেন্ট ফাউন্ডেশন ট্রান্সফরমেনশন ইনডেক্স, ইনফরমেশন হ্যান্ডেলিং সার্ভিসেস গ্লোবাল ইনসাইড কান্ট্রি রিস্ক রেটিং, বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি পলিসি অ্যান্ড ইনস্টিউশনাল অ্যাসেসমেন্ট এবং ভেরাইটিজ অব ডেমোক্রেসি প্রজেক্ট—এদের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এই দুর্নীতির ধারণা সূচক তৈরি করা হয়েছে।

বেগম খালেদা জিয়ার রায় বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, একজন ব্যক্তির বিচার দুর্নীতি প্রতিরোধের মানদণ্ড হতে পারে না। এখনও অনেকেই বিচারের আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছে। বিদেশে অর্থ পাচারও দুর্নীতি সূচকে আশানুরূপ অগ্রগতি না হওয়ার অন্যতম কারণ।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত