শিরোনাম

রোহিঙ্গা ঠেকাতে পদক্ষেপ নিতে বলবে ঢাকা

প্রিন্ট সংস্করণ॥ জাকির হোসেন  |  ০০:৪৫, অক্টোবর ২২, ২০১৭

সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করে গেছেন ভারতের অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। মাত্র একমাস না যেতেই ঢাকা সফরে আসছেন ওই দেশের শীর্ষ স্থানীয় দ্বিতীয় মন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। ভারতের এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী এমন এক সময় আসছেন যখন মিয়ানমারের রাখাইনে নৃশংসতার শিকার হয়ে পালিয়ে আসা কয়েক লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিচ্ছে বাংলাদেশ। সংকট সমাধানে ঢাকার কাছে ভারতের মানবিক সহায়তা দেয়ার পাশাপাশি রোহিঙ্গা ইস্যুটি আলোচনায় আসবে। একই সঙ্গে সীমান্ত পাড় হয়ে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে প্রবেশ যাতে বন্ধ হয়– এমন পরিবেশ সৃষ্টির জন্য মিয়ানমারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে বলা হবে সুষমাকে। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের অ্যাক্ট ইস্ট পলিসির মূল স্তম্ভ হলো বাংলাদেশ। ভারত মহাসাগরে নিজের এজেন্ডা সম্প্রসারণের চেষ্টা চালাচ্ছে চীন। এর প্রেক্ষিতে সন্ত্রাসবিরোধী ও আঞ্চলিক সংযুক্তির ক্ষেত্রে বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে ভারতীয় কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার ও দেশ হলো বাংলাদেশ। তাই ঢাকা সফরে আসছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। তার দুদিনের এ সফরে বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্পে বড় ধরনের অর্থায়নের পরিকল্পনা করছে ভারত। নয়াদিল্লির অর্থায়নে ১৫টি প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন তিনি– এমনটাই আশা করা হচ্ছে।
দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান সম্পৃক্ততার প্রেক্ষিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘প্রতিবেশীই প্রথম’ নীতির অধীনে আঞ্চলিক ফ্রন্টলাইন অংশীদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বাংলাদেশ। এক মাসের কম সময়ের মধ্যে তাই ঢাকা সফরে যাচ্ছেন ভারতের শীর্ষ স্থানীয় দ্বিতীয় মন্ত্রী হিসেবে সুষমা। সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করেছেন ভারতের অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। ওই সফরের সময় তিনি ৪৫০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। ভারতের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি সহায়তা পাওয়া দেশ হলো বাংলাদেশ। ২০১০ সাল থেকে তারা মোট ৮০০ কোটি ডলার ঋণ সহায়তা পেয়েছে।
রিপোর্টে আরও বলা হয়, বিবিআইএন, বিমসটেকসহ আঞ্চলিক গ্রুপিংয়ের ক্ষেত্রে ঢাকা শুধু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাই রাখছে, এমন নয়। তারা ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ পলিসিরও মূল পিলার বা স্তম্ভ। সুষমা স্বরাজ এমন এক সময় ঢাকা সফরে যাচ্ছেন যখন মিয়ানমারের রাখাইনে নৃশংসতার শিকার হয়ে পালিয়ে আসা কয়েক লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিচ্ছে। সংকট সমাধানে ঢাকার কাছে ভারতের মানবিক সহায়তা দেয়ার পাশাপাশি রোহিঙ্গা ইস্যুটি আলোচনায় আসবে। এছাড়া সীমান্ত পাড় হয়ে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে প্রবেশ যাতে বন্ধ হয় এমন পরিবেশ সৃষ্টির জন্য মিয়ানমারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে উদ্বুদ্ধ করা হবে সুষমাকে। ২০১৫ সালে নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের সময় এবং ২০১৭ সালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় যেসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল তা বাস্তবায়নের অগ্রগতি রিভিউ করবে ভারত-বাংলাদেশ জয়েন্ট কমিশন।
এদিকে চলমান রোহিঙ্গা সংকট সমাধান ও তিস্তা নিয়ে কথা বলতে রোববার বাংলাদেশে আসছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। সেদেশে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সৈয়দ মুয়াজ্জেম আলী এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, চতুর্থ যৌথ কনসালটেটিভ কমিশনের বৈঠকে যোগ দিতে সুষমা স্বরাজ দুদিনের সফরে ২২ অক্টোবর ঢাকা আসবেন।
রাষ্ট্রদূত জানান, রাখাইন থেকে গণহারে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণে মিয়ানমার সরকারের জন্য পরামর্শমূলক পাঁচটি নির্দেশনা প্রণয়ন করেছে বাংলাদেশ। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে কফি আনান কমিশনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ। এছাড়া বাংলাদেশের সঙ্গে পানি বণ্টনে ভারতের উদ্বেগের বিষয়টি স্পষ্ট লক্ষ করা গেছে। তিস্তা চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশ অনেক আশাবাদী জানিয়ে ভারতকে এর বিপক্ষে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করার আহ্বান জানান সৈয়দ মুয়াজ্জেম আলী। তিনি বলেন, সুষমা স্বরাজের ঢাকা সফরে বিষয়টি উত্থাপিত হবে।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত