পাটের রফতানি কমে যাওয়ার আশঙ্কা

প্রিন্ট সংস্করণ॥বেলাল হোসেন | ১১:২১, জানুয়ারি ১২, ২০১৭

সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে পাট ও পাটজাতপণ্য রফতানিতে শুল্ক আরোপ করেছে ভারত। এখন থেকে বাংলাদেশি পাট রফতানিতে প্রতি টন পাটে ভারত সরকারকে ৮ থেকে ৩৫০ ডলার পর্যন্ত শুল্ক দিতে হবে। ভারতের এমন সিদ্ধান্তে পাট ও পাটজাত রফতানি কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে বাংলাদেশের রফতানিকারদের কিছু অবহেলার কারণে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম।

সম্প্রতি রাজধানীর ফার্মগেটে এক সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের একথা জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভারতে যেসব জুটমিল রয়েছে তাদের অভিযোগ বাংলাদেশ থেকে যেসব পাট ও পাটজাতপণ্য ভারতে রফতানি করা হচ্ছে তা ভারতের উৎপাদন খরচের চেয়েও কম। এতে ভারতের পাটশিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এজন্য বাংলাদেশ থেকে যেসব মিলের মাধ্যমে ভারত পাট আমদানি করে এর মধ্যে ৪শর অধিক মিলকে ভারত চিঠি ও ফরম পাঠিয়েছিল। কিন্তু আমাদের জুটমিল কর্তৃপক্ষ তাদের (ভারত) চিঠি ও ফরমের সঠিক গুরুত্ব দেয়নি। ফলে ভারত থেকে টিম এসে বাংলাদেশের জুট মিল পরিদর্শন করেছে।

এরপরই ১ লাখ টন পাটের উপর বিভিন্ন মিলে বিভিন্নভাবে শুল্ক আরোপ করে ভারত। কোনো পাট মিলে ২০ ডলার, ৫০ ডলার, আবার কোথায়ও ৯০ ডলার, ৩০০ ডলার শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। বাংলাদেশের যেসব মিল কর্তৃপক্ষ ভারতের চিঠির জবাব ও ফরম সঠিকভাবে পূরণ করেছে তাদের ওপর কম শুল্ক আরোপ করেছে। পাট পণ্যের উপর ভারতের শুল্ক আরোপের বিষয়টা বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের আওতার মধ্যে পড়ে না জানিয়ে পাট প্রতিমন্ত্রী জানান, তবুও বিষয়টা নিয়ে আমরা মন্ত্রণালয়ে স্টেক হোল্ডার যারা সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে এবং বাংলাদেশ জুটমিল অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএমএ) সংগঠনের সাথে আলোচনা করেছি। এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া। বিষয়টি নিয়ে আগামী রোববার (১৫ জানুয়ারি) বিশ্ববাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিউটিও) আপিল করবে বাংলাদেশ জুটমিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএমএ)। এতে সব ধরনের সহযোগিতা দেবে সরকার। সরকারের পক্ষ থেকেও ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে পদেক্ষপ নেয়া হবে বলে জানান মির্জা আজম। ভারত যা করেছে তা বৈধভাবেই করেছে। আইনগত, কূটনৈতিক এবং যেভাবে সম্ভব সেভাবেই বিষয়টি মোকাবিলা করা হবে।

এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীকে একটি নোট দিয়েছেন। এছাড়াও আগামী মাসেই ভারত সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শিগগিরই এ বিষয়ে একটি সমাধান আসবে বলে আশা করেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যমতে, বাংলাদেশ ২০১৬ অর্থবছরে ৯১ কোটি ৯৫ লাখ ৮ হাজার মার্কিন ডলারের পাট ও পাটজাত পণ্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রফতানি করেছে। যার ২০ শতাংশ শুধু ভারতের বাজারেই রফতানি হয়ে থাকে। ভারতীয় অভ্যন্তরীণ বাজারে যার পরিমাণ প্রায় ৮ শতাংশ। এছাড়াও, বাংলাদেশ শুধু ভারতের বাজারে প্রতি বছর ১ দশমিক ১০ লাখ টন পাটের সুতা রফতানি করে।

উল্লেখ্য, ভারতে উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে পাটপণ্য রফতানি করে আসছিলেন বাংলাদেশের রফতানিকারকরা। এ পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৪ সালে আইনিব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নেন দেশটির পাটপণ্য উৎপাদনকারীরা। আনুষ্ঠানিক অভিযোগের পর এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করে ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব অ্যান্টি ডাম্পিং অ্যান্ড অ্যালাইড ডিউটিজ (ডিজিএডি)। প্রায় এক বছর তদন্তের পর ২০১৫ সালের অক্টোবরে চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেশ করে সংস্থাটি। এতে অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপের সুপারিশ করা হয়। এ সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে ৫ জানুয়ারি ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন রাজস্ব বিভাগ একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।

ভারতীয় রাজস্ব বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বাংলাদেশের পাটপণ্য রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানের ওপর প্রতি টন পাটপণ্যে সর্বনিম্ন ২০ দশমিক ৩৫ ডলার থেকে সর্বোচ্চ ৩৫১ দশমিক ৭২ ডলার অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। বাংলাদেশের পাট রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে প্রাইড জুট মিলস, আশা জুট ইন্ডাস্ট্রিজ, সোনালি আঁশ ইন্ডাস্ট্রিজ, আলিজান জুট মিলস, শরীফ জুট মিলস, আনোয়ার জুট স্পিনিং মিলস, জনতা জুট মিলস, সিডল টেক্সটাইলস, সাগর জুট স্পিনিং, রহমান জুট মিলস, শমসের জুট মিলস, গোল্ডেন জুট ইন্ডাস্ট্রিজ, পূরবী ট্রেডিং, সোনালি আঁশ ট্রেডিং, রাজবাড়ী জুট মিলস, নওয়াপাড়া প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ, ঊষা জুট স্পিনার্স, বিএস জুট স্পিনার্স লিমিটেড, মদিনা জুট ইন্ডাস্ট্রিজ, নর্দান জুট ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি, জুট স্পিনার্স ও নওয়াব আবদুল মালেক জুট মিলস।

 

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
close-icon