শিরোনাম

অসচ্ছল কোটার ভাগ চান সরকারি কর্তারা

১১:১০, জানুয়ারি ১২, ২০১৭

দেশের প্রাইভেট মেডিকেল কলেজগুলোতে এমবিবিএস কোর্সে অসচ্ছল কোটায় ভর্তিতে চলছে নানা রকম তদবির-বাণিজ্য। এতে প্রকৃত অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছে এই সোনার হরিণ নামক এমবিবিএস পড়ার সুযোগ থেকে। সবথেকে বেশি তদবিরের অভিযোগ উঠেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।

এসব কর্মকর্তা কখনো নিজেদের প্রার্থী, কখনো স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্যসচিব, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকসহ আরো অনেক প্রভাবশালী মন্ত্রী-এমপি বা সরকারি আমলার প্রার্থী দাবি করে অসচ্ছল কোটা ভাগিয়ে নিচ্ছেন। কর্মকর্তাদের কাছে অসহায়ত্তবোধ করছেন প্রাইভেট মেডিকেল কলেজের মালিকরা। প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কায় কর্মকর্তাদের তদবির অনুযায়ীই অসচ্ছল কোটায় শিক্ষার্থী ভর্তি করছেন। একাধিক প্রাইভেট মেডিকেল কলেজের মালিক আমার সংবাদকে বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদফতর কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে যারা অসচ্ছল কোটার ভর্তিসংক্রান্ত সভায় অংশ নিচ্ছেন, তাদের দায়িত্ব ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের আর্থিক অসচ্ছলতা ও মেধাক্রম বিবেচনায় এনে ভর্তির সুপারিশ করা।

কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে তারা এ নিয়ম অনুসরণ করলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিয়ম মানছেন না। ফলে দরিদ্র ও মেধাক্রমে এগিয়ে থাকার পরও অনেক শিক্ষার্থী বাদ পড়ছে। এর পরিবর্তে তদবিরের কারণে যে শিক্ষার্থী ভর্তি হচ্ছে তার আর্থিক অবস্থা তুলনামূলক ভালো এবং মেধায়ও পিছিয়ে। মালিকরা বলছেন, বাছাই কমিটির সদস্য হিসেবে বড়জোর ৬ থেকে ৭ জন সরকারি প্রতিনিধি আসছেন মেডিকেল কলেজগুলোতে। কিন্তু হাতেগোনা কয়েকজন কর্মকর্তার এত তদবির কেন? তাদের দাবি নিরপেক্ষ কমিটির মাধ্যমে তদন্ত করে দেখা উচিত, এত তদবিরের নেপথ্যে আর্থিক লেনদেন আছে কিনা। তারা অভিযোগ করছেন প্রতিনিধিরা ৫ শতাংশ আসনের মধ্যে এক থেকে দুই শতাংশ আসনই নিজেদের প্রার্থীর জন্য দাবি করছেন।

জানা গেছে, দেশে বর্তমানে প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ ৬৯টি। এমবিবিএস কোর্সে আসন ৬ হাজার ২০৫টি। নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি মেডিকেল কলেজে ৫ শতাংশ আসনে অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা। একই নিয়ম ডেন্টাল কলেজগুলোতেও। সরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজের মতোই অসচ্ছল কোটার শিক্ষার্থীরা কম খরচে ৫ বছর মেয়াদি এমবিবিএস ও ৪ বছর মেয়াদি বিডিএস বা ডেন্টাল কোর্সে লেখাপড়া করবে প্রাইভেট মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে।

তাতে দেখা যাচ্ছে অসচ্ছল কোটার শিক্ষার্থীরা প্রাইভেটে মেডিকেল কলেজেও মাত্র ৮ থেকে ১০ হাজার টাকায়ই ভর্তি হতে পারছে এবং প্রতিমাসে ২ থেকে ৪শ টাকা টিউশন ফি এবং ৫ বছরের তিনটি পরীক্ষায় ১০ হাজার টাকা করে মোট ৩০ হাজার টাকা দিয়েই এমবিবিএস ও বিডিএস কোর্স শেষ করতে পারছে। একই খরচ সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতেও। কিন্তু এই ৫ শতাংশ অসচ্ছল কোটা ছাড়া প্রাইভেট মেডিকেল কলেজগুলোর বাকি আসনগুলোতে সরকার নির্ধারিত ভর্তি ফি-ই ১৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা। টিউশন, ইন্টার্নি ও পরীক্ষা ফিসহ অন্যান্য খরচ ৫ বছরে এমবিবিএসে ১৯ লাখ টাকা। ডেন্টালে এর থেকে তিনভাগেরও কম। বাস্তবে নেওয়া হচ্ছে আরো অনেক বেশি।

এ কারণেই অসচ্ছল কোটার এত চাহিদা এবং তদবির-বাণিজ্য। নিয়ম অনুযায়ী অসচ্ছল কোটায় শিক্ষার্থী বাছাইয়ের দিন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতরে একজন করে প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি ও ডিন এবং সংশ্লিষ্ট মেডিকেল কলেজের গভর্নিংবডি উপস্থিত থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয় বলতে যে মেডিকেল কলেজ যে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত। যেমন ঢাকায় হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকার বাইরে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিনিধি ও গভর্নিংবডি প্রথমেই দেখবে এমবিবিএস ভর্তিপরীক্ষায় শিক্ষার্থীর প্রাপ্ত নম্বরসহ মেধা কততম। তারপর আর্থিকভাবে কতটা অসচ্ছল। নিরপেক্ষভাবে যাচাই-বাছাই না করে তদবির কিংবা চাপ প্রয়োগ করে অসচ্ছল কোটায় শিক্ষার্থী ভর্তি করানোর অভিযোগ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদফতরের চিকিৎসা শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জনশক্তি উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আব্দুর রশিদ বলেন, অভিযোগটি মোটেও সত্য নয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত