শিরোনাম

ডেঙ্গু আতঙ্কে কেটেছে ঈদ

প্রিন্ট সংস্করণ॥মাহমুদুল হাসান  |  ০৬:০৬, আগস্ট ১৫, ২০১৯

ডেঙ্গুজ্বর আতঙ্কে সারা দেশে ঈদও অনেকটা মাটি হয়ে গেছে। সরকারি তথ্য মতে, এখনো হাসপাতালে আট হাজারের বেশি ডেঙ্গুরোগী ভর্তি। এদের পরিবারে নিশ্চয়ই এবার ঈদ আসেনি।

এমন অনেক পরিবার ঈদের আনন্দ ভুলে স্বজনদের নিয়ে হাসপাতালে ঈদ কাটিয়েছে। আবার যারা গ্রামে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে এসেছেন, তাদের মধ্যে ডেঙ্গুর আতঙ্ক ছিলো সবার উপরে।

মশার উপক্রম থেকে বাঁচতে অনেকে গ্রামে এসেও তেমন একটা বের হননি ঈদ আয়োজনে। আবার প্রায় ৪০ হাজার ডেঙ্গুরোগী সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন। তাদের অধিকাংশ এবার গ্রামে ঈদ করলেও তারা ভয়ে আর আতঙ্কে ঘর থেকে বের হননি।

বলা হয়ে থাকে, দ্বিতীয়বার ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে মৃত্যুঝুঁকি বেশি। তাই আক্রান্তদের পরিবার বাড়তি সতর্কতা থেকে এসব উদ্যোগ নিয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের প্রভাষক আতাউর রহমান ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর একটি বেসকারি হাসপাতালে ভর্তি। তাদের গ্রামের বাড়িতে শুধু নিয়ম রক্ষার ঈদ হয়েছে।

তার সঙ্গে ঢাকায় ঈদ করে বড়ভাই হাবিবুর রহমান বলেন, যে পরিবারের একজন মানুষ হাসপাতালে থাকে সে পরিবারে কী ঈদের অ্যামেজ থাকে বলেন? আমাদেরও তাই এ বছর শুধু নিয়ম রক্ষার ঈদ হয়েছে। ছোটভাইকে হাসপাতালে নিয়ে ঈদ পালন সেটা যে কত কষ্টের বলে বুঝানো যাবে না। আর কারো যেন ডেঙ্গু না হয় এত কিছুর পরও দমিয়ে রাখা যায়নি ডেঙ্গুর প্রকোপ।

মেঘলা আকাশ আর রোদের খেলার মতো ডেঙ্গু তার প্রকোপ কম আর বেশির মধ্য দিয়ে ঈদের ছুটি পার করছে। প্রতিদিনই মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত ৪০ জনের ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে বলা হলেও বেসরকারিভাবে এর চারগুণ বা তার বেশি বলা হচ্ছে।

এদিকে আবার রয়েছে কুরবানির বর্জ্য অপসারণের ঝুঁকি। যথাযথভাবে এই বর্জ্য অপসারণ করা না হলে আবার প্রকোপ বেড়ে যেতে পারে। অন্যদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি কমতে শুরু করেছে।

এখন আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। দ্রুত এর প্রকোপ কমে যাবে। তবে এ কথায় একমত নন দেশের সাধারণ মানুষ। তাদের ভাষ্য, ঈদ উদযাপন করতে সবাই গ্রামে ফিরে গেছে বলে ঢাকার সেই প্রকৃত হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না।

আবার গ্রামের সব হাসপাতালে তথ্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে জমা হয় না বলেই ডেঙ্গুরোগীর সংখ্যা কম মনে হচ্ছে। তবে ডেঙ্গুর প্রকোপ এখনো নিয়ন্ত্রণহীন। সরকারির চেয়ে বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যু বেশি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, চলতি বছরে ৪০ জন মারা গেছে ডেঙ্গুতে। এদের মধ্যে ৩৩ জনই রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতালে মারা গেছে। বাকিদের মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজে একজন, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে একজন এবং ঢাকা শিশু হাসপাতালে চারজন ডেঙ্গুতে মারা গেছে।

অন্যদিকে স্কয়ার হাসপাতালে ৯ জন, ইবনে সিনায় চারজন, বিআরবি, আজগর আলী, ইউনাইটেড হাসপাতালে তিনজন করে মোট ৯ জন, ইসলামি ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে দুইজন এবং ইউনিভার্সাল হাসপাতালে দুইজন ডেঙ্গুতে মারা গেছে।

এ ছাড়াও হলি ফ্যামিলি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শমরিতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বারডেম হাসপাতাল, ডেল্টা জেনারেল হাসপাতাল, আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে একজন করে ডেঙ্গুতে মারা গেছে বলে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

দেশে বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন্স সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের তথ্য মতে, গত মঙ্গলবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এক হাজার ৮৮০ জন। এদের মধ্যে ঢাকায় ভর্তি আছে ৭৫৪ জন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৪৭ জন। মিটফোর্ড হাসপাতালে ৮৩ জন, সরকারি শিশু হাসপাতালে ২০ জন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭৩ জন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩১ জন, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪৭ জন, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ৫৫ জন এবং সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ১১ জন।

এ ছাড়াও বিভিন্ন বেসকারি হাসপাতালে ২৭৩ জন ভর্তি আছে এবং ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতাল ক্লিনিকে ভর্তি আছে এক হাজার ১২৬ জন। ঢাকা শহর ব্যতীত ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ২৭৩, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯৮, খুলনা বিভাগে ১৬৫, রংপুর বিভাগের ১১৪, রাজশাহী বিভাগের ১৩২, বরিশাল বিভাগে ১৫৬, সিলেট বিভাগে ২১ ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৭০ জন ভর্তি হন।

চলতি বছরের পয়লা জানুয়ারি থেকে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ৪৬ হাজার ৩৫১ জন। ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে এখনো হাসপাতালে রয়েছে সাত হাজার ৮৬৯ জন। চিকিৎসাসেবা নিয়ে সে বাড়ি ফিরেছে ৩৮ হাজার ৪৪২ জন।

আক্রান্তদের মধ্যে শুধু ঢাকায় আক্রান্ত হয়েছে ২৯ হাজার ৮২৫ জন। হাসপাতালে আছে চার হাজার ১৪৩ জন। আর বাড়ি ফিরেছে ২৫ হাজার ৬৪৩ জন। শুধু বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে ১৩ হাজার ৮২৬ জন।

এদের মধ্যে এখনো হাসপাতালে আছে এক হাজার ৫৫১ জন। আর বাড়ি ফিরেছে ১২ হাজার ২৪২ জন। ঢাকার বাইরে এ পর্যন্ত চিকিৎসা নিয়েছে ১৬ হাজার ৫২৬ জন। এদের মধ্যে এখনো আছে তিন হাজার ৭২৬ জন।

আর বাড়ি ফিরেছে ১২ হাজার ৮০০জন। শুধু আগস্ট মাসের ১৪ দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ২৭ হাজার ৮৯০ জন। চলতি মাসে সরকারি হিসাবে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১০ জন মারা গেছে।

জুলাই মাসে ১৬ হাজার ২৫৩ জন আক্রান্ত হয়ে ২৪ জন মারা গেছে। জুনে এক হাজার ৮৮৪ আক্রান্ত হয়ে চারজন মারা যায় এবং এপ্রিল মাসে ৫৮ আক্রান্ত হলেও দুইজন মারা যায়।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত