শিরোনাম

কাঁচা চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি বিটিএ’র

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১২:১৮, আগস্ট ১৪, ২০১৯

সারাদেশে গত কয়েক বছর ধরে কুরবানি ঈদের পশুর চামড়া বেচাকেনায় মাঠপর্যায়ের ক্রেতা-বিক্রেতারা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। এ নিয়ে সরকার সমালোচনায় পড়ছে।

এই সমালোচনা দূরীরকণ এবং মাঠপর্যায়ের চামরা ক্রেতা-বিক্রেতাদের ন্যায়্যমূল্য দিতে এবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কাঁচা চামড়া সরাসরি রপ্তানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সরকারের এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ)।

বুধবার (১৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় ধানমন্ডির বিটিএ'র নিজস্ব কার্য্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এ দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের সভাপতি মো. শাহিন আহমেদ।

ঈদুল আজহায় চামড়ার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিটিএ'র সভাপতি শাহীন আহমেদ বলেন, ঢাকার চামড়া ব্যবসায়ীরা কুরবানি ঈদের পশুর চামড়া সংগ্রহ করে সারাবছর ব্যবসা করেন।

কিন্তু দেখা যায়, কাঁচা চামড়া সংগ্রহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান লবণ। ঈদুল আজহা এলেই খোলা লবণের দাম বাড়ানো হয়। এতে চামড়া ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েন।

শাহীন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন ২০ আগস্ট থেকে চামড়া সংগ্রহ শুরু করবে। এই সময়ে মাঠপর্যায়ের পশুর চামড়া ব্যবসায়ীরা সঠিক দাম পাবে।

সেই সময় চামড়ার বাজার স্থিতিশীল থাকবে। আশা করছি এই সময়ের মধ্যে সরকার তার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কাঁচা চামড়া বিদেশে রপ্তানি করলে এই সেক্টর ক্ষতির মুখে পড়বে এমন মন্তব্য করে বিটিএ’র সভাপতি বলেন, সরকারের বেধে দেওয়া মাঠপর্যায়ে কাঁচা চামড়ার দাম ঠিক রয়েছে। কিন্তু সেখানে একটি সিন্ডিকেট চক্র বানানো হয়েছে। ওই সিন্ডিকেট চামড়ার দাম কমিয়ে দিচ্ছে। এই চক্র বিটিএ’র নিয়ন্ত্রণের বাইরে।

আর বিটিএ কখনও সরাসরি কাঁচা চামড়া ক্রয় করে না। তিন-চার জনের হাত ঘুরে বিটিএ’র কাছে চামড়া আসে। আমাদের (বিটিএ) হাতে চামড়া পৌঁছানো পর্যন্ত কুরবানি ঈদের কাঁচা চামড়া নিয়ে চক্রটি নানা রকমের ফন্দি তেরি করে।

সেখানে বিটিএ’র কোনো হস্তক্ষেপ নেই। মাঠপর্যায়ের এসব পশুর চামড়া যখন তিন-চার হাত ঘুরে বিটিএ’র ব্যবসায়ীদের কাছে আসে তখন সরকারের নির্ধারিত দামেই চামড়া নিতে হয়। অথেব কাঁচা চামড়ার এই দরপতনের সঙ্গে কোনোভাবেই বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন জড়িত নয়।

তিনি বলেন, ২০১৮ সালে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের কথা ভেবে হাজারীবাগের ট্যানারিগুলো সাভারের হেমায়েতপুরে স্থানান্তর করে। ট্যানারিগুলো সাভারে ব্যাপক উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে।

এই মুহূর্তে সরকার যদি কাঁচা চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে চামড়া শিল্পনগরীতে ৭ হাজার কোটি টাকার বিনিয়যোগ মুখ থুবড়ে পড়বে। অকেজো হয়ে পড়বে সাভারের আধুনিক চমড়া শিল্পনগরী।

এতে চামড়া শিল্পের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে জড়িত জনগোষ্ঠী বেকার হয়ে পড়বে, ফলে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেবে। সবকিছু বিবেচনা করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নেয়া কাঁচা চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানায়।

মাঠপর্যায়ে কাঁচা চমড়ার সঠিক দাম পাওয়ার উপায়ার বিষয়ে বিটিএ’র সভাপতি শাহীন আহমেদ বলেন, আপনারা যারা চামড়া সংগ্রহ করেছেন, তারা যদি চাময়ায় লবণ দিয়ে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করেন, তাহলে সরকার নির্ধারিত দামেই চামড়াগুলো বিটিএ’ ক্রয় করবে। তাই আপনাদের কাছে অনুরোধ চামড়া ফেলে না দিয়ে, নষ্ট না করে লবণ দিয় সংরক্ষণ করুন।

বিটিএ’র সভাপতি আরো বলেন, আমরা যদি দেশীয় চামড়ার জুতা, মানিব্যাগ, বেল্ট ব্যবহার করি তাহলে কাঁচা চামড়া বিদেশে রপ্তানি করার প্রয়োজন হবে না। সেই সঙ্গে আমাদের এই দেশীয় শিল্পে স্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করবে।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন-সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত উল্লাহ, ট্রেজারার মিজানুর রহমান, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ইলিয়াসূর রহমান বাবু প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, কুরবানি ঈদের পশুর চামড়ার ন্যায়্যমূল্য না পাওয়া এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কাঁচা চামড়া ফেলে দেওয়ার ঘটনায় গত ১৩ আগস্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কাঁচা চামড়া বিদেশে রপ্তানির সিদ্ধান্ত নেয়। একইসঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নির্ধারিত মূল্যে কাঁচা চামড়া বেচাকেনা নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা চাওয়া হয়।

 

এফএ/এমএআই

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত