শিরোনাম

‘২০২০ সালের মধ্যেই সারাদেশে শতভাগ বিদ্যুৎ’

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ২১:৩৪, জুন ১৯, ২০১৯

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, বর্তমানে দেশের প্রায় ৯৩ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় রয়েছে। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ২০২০ সালের মধ্যেই দেশের শতভাগ জনগণকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

বুধবার (১৯ জুন) চট্টগ্রাম-১১ থেকে নির্বাচিত এমপি এম. আবদুল লতিফের টেবিলে উত্থাপিত এক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী সংসদকে এতথ্য জানান।

লক্ষ্মীপুর-২ এর এমপি মোহাম্মদ শহিদ ইসলামের প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, দেশে এ যাবত আবিষ্কৃত ২৭টি গ্যাস ক্ষেত্রের মধ্যে ২০টি থেকে গ্যাস উৎপাদন হচ্ছে। এ সকল গ্যাস ক্ষেত্রে খননকৃত মোট কূপের সংখ্যা ১৫টি, যার মাধ্যমে গ্যাস উত্তোলন করা হতো।

বর্তমানে ১১২টি কূপের মাধ্যমে গ্যাস উৎপাদন করা হচ্ছে; যার উত্তোলনযোগ্য মজুদ ২৭.৮১ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ)। গত এপ্রিল পর্যন্ত মোট ১৬.৮৯ টিসিএফ গ্যাস উত্তোলন করা হয়েছে। ফলে অবশিষ্ট মজুদের পরিমাণ ১১.০৫ টিসিএফ।

মহিলা এমপি সৈয়দা রুবিনা আক্তারের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, গৃহস্থলী ব্যতিত অন্যান্য সকল শ্রেনিতে (বিদ্যুৎ, সার, শিল্প ক্যাপটিভ, চা-বাগান, সিএনজি ও বাণিজ্যিক) মিটারের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। গৃহস্থলী পর্যায়ে গ্যাসের অপচয় রোধে ও জ্বালানির দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিতকল্পে মে, ২০১৯ পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ ৮ হাজারটি প্রি-পেইড মিটার স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া দেশের সকল গৃহস্থলী গ্রাহক পর্যায়ে পর্যায়ক্রমে প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

মোঃ হারুনুর রশীদের প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, সারা দেশে বিদ্যুৎতের হাই ভোল্টেজ এবং লো ভোল্টেজ নিয়ন্ত্রণে বিদ্যুৎখাতে উৎপাদন, বিতরণ ও সঞ্চালনের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। উৎপাদনের সঙ্গে সামঞ্জম্য রেখে সঞ্চালন খাতের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎতের গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জম্য রেখে বিতরণ সেবাকেও উন্নত করার জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

মোঃ মুজিবুল হকের প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, অবৈধ বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ব্যবহার বন্ধ, মিটার টেম্পারিং এবং সকল অপচয় রোধকল্পে বেশকিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎতের ক্ষেত্রে পাঁচটি এবং গ্যাসের ৫টি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

মোহাম্মদ শহিদ ইসলাম এমপির প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাতারবাড়ী ২৬০০ মেগাওয়াট আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ার্ড পাওয়ার প্রজেক্ট এর ইপিসি কন্ট্রাক্টরের কার্যক্রম ২০১৭ সালের ২২ আগস্ট শুরু হলেও গত এপ্রিল’১৯ পর্যন্ত ইপিসি কাজের অগ্রগতি ১৮.৩ শতাংশ এবং মে পর্যন্ত ভৌত অগ্রগতি ২৪.৩৮ শতাংশ।

নুরুন্নবী চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, দেশে ব্যাপক হারে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে বেসরকারি খাতে মোট ৬৮৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১১টি গ্রিড টাইড বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে।

এম. আবদুল লতিফের আরেক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির পর ৫টি আন্তজার্তিক তেল কোম্পানি (আইওসি) এর সঙ্গে ৪টি ব্লকের জন্য স্বাক্ষরিত ৪টি উৎপাদন বন্টন চুক্তির (পিএসসি) মাধ্যমে গভরি এবং অগভীর সমুদ্রে অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

২০১৪ সালের পর হতে এ সকল ব্লকে প্রায় ১৩ হাজার লাইন কিলোমিটার ২ডি সাইসমিক সার্ভে এবং ৩০৫ বর্গ কিলোমিটার ৩ডি সাইসমিক সার্ভে সম্পন্ন হয়েছে। অগভীর সমুদ্র ব্লকে ২০২১ সালের মার্চ মাসের মধ্যে চারটি অনুসন্ধান কূপ খনন করা হবে।

আরআর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত