শিরোনাম

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও সুবর্ণজয়ন্তীর রূপরেখা

প্রিন্ট সংস্করণ॥রফিকুল ইসলাম  |  ০১:০২, জুন ১৩, ২০১৯

টানা তৃতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় রয়েছে আওয়ামী লীগ। তৃতীয় মেয়াদের প্রথম বাজেট ঘোষণা হবে আজ। এই সরকারের বর্তমান সময়েই অনুষ্ঠিত হবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী।

জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকে স্মরণীয় করতে ব্যাপক কর্মসূচি নিয়েছে সরকার ও আওয়ামী লীগ। দেশের প্রতিটি জনগণকে এসব কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত করবে আওয়ামী লীগ। ঘোষিত বাজেটে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও সুবর্ণজয়ন্তী পালনের রূপরেখা তুলে ধরা হবে।

তথ্য মতে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী বাস্তবায়ন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নতুন চ্যালেঞ্জ। দলটি যে কোনো মূল্য এই চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়ন করবে। তাই সরকারে থাকা দলটিও ইতিহাসের রেকর্ড বাজেটের অপেক্ষায় রয়েছে।

অন্যদিকে বড় বাজেট দেয়ার কৃতিত্বের চেয়েও ব্যয় সামাল, গুণমান বাড়ানো, স্বচ্ছতা তৈরি, সংস্কার এবং আয়ের পথ বৃদ্ধিই হবে নতুন অর্থমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জ। কারণ দাম না পেয়ে ক্ষেতেই কৃষকের ধান পোড়ানোর ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। আবার কমেছে কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধিও।

আর্থিক খাত বিপর্যয়ের এক দশক চলছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়লেও বেসরকারি বিনিয়োগের হার স্থবিরতা, বাড়ছে না কর্মসংস্থান। রাজস্ব আদায়ে দেখা দিয়েছে বড় ঘাটতি। আয়ে ঘাটতি অথচ ব্যয়ের তালিকা লম্বা। আছে বড় প্রকল্প শেষ করার তাগিদ। দিতে হবে স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় আলাদা নজর।

আছে নতুন সাংসদের রাস্তা নির্মাণের অসংখ্য চিঠি। আবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের ইশতেহারে দেয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়ন। আবার নির্বাচনে সরকারের থাকা দলটিকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়েছেন সব শ্রেণি-পেশার ব্যবসায়ীরা। তাই তাদের প্রত্যাশাও অনেক ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে।

গত ১০ বছরের ধারাবাহিকতা এবং বাস্তবায়নের গতানুগতিকতার লক্ষ্য ঠিক রেখেই ঘোষণা হতে যাচ্ছে রেকর্ড বাজেট। আজ ১৩ জুন ২০১৯-২০ অর্থবছরের নতুন বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে রেকর্ড বাজেট বলে অভিহিত করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা।

তারা বলছেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে দেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন হচ্ছে। নতুন বাজেটের মাধ্যমে সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে এবং উন্নত দেশে রূপান্তর হওয়ার স্বপ্নপূরণে এগিয়ে যাবে দেশ।

ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের ভাষ্য, আওয়ামী লীগের টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থেকে দেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন হচ্ছে। অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকে দেশের অগ্রগতি হচ্ছে। এ বাজেটের মাধ্যমে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আমাদের স্বপ্নপূরণের কিছু প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হবে। তাই এ বাজেটকে রেকর্ড বাজেট বলে আখ্যায়িত করেছেন ক্ষমতাসীনরা।

রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ২০২০ সালে পূর্ণ হবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং ২০২১ সাল হবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। ইতোমধ্যে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত মুজিববর্ষ হিসেবে উদযাপন করার ঘোষণাও দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মুজিববর্ষ উদযাপনে বিশিষ্টজনদের নিয়ে ১০২ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি এবং বাস্তবায়নের জন্য ৬১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটিও ঘোষণা করেছে সরকারে থাকা দলটি। দলের ও দলের বাইরের সব রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সব বয়সের শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে মুজিববর্ষ উদযাপিত করার পরিকল্পনাও শেষ করেছে তারা। এজন্য শান্ত রাজনীতির দৃষ্টান্ত স্থাপনে সরকারপন্থি বুদ্ধিজীবীদের পরামর্শে কাজ করছে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড।

আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো বলছে, ২০২০ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্ম তারিখ থেকে শুরু করে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত মুজিববর্ষ পালিত হবে। এখানে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীও থাকবে। এ সময়ের মধ্যে জাতীয় ও আওয়ামী লীগের দলীয় প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হবে। তাই ওইসব দিবসভিত্তিক অনুষ্ঠানগুলো অন্যান্য বারের চেয়ে আলাদা গুরুত্ব দেবে ক্ষমতাসীনরা। বিশেষ করে কেন্দ্রের পাশাপাশি সারা দেশের ওয়ার্ড, ইউনিয়ন পর্যন্ত এই অনুষ্ঠানগুলো আলাদা গুরুত্ব দিয়ে পালন করবেন তারা।

বছরব্যাপী এই কর্মসূচির মাধ্যমে উদযাপিত হবে জন্মশতবার্ষিকী। ইতোমধ্যে বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজনের বিশেষ পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছে ক্ষমতাসীনরা। জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীসহ জেলা-উপজেলা নেতাকর্মীদের ইতোমধ্যে নিদের্শনা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নেত্রীর নির্দেশনায় জেলা-উপজেলাকে সাজাতে হিসাব কষতে শুরু করেছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

শুধু তাই নয়, জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ঘোষিত মুজিববর্ষতে বিএনপি-জামায়াতসহ সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চায় আওয়ামী লীগ। এজন্য রাজনীতির মাঠেও বিশেষ কৌশলে নেতৃত্ব দেবে দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মেজাম্মেল হক আমার সংবাদকে বলেন, বঙ্গবন্ধু সারাজীবন সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য কাজ করতেন। তার ইচ্ছে ছিলো সাধারণ মানুষকে ঘিরে।

সেই লক্ষেই তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এবারের বাজেট হবে রেকর্ড বাজেট। বিগত ১০ বছরের উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় এবারের বাজেটের মাধ্যমে স্বপ্নপূরণের কিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে।

উল্লেখ্য, একাদশ জাতীয় সংসদে আজ ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করা হবে। ৩০ জুন বাজেট পাস হবে। ১৪ ও ১৫ জুন দুদিন বন্ধ থাকার পর ১৬ জুন সম্পূর্ণ বাজেটের ওপর আলোচনা হবে। ১৭ জুন সম্পূরক বাজেট পাস করা হবে। ১৮ জুন থেকে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। ২২ ও ২৯ জুন এই দুই শনিবার অধিবেশন কার্যক্রম চলবে। প্রতিদিন বিকাল ৩টায় অধিবেশন শুরু হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত