শিরোনাম
ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি

বিএনপির দুই সাংসদের বক্তব্যে সংসদে উত্তাপ

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১২:১৬, জুন ১২, ২০১৯

মাত্র ৬ জন সদস্য নিয়ে সংসদে যাওয়া বিএনপি বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনেই উত্তাপ ছড়ালো। সংসদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন এবং চাঁদ দেখা বিতর্কে ধর্মপ্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে ১১ জুন উত্তাল হয় সংসদ। পরে স্পিকার বিশেষ অনুরোধে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

বিএনপির পাশাপাশি এ দিন জাতীয় পার্টির এমপিরাও কড়া বক্তব্য রাখেন সংসদে। এ সময় সরকারদলীয় এমপিরা এসবের প্রতিবাদ করেন।

চাঁদ দেখা নিয়ে বিতর্ক ইস্যুতে সংসদে জোড়ালো বক্তব্য রাখেন বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ। এ নিয়ে তিনি ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগও দাবি করেন। তিনি ধর্ম যার যার উৎসব সবার এ বক্তব্যেরও কঠোর সমালোচনা করেন।

এদিকে বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা সংসদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন। যা নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজনের দাবিতে সংসদ জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় শব্দটি এক্সপাঞ্জ করেন স্পিকার।

১১ জুন মাগরিবের নামাজের বিরতির পর স্পিকারের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হলে পয়েন্ট অব অর্ডারে সংসদে উত্তাপ ছড়ায়।

চাঁদ দেখা নিয়ে বিভ্রাটসহ বিভিন্ন বিষয়ে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য রাখেন সরকারি দলের সদস্য নুরুল ইসলাম সুজন, বিরোধী দল জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ, ফখরুল ইমাম, ডা. রুস্তম আলী ফরাজী, পীর ফজলুর রহমান, বিএনপির হারুনুর রশীদ, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ও সরকারি দলের পংকজ দেব নাথ।

রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, বিএনপির একজন সংসদ সদস্য নিজে শপথ নিয়ে বর্তমান সংসদ যে বৈধ, তার প্রমাণ দিয়েছেন। আবার অধিবেশনে সংসদকে অবৈধ বলে দেশের ১৬ কোটি মানুষকে অপমাণিত করেছেন, ভোটারদের অবমাননা করেছেন।

বিএনপির হারুন অর রশিদ ঈদের চাঁদ দেখা নিয়ে বিভ্রাটের সমালোচনা করে বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম হচ্ছে ইসলাম। ঈদের চাঁদ দেখা কমিটি রয়েছে। চাঁদ দেখা যায় সন্ধ্যার সময়। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী প্রথমে রাত ৯টায় ঘোষণা দিলেন, কোথাও চাঁদ দেখা যায়নি, ঈদ হবে না। আবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ করেই আবার বলা হলো, চাঁদ দেখা গেছে, কাল ঈদ। এ নিয়ে জনমনে মারাত্মক ভোগান্তির সৃষ্টি করেছে। এ জন্য ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছি।

তিনি বলেন, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার- এ কথা যারা বলেন তাদের জ্ঞানের অভাব রয়েছে। এ কথাটি যদি মানতে হয় তাহলে রাষ্ট্রধর্ম বাতিল করা উচিত।

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, বর্তমান সংসদ জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। টিআইবিসহ সবাই বলেছে এ সংসদ জনগণের ভোটে হয়নি। তাই খুশি হব এই সংসদের মেয়াদ যেন একদিনও না বাড়ে।

সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দী রাখা হয়েছে। তাকে রাজনৈতিক কারণে জামিন দেয়া হচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, টাকার অভাবে অনেক হাসপাতালে মানুষকে সুচিকিৎসা দিতে পারি না। অথচ পত্রিকায় দেখলাম, যেখানে হাসপাতাল নেই অথচ যন্ত্রপাতি কিনতে জার্মান যাচ্ছে একটি প্রতিনিধি দল। আবার অনেক যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে কিন্তু সেগুলো ব্যবহার করার সুযোগ না থাকায় পড়ে আছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রীর কাছে অনুরোধ যেসব যন্ত্রপাতি পড়ে আছে দয়া করে আমাদের দিয়ে দেন।

আরআর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত