শিরোনাম

ছুটির দিনে উপচেপড়া ভিড়

প্রিন্ট সংস্করণ॥এনায়েত উল্লাহ  |  ০১:৩০, মে ১১, ২০১৯

রমজান মানেই ইবাদতের মাস। যাকে অনেকেই পুণ্য অর্জনের জন্য হাইব্রিড মাসও বলে থাকেন। এ মাসে থাকে বিভিন্ন ধরনের আয়োজন। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ইফতার। আর ইফতারের জন্য বিখ্যাত রাজধানীর চকবাজার। বিখ্যাত ইফতারের আলোচনা সামনে এলেই এ বাজারের নাম চলে আসে।

ইফতারের জন্য বিশেষ সুনাম রয়েছে চকবাজারের। বিশ শতকের গোড়ার দিকে যেমন, এখনো তেমনি রমজানে ইফতারির এ বাজার। প্রতিদিন দুপুরের পর থেকেই বাহারি আইটেমেরে ইফতারে সেজে উঠে চকবাজার। চকবাজার পুরান ঢাকার লালবাগের একটি জনপ্রিয় বাজার। কাবাবের কথা এলেই চকবাজারের নামটিও আসবে। চকবাজারের কাবাব খুব বিখ্যাত। ইফতারের বাজারেও বিভিন্ন আইটেমের কাবাব দেখা যায়।

গতকাল ছুটির দিন থাকাতে উপচেপড়া ভিড় ছিল এই ইফতারি বাজারে। চকবাজার ঘুরে দেখা যায়, দুপুরের পর থেকেই দোকানিরা বৈচিত্র্যে ভরপুর লোভনীয় ইফতারসামগ্রী থরে থরে সাজিয়ে রাখছেন টেবিলে। বাহারি সেই ইফতার কিনতে উপচেপড়া ভিড় ছিল ক্রেতাদের। লোভনীয় ইফতার সংগ্রহ করতে পুরো রাজধানী থেকেই ক্রেতারা আসেন এ মার্কেটে। এমনকি ঢাকার বাইরের মানুষও আসেন এখান থেকে ইফতার কিনতে।

বিশেষ করে বড় ‘বাপের পোলায় খায়’ কাবাব কিনতে আসেন এখানে অনেকেই। বেসরকারি চাকরিজীবী আব্দুর রহমান মিরপুর থেকে চকবাজারে এসেছেন বড় বাপের পোলায় খায় কিনতে। তিনি বলেন, রোজা শুরুর পর থেকেই ছেলেমেয়েরা আবদার করে আসছে। চাকরির জন্য আসতে সময় পায়নি। আজকে ছুটির দিন থাকাতে আসলাম।

ঐতিহ্যবাহী ইফতার ক্রয়ে পিছিয়ে নেই পুরান ঢাকার মানুষও। তারাও অন্যদের মতো ইফতার কিনতে আসেন চকবাজারে। পুরান ঢাকার স্থায়ী বাসিন্দা শিপলু রহমানের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, পুরান ঢাকার প্রতি ঘরে ঘরেই রমজানে ইফতারি বানানোর রেওয়াজ আছে।

তারপরও পুরান ঢাকার বাসিন্দারা সবসময় বাইরের খাবারের প্রতি বেশি আকর্ষণবোধ করেন। এ জন্য বাহারি রকমের ইফতারির টান সেই আদিকাল থেকেই চলে আসছে পুরান ঢাকাবাসীর মধ্যে। তাই ঘরে তৈরির পাশাপাশি বাজার থেকেও প্রচুর ইফতার কিনে থাকেন। বাজার ঘুরে দেখা যায়, রকমারি ইফতারির সাজে চকবাজার ইফতারিপাড়া অনেকটাই মোগল ঐতিহ্যের ধারক।

এখানকার ইফতারির মধ্যে উল্লেখযোগ্য- আস্ত মুরগির কাবাব, মোরগ মুসাল্লম, বটি কাবাব, টিকা কাবাব, কোফ্তা, চিকেন কাঠি, সামি কাবাব, শিকের ভারী কাবাব, সুতি কাবাব, কোয়েল পাখির রোস্ট, কবুতরের রোস্ট, জিলাপি, শাহী জিলাপি, নিমকপারা, সমুচা, আলাউদ্দিনের হালুয়া, হালিম, দইবড়া, সৌদি পানীয় লাবাং, কাশ্মীরি শরবত, ইসবগুলের ভূষি, পুরি এবং ৩৬ উপকরণের মজাদার খাবার ‘বড়বাপের পোলায় খায়’সহ নানা পদ।

পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ইফতার, পসরা সাজিয়ে বসে ক্রেতা আকর্ষণের চেষ্টা ব্যবসায়ীরা জানান, বাহারি ইফতারের মধ্যে সুতি কাবাব কেজিপ্রতি ৬০০-৬৫০ টাকা, খাসির সুতি কাবাব ৮০০-৮৫০, সামি কাবাব ৪০-৫০, টিক্কা কাবাব ৩০-৪০, চাপালি কাবাব প্রতি পিস ৫০-৬০, মুরগির রোস্ট প্রতি পিস ১২০-২৫০, আস্ত মুরগি মোসাল্লামের পিস ৩৫০-৪০০ টাকা।

এছাড়া দুধ ও পেস্তা বাদামের শরবত লিটার প্রতি ২০০-২৫০ টাকা, লাবাং ২৫০-২৮০ টাকা, ফালুদা বড় বক্স ১৫০-২০০ টাকা। আর জিলাপির আকার ভেদে কেজি ১৫০-২০০ টাকা এবং ঘিয়ে ভাজা জিলাপি ৪০০- ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া টানা পরোটা ৩০-৪০ টাকা, খাসির মাংসের কিমা পরোটা ৬০-৭০ টাকা, গরুর মাংসের কিমা পরোটা ৪০-৫০ টাকা এবং ৫-১০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে বেগুনি, পেঁয়াজু, আলুর চপ ও সমুচা। আর বড় বাপের পোলায় খায় প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকায়। এ ছাড়া খাসির লেগ রোস্ট প্রতি পিস ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পুরান ঢাকার চকবাজার, সদরঘাট, বাবুবাজার, নবাবপুর রোড, কোর্ট-কাচারি এলাকা, ওয়ারি, চাঁনখারপুল, মিটফোর্ড, আরমানীটোলাসহ অন্যান্য প্রায় সব এলাকায় রমজান মাসে ইফতারির সমারোহ লক্ষ করা যায়।

তাই এই রমজানে কিছুটা ভিন্ন স্বাদ এবং পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী খাবার উপভোগ করতে এখানে ঘুরতেও আসেন অনেকে। বাহারি আইটেমের ইফতার হাতে নিয়ে কুমিল্লার সেলিম মিয়া বলেন, একটি কাজে ঢাকায় এসেছিলাম। ভাবলাম চকবাজারের ইফতার তো খুব নামকরা। তাই বাড়ির জন্য বিভিন্ন ইফতার কিনলাম। সেলিম মিয়ার মতো ঢাকার বাইরে থেকে প্রতিদিনই এমন অনেকেই আসেন বড় বাপের পোলায় খায় নিতে।

বড় বাপের পোলায় খায় বিক্রেতা মারুফ হোসেন বলেন, আমরা চার পুরুষ এ ব্যবসা করছি। ঢাকার বাইরে আমাদের পরিচিত অনেক মানুষ রয়েছেন। তারা প্রতি বছরই আমাদের এখান থেকে ইফতার কিনতে ঢাকায় আসেন। এভাবেই প্রতিটি ইফতার ব্যবসায়ী বলেন, ছুটির দিন হিসেবে অন্যদিনের ছেয়ে আজকে বেচাবিক্রি অনেক ভালো। প্রতি শুক্র, শনিবারই উপচেপড়া ভিড় হয় বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত