শিরোনাম

উড়োজাহাজ সংকটে বিমান

প্রিন্ট সংস্করণ॥আব্দুল লতিফ রানা  |  ০০:৩০, মে ১১, ২০১৯

মিয়ানমারের ইয়াংগনে ড্যাশ ৮-কিউ-৪০০ ফ্লাইট দুর্ঘটনার পর উড়োজাহাজ সঙ্কটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জটিলতায় পড়েছে। ওই দুর্ঘটনার পর অভ্যন্তরীণ রুটের সাতটি ফ্লাইট বাতিল করতে বিমান কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়েছে।

হঠাৎ করেই একটি উড়োজাহাজ বিকলের ঘটনায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। জানা গেছে, আগামী সোমবার পর্যন্ত ঢাকা থেকে সৈয়দপুর, সিলেট, যশোর ও রাজশাহী রুটে সাতটি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে।

বাংলাদেশ বিমানের একটি উড়োজাহাজ ৩৫ জন আরোহী নিয়ে গত বুধবার সন্ধ্যায় খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে মিয়ানমারের ইয়াংগন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে।

এই দুর্ঘটনায় কারো মৃত্যু না হলেও ফ্লাইটের ১৯ জন যাত্রীকে সেখানকার হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। আর এ ঘটনায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় কানাডার কোম্পানি বম্বার্ডিয়ারের তৈরি ড্যাশ-৮ উড়োজাহাজটি।

এই দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে ছয়জন ক্রুসহ মোট ১০ জনকে গতকাল শুক্রবার রাত ১০ টার দিকে দেশে আনা হচ্ছে বলে বিমানের জনসংযোগ শাখার জিএম শাকিল মেরাজ গতকাল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এভিয়েশন সেফটি নেটওয়ার্কের এক সূত্র জানায়, ওই বিমানে আগুন না ধরলেও ফিউজিলাজ ভেঙে তিন টুকরো হয়েছে। আর ফরোয়ার্ড প্যাসেঞ্জার ডোরের পেছনে এবং রিয়ার সার্ভিস ডোরের ঠিক পেছনে কাঠামো ভেঙে গেছে। শুধু তাই নয়, উড়োজাহাজটির নিচের তলাও ফেটে গেছে। আর ডান পাশের ডানও জোড়া থেকে ভেঙে গেছে।

বাংলাদেশ বিমান প্রতি বছর ঈদের সময় অভ্যন্তরীণ রুটগুলোতে বাড়তি ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে। আর তিনটি ড্যাশ-৮ উড়োজাহাজ দিয়ে ঢাকা থেকে সৈয়দপুর, রাজশাহী, বরিশাল, যশোর, সিলেট, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার রুটে এবং বোয়িং ৭৮৭, ৭৭৭ ও ৭৩৭ উড়োজাহাজ দিয়ে সিলেট, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার রুটে ফ্লাইট চালানো হয়।

এবার উড়োজাহাজ নিয়ে সঙ্কট তৈরি হওয়ায় অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়টি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে দুটো উড়োজাহাজ ভাড়ায় আনা হচ্ছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

সূত্রটি আরো জানায়, আলাফকো এভিয়েশন লিজ অ্যান্ড ফাইন্যান্স কোম্পানির কাছ থেকে ছয় বছরের জন্য দুটি বোয়িং-৭৩৭ এয়ারক্রাফট লিজ নেয়া হচ্ছে। এর একটি গতকাল শুক্রবারই বিমান বহরে যুক্ত হওয়ার কথা। তবে আগামি ১০ জুন আরেকটি বিমান যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

এই দুটো উড়োজাহাজ দিয়ে সিলেট, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সৈয়দপুর, রাজশাহী, বরিশাল ও যশোরে ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। তখন এয়ারক্রাফটের সঙ্কট আর থাকবে না, যাত্রীদেরও অসুবিধা হবে না। সূত্র জানায়, রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমানের বহরে বর্তমানে ১৩টি উড়োজাহাজ রয়েছে।

এর মধ্যে দুটি বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার, চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০, চারটি ৭৩৭-৮০০ ও তিনটি ড্যাশ-৮। এর মধ্যে একটি বোয়িং-৭৩৭ মেরামতের জন্য গ্রাউন্ডেড। আর মিয়ানমারে দুর্ঘটনায় একটি ড্যাশ-৮ উড়োজাহাজ অকেজো হয়ে গেছে। যা আর কোনো দিন ব্যবহার করা সম্ভব হবে না।

এদিকে মিয়ানমারের ইয়াংগন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুর্ঘটনায় পড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজের পাইলট ও ক্রুসহ ছয়জন গতকাল শুক্রবার দেশে ফিরছেন।

ইয়াংগনের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত যাত্রীদের মধ্যে কেউ ছাড়া পেলে এবং দেশে ফিরতে চাইলে তাদেরও নিয়ে আসা হবে বলে বিমানের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শাকিল মেরাজ জানিয়েছেন।

তিনি আরো জানান, বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইট গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ইয়াংগনের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। মিয়ানমারের আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুইজন পাইলট, দুইজন কেবিন ক্রু এবং দুইজন গ্রাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারসহ রাতেই মোট ১০ জন দেশের পথে রওনা হবেন জানিয়েছেন তিনি।

গত বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকা শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে ২৯ জন যাত্রী, চারজন ক্রু ও দুইজন গ্রাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারসহ মোট ৩৫ জন আরোহী নিয়ে মিয়ানমারের পথে রওনা হয়েছিল বিমানের ফ্লাইট বিজি ০৬০।

কিন্তু ইয়াংগনে নামার সময় উড়োজাহাজটি বজ্রঝড়ের কবলে পড়ে এবং অবতরণের পর রানওয়ে থেকে ছিটকে যায়। এ ঘটনায় বিমানের আরোহীদের সবাই ওই দুর্ঘটনায় কমবেশি আঘাতপ্রাপ্ত হন। আর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিমানের ড্যাশ ৮-কিউ-৪০০ উড়োজাহাজটি।

আরোহীদের মধ্যে অন্তত ১০ জনকে বিমানবন্দরেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। আহতদের মধ্যে ১৮ জনকে বিমানবন্দরের কাছে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে চারজনকে গত বুধবার রাতেই হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেয়া হয়।

আর অন্য উন্নত চিকিৎসার জন্য একটি ক্লিনিকে ভর্তি করে বিমান কর্তৃপক্ষ। দুর্ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে আসা ছবিতে ওই বিমানের পাইলট শামীম নজরুলকে রক্তাক্ত অবস্থায় হেঁটে বিমান থেকে টার্মিনালে আসতে দেখা গেছে। তাকেও হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হয়।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত