শিরোনাম

ওয়াসার পানি : গ্রাহকরা সত্য-মিথ্যার দোলাচলে

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১৮:৫৩, এপ্রিল ২০, ২০১৯

শুষ্ক মৌসুমে ঢাকার ওয়াসার পানি সরবারাহ নিয়ে গ্রাহকরা প্রতি নিয়ত ভোগান্তির মধ্যে থাকেন। এর মধ্যে আবার পানির বিশুদ্ধতা নিয়ে দুটি প্রতিষ্ঠান দুই ধরনের প্রশ্ন তুলছৈ। জনমনে প্রশ্নের উদয় হয়েছে। কে সত্য আর কে মিথ্যা তথ্য দিচ্ছে। নাকি দুই প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।

দুর্নীতিবিরোধী সংগঠন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) থেকে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রত্যাখ্যান করেছে ঢাকা ওয়াসা। শনিবার (২০ এপ্রিল) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনে করে এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেন ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খান। তিনি বলেছেন, ওয়াসা ৯৮ ভাগ দুর্নীতিমুক্ত এবং পানি শতভাগ সুপেয়।

তাকসিম এ খান বলেন, কোনো সংস্থা সম্পর্কে প্রতিবেদন তৈরি করতে যেসব ডাটা কালেক্ট করতে হয় তা করেনি। ওয়াসার পানি টেস্ট করেনি। এটা প্রফেশনাল কোনো গবেষণার প্রতিবেদন নয়, এটা একটা রিপোর্টের মতো। এটা নিম্নমানের ও ঢালাও রিপোর্ট।

রিপোর্টে টিআইবি নিজেদের পাসপেক্টিভ উল্লেখ করেছে, এটা বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে ডাটা কালেক্ট করতে পারেনি। রিপোর্টে উল্লেখ করা ওয়াসার অনিয়মের অভিযোগটি ঢালাও। দুর্নীতি নেই এমন খাত খুঁজে পায়নি টিআইবি এ ব্যাপারে ওয়াসার এমডি বলেন, ওয়াসায় কোনো ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি নেই। প্রতিষ্ঠানটি ৯৮ শতাংশ দুর্নীতিমুক্ত বলে দাবি করেন।

‘ঢাকা ওয়াসার নিম্নমানের পানির কারণে প্রতি বছর পানি ফোটাতে অপচয় ৩৩২ কোটি টাকা’ টিআইবির গবেষণার এমন ফলাফলের বিষয়ে তাকসিম এ খান বলেন, এ তথ্য সম্পূর্ণ হাইপোথেটিক্যাল এবং বাস্তবতা বিবর্জিত। এটা একটা স্ট্যান্টবাজি। ঢাকায় বসবাসরত এক কোটি ৭২ লাখ লোক সবাই পানি ফুটিয়ে পান করেন না। ফোটানোর প্রয়োজনও পড়ে না। ওয়াসার সরবরাহকৃত পানি শতভাগ বিশুদ্ধ ও সুপেয়। তবে মাঝে মাঝে পুরনো পাইপলাইন ও বাসার ট্যাংকি ময়লা হওয়ার কারণে পানি দূষিত হয়।

টিআইবি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ৬১ শতাংশ গ্রাহক অভিযোগের নিষ্পত্তি হয় না। এর জবাবে তাকসিম বলেন, ঢাকা ওয়াসার একটি নিজস্ব কল সেন্টার রয়েছে, যা ১৬১৬২। এখানে এ যাবতকালে মোট ১১ হাজার ৩৬৭টি অভিযোগ এসেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে এ পর্যন্ত ১১ হাজার ২০৫টি সমস্যার নিষ্পত্তি করেছি, যা ৯৭ শতাংশ থেকে ৯৮ শতাংশ। টিআইবি কাদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছে তা আমাদের জানা নেই।

তিনি আরো বলেন, টিআইবির গবেষণার ফলাফলের প্রচারণার ধরন, কৌশল ও অ্যাপ্রোচ দেখে এটা সহজেই দৃষ্টিগোচর হচ্ছে যে, গবেষণার পারসেপশনভিত্তিক মনগড়া তথ্য দিয়ে ঢাকা ওয়াসাকে জনসম্মুেেখ হয়েপ্রতিপন্ন করাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার টিআইবি গবেষণা উপস্থাপন করে জানায়, ঢাকা ওয়াসার পানির নিম্নমানের কারণে ৯৩ শতাংশ গ্রাহক বিভিন্ন পদ্ধতিতে পানি পানের উপযোগী করে। এর মধ্যে ৯১ শতাংশ গ্রাহকই পানি ফুটিয়ে পান করে। গৃহস্থালি পর্যায়ে পানি ফুটিয়ে পানের উপযোগী করতে প্রতিবছর আনুমানিক ৩৩২ কোটি টাকার গ্যাসের অপচয় হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত