শিরোনাম

বয়সসীমা ৩৫ প্রত্যাশীদের মহাসমাবেশ আজ

প্রিন্ট সংস্করণ॥রাসেল মাহমুদ  |  ০০:৪৯, এপ্রিল ২০, ২০১৯

*আসতে পারে আলটিমেটাম
*২৬ এপ্রিল প্রেস ক্লাবে অবস্থান
*ডাকসু ভিপি-জিএসের সমর্থন

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ বছর করার দাবিতে দীর্ঘদিন আন্দোলন চললেও কার্যত তা ব্যর্থ। এখন পর্যন্ত দাবি আদায় হয়নি। একাধিকবার আশ্বাস পেলেও তা আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। ফলে অনাস্থা বিরাজ করছে চাকরিপ্রত্যাশী লাখ লাখ তরুণের মাঝে। দাবি আদায়ের জন্য তাই মহাসমাবেশে মিলিত হচ্ছেন তারা। আজ শনিবার বিকাল ৩টায় রাজধানীর শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে এই মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সমাবেশ থেকে সরকারকে সময় বেঁধে দেওয়া হতে পারে। এছাড়া বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণাও আসতে পারে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। এছাড়া দাবি আদায়ের জন্য ২৬ এপ্রিল জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পানল করবে আন্দোলনকারীদের অন্য একটি পক্ষ।আজকের সমাবেশকে কেন্দ্র করে ঢাকাসহ দেশের প্রায় সব জেলায় প্রচারণা চালানো হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গত কদিন ধরে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছে আন্দোলনকারীরা। ব্যানার, পোস্টার আর ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে শাহবাগসহ আশপাশের এলাকা। আন্দোলনকারীরা বলছেন, এ সমাবেশে সারা দেশ থেকে চাকরিপ্রত্যাশী লাখো তরুণ অংশ নেবে। যারা মনে-প্রাণে চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ বছর চায়। সমাবেশ সফল করতে গত বুধবার একটি সভাও করেছে আন্দোলনের প্লাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদ। সংগঠনটির ওই সভায় সমাবেশের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। সভায় কমিটির আহ্বায়ক ও সব যুগ্ম-আহ্বায়কদের সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত হয়। সংগঠনের শীর্ষ নেতারা ২০ এপ্রিলের সমাবেশে সকলকে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন-অর-রশিদ আমার সংবাদকে বলেন, আমরা বিভিন্ন সময় সরকারের কাছ থেকে বিভিন্ন আশ্বাস পেয়েছি। কিন্তু বাস্তবে তা পূরণ হয়নি। এজন্য কঠোর কর্মসূচি ছাড়া তা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। এজন্য আমরা মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছি। এই সমাবেশে সারা দেশ থেকে চাকরিপ্রত্যাশী তরুণ-তরুণী অংশ নেবে। যারা মনে-প্রাণে ৩৫ চায়। তিনি আরও বলেন, এবার আর কোনো আশ্বাস নয়, আমরা সরকারকে সময় বেঁধে দেবো। বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্য দাবি আদায় না হলে আরও বড় কর্মসূচি ঘোষণা করবো। কারণ আমরা আর সময় নষ্ট করতে চাই না।এদিকে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানো যৌক্তিক মনে করে এই দাবি পূরণের লক্ষ্যে সংসদ অধিবেশনে সিদ্ধান্ত প্রস্তাব আনা হচ্ছে। ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি এবং সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এ প্রস্তাব আনবেন। কিন্তু আন্দোলনকারীদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করেন এটা স্রেফ আই ওয়াশ। সরকার ৩৫ বছর করার পক্ষে না। যদি তাই হতো, তাহলে অনেক আগেই দাবি মেনে নিতো। নিয়মিত আন্দোলনে অংশ নেন এমন একজন চাকরিপ্রত্যাশী নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমার সংবাদকে বলেন, আন্দোলনকারীদের মধ্য দুটি পক্ষ হয়ে গেছে। যে কারণে সরকার সুযোগ পেয়ে গেছে। আমরা যখনই কর্মসূচি পালনের চিন্তা করি বা ঘোষণা দিই, সরকারের পক্ষ থেকে তখন কিছু না কিছু পজিটিভ ফিটব্যাক আসে। তাই সংসদ অধিবেশনে রাশেদ খান মেননের সিদ্ধান্ত প্রস্তাব আনার বিষয়টি মানতে কষ্ট হচ্ছে। এরপরও আমরা আশাবাদী সরকার আমাদের দাবি মেনে নেবে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হবে আগামী ২৪ এপ্রিল। ইতোমধ্যে সংসদের আইন শাখা-২ সিদ্ধান্ত প্রস্তাবটি জমা দিয়েছেন। সংসদে সিদ্ধান্ত প্রস্তাবটি গৃহিত হলে এ বিষয়ে সরকারের কাজ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। রাশেদ খান মেনন বলেন, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর দাবি তরুণ সমাজের দীর্ঘদিনের। এটি আমার কাছে একটি যৌক্তিক দাবি বলে মনে হয়, এ জন্য সিদ্ধান্ত প্রস্তাবটি আনা হবে। আমার সিদ্ধান্ত প্রস্তাবটি হলো— ‘সংসদের অভিমত এই যে, সরকারি-বেসরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর ও অবসর গ্রহণের বয়সসীমা ৬২ করা হোক।’সরকারি চাকরি শুরুর করার বয়সসীমা বাড়ানোর দাবিতে গত সাতবছর ধরে আন্দোলন করে আসছে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদ। তাদের দাবি, বর্তমানে বেঁধে দেওয়া বয়স ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ করতে হবে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এবং চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে সরকারের কাছে আরও জোরালোভাবে দাবি জানানোর লক্ষ্যে নতুন এই কর্মসূচি।সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ বছর থেকে বাড়িয়ে ৩৫ বছর করার দাবিতে সমর্থন দিয়েছেন ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুলহক নুর ও জিএস গোলাম রাব্বানী। আন্দোলনকারীরা তাদের সাথে সাক্ষাৎ করলে তাতে সমর্থন দেন তারা। এছাড়া বিভিন্ন সময় দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন ডাকসুর শীর্ষ দুই নেতা। আবার ৩৫ বছরের দাবির প্রতি সমর্থন দিয়েছেন বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।২৪ এপ্রিল থেকে যে স্বল্পমেয়াদি সংসদ অধিবেশন বসবে। সেই অধিবেশনেই ৩৫ বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাব পাস করে ৩০ এপ্রিলের মধ্যেই সরকার ৩৫ বাস্তবায়ন করে দেবে এবং গেজেট আকারে প্রকাশ করবে বলে আশা করেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদের নেতারা। যদি এই সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন না করা হয় তাহলে রমজানের পর সারা দেশে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে তারা জানান।এদিকে চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ বছর করা হলে তাতে কি সুফল হবে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেননের কাছে তা তুলে ধরেছেন আন্দোলনকারীদের একটি অংশ। গত বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদের সভাপতি ইমতিয়াজ হোসেনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল তার সাথে দেখা করেন। এ সময় তারা চাকরির বয়স বাড়ানোর সুফলসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। মেননও আন্দোলনকারীদের দাবিকে যৌক্তিক বলে সমর্থন করেন এবং তাদের পাশে থাকার কথা জানান। মেনন বলেন, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে তরুণরা আন্দোলন করছে। এটি আমার কাছে এ কারণে যৌক্তিক মনে হয় এবং এ কারণেই আগামীতে সংসদে সিদ্ধান্ত প্রস্তাবটি আনা হবে।বিষয়টি নিয়ে ইমতিয়াজ হোসেন আমার সংবাদকে বলেন, রাশেদ খান মেনন যেহেতু ৩৫-এর বিষয়টি দেখভাল করছেন; তাই তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। শুধু তাই নয়, আগামী ২৬ তারিখ সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আমরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করবো। তাকে সেখানে আসার জন্য অনুরোধ করেছি। আশা করছি তিনি আসবেন। তিনি আরও বলেন, শনিবারের মহাসমাবেশে ছাত্রসমাজ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেবে। এর বাইরে আগামী ২৬ এপ্রিল জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতেও চাকরিপ্রত্যাশীদের অংশগ্রহণ হবে চোখে পড়ার মতো। দাবি এখন একটাই— বয়স বাড়িয়ে ৩৫ বছর করা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত