শিরোনাম

চাঁদাবাজি বন্ধসহ ১১ দফা দাবি : শ্রমিক ধর্মঘটে অচল নৌপথ

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১২:১৯, এপ্রিল ১৬, ২০১৯

চাঁদাবাজি বন্ধসহ ১১ দফা দাবিতে সারাদেশে লাগাতার কর্মবিরতি পালন করছেন নৌযান শ্রমিকরা। শ্রমিকরা ধর্মঘট ডাকায় সারাদেশে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। সরকার নির্ধারিত কাঠামোয় মালিকরা বেতন না দেওয়ায় এই ধর্মঘট ডাকা হয়েছে বলে শ্রমিকরা জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) প্রথম প্রহর থেকে নৌযান শ্রমিকরা লাগাতার এই ধর্মঘট শুরু করে। ফলে সকালে ঢাকার সদরঘাট থেকে কোনো লঞ্চ ছেড়ে যায়নি। অনেকেই ঘাটে এসে কোনো লঞ্চ না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন।

শ্রমিকদের ১১ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, নৌপথে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, শ্রমিক নির্যাতন বন্ধ, সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার এবং নৌযান শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। দুর্ঘটনায় কর্মস্থলে কোনো শ্রমিকের মৃত্যু হলে তার পরিবারকে ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। সেই সঙ্গে সমুদ্র ভাতা ও রাত্রিকালীন ভাতা নির্ধারণ করতে হবে।

বিআইডব্লিউটিএর পরিবহন পরিদর্শক দিনেশ কুমার সাহা বলেন, “সকালে সদরঘাটে অনেক যাত্রী এসেছিল। কিন্তু লঞ্চ না চলায় তারা ফিরে যান।” সোমবার রাত ১২টার পর সদরঘাট থেকে কোনো লঞ্চ ছাড়েনি। তবে দক্ষিণাঞ্চল থেকে রাত ১২টার আগে ছেড়ে আসা ৪৩টি লঞ্চ সদরঘাটে এসেছে।

মিতালী নামে একটি লঞ্চের মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, “সরকার কর্তৃক নির্ধারিত বেতন মালিকরা আমাদের এখনও দিচ্ছে না। আমাদের কোনো ইনক্রিমেন্ট নেই, নেই কোনো নিরাপত্তা। “তাই এসব দাবিতে যাত্রীবাহী, মালবাহি, তেলবাহী সব ধরনের নৌযান চলাচল আমরা বন্ধ রেখেছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা লঞ্চ চালাব না।”

এর আগে গতশনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে ১৫ এপ্রিলের মধ্যে নৌ শ্রমিকদের ১১ দফা দাবি বাস্তবায়িত না হলে ১৫ এপ্রিল মধ্যরাত ১২টা ১ মিনিট থেকে কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দেন বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের নেতারা।

ওই সমাবেশে বক্তারা বলেন, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে ১১ দফা দাবি নিয়ে সরকার, মালিক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে জানানোর পরও কার্যকরী কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। যে কারণে কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হচ্ছি আমরা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত