শিরোনাম

পদত্যাগ করলেন কাশ্মিরের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক  |  ০০:৫৪, জুন ২০, ২০১৮

ভারতের জম্মু ও কাশ্মির সরকারের জোট থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি(বিজেপি)। এই কারণে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মেহবুবা মুফতি। কারণ বিজেপির সঙ্গে জোট বেঁধেই মেহবুবার দল পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি (পিডিপি) এত দিন উপত্যকায় সরকার চালাচ্ছিল।

মঙ্গলবার (১৯জুন) দুপুরে নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন করে কাশ্মির সরকার থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্তের কথা জানান বিজেপির সাধারণ সম্পাদক রাম মাধব।

তিনি বলেন, ‘কাশ্মিরে পিডিপির সঙ্গে পথচলা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সরকার থেকে সরে আসা ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না।’

এরপরেই রাজভবনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি তার ইস্তফাপত্র জমা দিয়ে আসেন। বিজেপি কাশ্মিরে রাজ্যপালের শাসন চায়, বৈঠকে এমনটা জানিয়েছিলেন রাম মাধব।

কাশ্মির বিধানসভায় মোট ৮৭টি আসন। ২০১৪-র মে মাসে উপত্যকায় যে নির্বাচন হয়, সেখানে পিডিপি পেয়েছিল ২৮টি আসন। বিজেপি পেয়েছিল ২৫টি। এ ছাড়া ওমর আবদুল্লার দল ন্যাশনাল কনফারেন্স ১৫টি, কংগ্রেস ১২টি এবং অন্যান্যরা ৭টি আসন পেয়েছিল। বিজেপি এবং পিডিপি যৌথভাবে ম্যাজিক সংখ্যা ৪৪ ছাড়িয়ে ৫৩-য় পৌঁছায়। সেই জোটই এত দিন সরকার চালাচ্ছিল উপত্যকায়।

রাম মাধব নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, ‘সন্ত্রাস, হিংসা এবং কট্টরবাদ উপত্যকায় সাধারণ নাগরিকদের মৌলিক অধিকারকে খর্ব করছিল। শুজাত বুখারির খুন তার উদাহরণ।’

তিনি জানান, কাশ্মির মন্ত্রিসভা থেকে বিজেপির সকল সদস্য আজই পদত্যাগ করবেন।

এরপরেই তার সংযোজন, ‘দেশের নিরাপত্তা এবং সংহতির মতো বৃহৎ স্বার্থকে মাথায় রেখে বলতেই হয়, কাশ্মির ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সে কারণেই আমরা সরকার থেকে সরে এসে রাজ্যের ভার রাজ্যপালের হাতে তুলে দিতে চেয়েছি।’

রমজান মাসে উপত্যকায় অস্ত্র বিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কেন্দ্র। রমজান মিটতে সোমবার ফের নিরাপত্তাবাহিনী কাশ্মিরের পথে নামে। আর এতেই আপত্তি মেহবুবা মুফতির দলের।

দিল্লি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে আলোচনায় বসুক, এমনটাই চায় পিডিপি প্রধান মেহবুবা। কিন্তু সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে দাড়ি না টানলে কেন্দ্র যে কোনও আলোচনাতেই আগ্রহী নয়, সেকথা স্পষ্ট করে দেয়া হয় দিল্লির তরফে।এরপরই সংঘাত চরমে ওঠে। এমতাবস্থায় রাজ্যের বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। সেই বৈঠকের পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় পদ্ম শিবির।

যদিও রাম মাধব এ দিন স্বীকার করে নিয়েছেন, পিডিপির সঙ্গে এই বিরোধ জোটের শুরুর দিন থেকেই ছিল।

তার কথায়, ‘আদর্শগত কোনও মিল না থাকা সত্ত্বেও আমরা সে দিন উপত্যকায় পিডিপি-র সঙ্গে হাত মিলিয়ে ছিলাম শুধু জনগণের রায়কে সম্মান জানাতে। না হলে, সেই সময়েই রাজ্য রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যপালের শাসনে চলে যেত।’

সূত্র: এনডিটিভি ও আনন্দবাজার

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত