শিরোনাম

রাজনীতিতেও সুন্দর মুখের জয়

প্রিন্ট সংস্করণ॥ আমার সংবাদ ডেস্ক  |  ০১:৫২, জানুয়ারি ১৩, ২০১৮

ড্যুসেলডর্ফের গবেষকরা জরিপ করে দেখেছেন যে, আজকাল রাজনীতিতেও সুন্দর মুখের জয়। ‘সুশ্রী’ প্রার্থীরা নাকি অপেক্ষাকৃত ‘কুশ্রী’ প্রার্থীদের চেয়ে পাঁচ শতাংশের বেশি ভোট পাবার আশা করতে পারেন। অধ্যাপক উলরিশ রোজার বিষয়টি নিয়ে গবেষণা শুরু করেন ২০০২ সালে। ড্যুসেলডর্ফের সমাজতত্ত্ববিদরা সেই গবেষণাই আরো এগিয়ে নিয়ে গিয়ে দেখেছেন যে, জার্মানিতে গত সেপ্টেম্বর মাসের সংসদীয় নির্বাচনে প্রার্থীদের ‘সুশ্রীতা’ বা ‘কুশ্রীতা’ ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। বলতে কি, এর আগের কোনো নির্বাচনে প্রার্থীদের ‘চেহারা’ এই পরিমাণ গুরুত্ব পায়নি। প্রার্থীর দলগত আনুগত্য বা নীতি আজও ভোট পাওয়া-না-পাওয়ার একটা গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলেও, গবেষকরা তাদের জরিপে ওই দুটি উপাদান বাদ দিয়েছেন। গবেষক দলের লেনা মার্শের বিবৃতি অনুযায়ী, মুখ্য রাজনৈতিক দলগুলির প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় প্রথম দশজনের তালিকার শীর্ষে রয়েছেন বিরোধী বামদলের সাহরা ভাগেনকেনশট।
জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ভোট অনুযায়ী, বিশিষ্ট রাজনীতিকদের মধ্যে চিত্তগ্রাহীতায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন মুক্ত গণতন্ত্রী এফডিপি দলের প্রধান ক্রিস্টিয়ান লিন্ডনার, যিনি গত নভেম্বর মাসে তথাকথিত জামাইকা জোট সৃষ্টির পথে বাদ সাধেন।
তৃতীয় স্থানে রয়েছেন উগ্র দক্ষিণপন্থি এএফডি দলের আলিস ভাইডেল। সামাজিক গণতন্ত্রী মার্টিন শুলৎস ও রক্ষণশীল চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল রয়েছেন যথাক্রমে অষ্টম ও নবম স্থানে – এই দু’টি দল আপাতত জোট সরকার গঠনের জন্য আলাপ-আলোচনা চালাচ্ছে। সবচেয়ে আকর্ষণীয় বলে যে দুজন প্রার্থী মনোনীত হয়েছেন, তারা ফেডারাল পর্যায়ে বিশেষ পরিচিত নন। তারা হলেন হেসে রাজ্যের ভাল্ডেক থেকে আগত এএফডি প্রার্থী ইয়ান রাল্ফ নল্টে ও ডর্টমুন্ড শহরের একটি নির্বাচনি এলাকায় বামদলের প্রার্থী সেলিনে এর্লেনহোফার।
সৌন্দর্যের সংজ্ঞায় বিশেষ হেরফের নেই
ড্যুসেলডর্ফের গবেষকরা বলেছেন যে, জরিপে সংশ্লিষ্ট ১২ জন মহিলা ও ১২ জন পুরুষের মধ্যে সুশ্রীতা বা কুশ্রীতার মাপকাঠি সম্পর্কে বিশেষ পার্থক্য নেই। ২৪শে সেপ্টেম্বর জার্মান বুন্ডেস্টাগের নির্বাচনের ১,৭৮৬ জন প্রার্থীর ছবি দেখিয়ে জরিপে অংশগ্রহণকারীদের বাছাই করতে বলা হয়েছিল, কে বা কাদের তাঁরা সবচেয়ে আকর্ষণীয় বলে মনে করেন। সমাজতত্ত্ববিদ মার্শ বলেছেন, যেসব প্রার্থী আগে থেকেই সুপরিচিত ছিলেন, তারা এই জরিপে কিছুটা সুবিধা পেয়ে থাকতে পারেন। অপরদিকে শিক্ষার মান, অভিবাসনের পটভূমি, অথবা নারী কিংবা পুরুষ, এ সবের কোনো কিছুই আকর্ষণীয়তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়নি। গতবছর প্রফেসর রোজার কোলনের ‘রুন্ডশাউ’ পত্রিকাকে বলেন যে, মানুষ ‘খুবই অনুরূপ’ প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করে থাকেন ও আকর্ষণীয়তার ক্ষেত্রে একই ধরণের শারীরিক বৈশিষ্ট্যের সন্ধান করেন, যেমন, আমরা সবাই জুলিয়া রবার্টসকে খুবই আকর্ষণীয় মনে করি। অন্য সব উপাদান সমান হলে, একজন বিশেষভাবে আকর্ষণীয় প্রার্থী একজন বিশেষভাবে অনাকর্ষণীয় প্রার্থীর চেয়ে পাঁচ শতাংশ বেশি সরাসরি ভোট প্রত্যাশা করতে পারেন- একজন স্থানীয় প্রার্থী ও দলীয় তালিকার এক প্রার্থীর দৃষ্টান্ত দিয়ে মার্শ মন্তব্য করেন। যেসব দলীয় তালিকার প্রার্থীরা বিশেষ আকর্ষণীয় বলে গণ্য হন, সেইসব তালিকা তিন শতাংশ অবধি বেশি ভোট পেয়ে থাকে বলে মার্শ জানান।
অবচেতন যখন ভোট দিতে যায়...
যেসব নির্বাচনি এলাকায় প্রার্থীরা বেশি আকর্ষণীয় বলে গণ্য হন, সেখানে দৃশ্যত অনেক বেশি ভোটার ভোট দিতে যান। এই প্রসঙ্গে চাক্ষুষ প্রতীক অধ্যুষিত মাল্টিমিডিয়ার দুনিয়ায় অবচেতন যে তার ছাপ রেখে যেতে বাধ্য, মার্শ সে কথা স্মরণ করিয়ে দেন। মার্শ জানান, যখন কোনো প্রার্থীকে স্বাস্থ্যবান, আকর্ষণীয় ও শারীরিকভাবে পটু বলে মনে হয়, তখন ভোটাররা তাকে সরকারি কাজকর্মের জন্য যোগ্যতর বলে গণ্য করেন। কোনো প্রার্থী অগোছালো বা কুশ্রী হলে, ভোটাররা তাকে কম দক্ষ বলে মনে করেন।
প্রার্থীদের ব্যক্তিগত আকর্ষণীয়তা-অনাকর্ষণীয়তা অধিকতর গুরুত্ব পাওয়ার আরেকটি কারণ সম্ভবত এই যে, রাজনৈতিক দলগুলি আর কোনো বাঁধা নীতির সঙ্গে যুক্ত নয়- যেমন প্রকৃতি সংরক্ষণ আর জার্মানির সবুজদের পেটোয়া নয়। কাজেই:
‘আমরা এমন একটা যুগে বাস করছি, যখন রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে প্রতিযোগিতা ব্যক্তিগত চেহারা নিতে চলেছে।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত