শিরোনাম

বুথ ফেরত জরিপ: চতুর্থ দফায় জার্মান চ্যান্সেলর হচ্ছেন ম্যার্কেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক  |  ০০:০৭, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৭

জার্মানির সাধারণ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বুথ ফেরত প্রকাশ করেছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। বুথ ফেরত জরিপ অনুসারে আঙ্গেলা ম্যার্কেলের দল বৃহত্তম দল নির্বাচিত হয়েছে ক্ষমতাসীন খ্রিস্টান ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়ন বা সিডিইউ। ফলে চতুর্থ বারের মতো চ্যান্সেলর নির্বাচিত হচ্ছেন তিনি।

বুথ ফেরত জরিপ অনুসারে সিডিইউ পেয়েছে ৩২ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট, এসপিডি ২০ দশমিক ২ শতাংশ, বামপন্থীরা ৯ শতাংশ, গ্রিন পার্টি ৯ দশমিক ৩ শতাংশ, এফডিপি ১০ দশমিক ৫ শতাংশ, এএফডি ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ এবং অন্যান্য ৪ দশমিক ৮ শতাংশ।

এবারের নির্বাচনে মোট ৬৫টি দল অংশ নিচ্ছে। জার্মানির বর্তমান চ্যান্সেলর ও ক্ষমতাসীন খ্রিস্টীয় গণতন্ত্রী বা সিডিইউ দলের নেতা আঙ্গেলা ম্যার্কেল এবারও চতুর্থবারের মতো দলের চ্যান্সেলর প্রার্থী হয়েছেন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সামাজিক গণতন্ত্রী দল বা এসপিডি'র নেতা ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সাবেক সভাপতি মার্টিন শুলৎস। তবে এর বাইরে রয়েছে পরিবেশবাদী গ্রিন পার্টি, ফ্রিডম ডেমোক্র্যাট পার্টি (এফডিপি), বাম দল এবং কট্টর ডানপন্থি দল এএফডি।

২০০৫ সালের ফেডারেল নির্বাচনে প্রথমবারের মতো চ্যান্সেলর নির্বাচিত হন আঙ্গেলা ম্যার্কেল। সেই নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিলো ৭৭.৭ ভাগ। কিন্তু হঠাৎই এর পরের নির্বাচনগুলোতে কমে যায় উপস্থিতির হার। ২০০৯ সালের ফেডারেল নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিলো ৭০.৮ শতাংশ। ২০১৩ সালে তা কিছুটা বেড়ে দাঁড়ায় ৭১.৫ শতাংশে।

রোববার জার্মানির স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর বুথ ফেরত জরিপের প্রাথমিক ফল প্রকাশিত হয়েছে। ফল অনুসারে ম্যার্কেলের দল ভালো ফল করলেও এবারও তাদের জোট সরকার গঠন করতে হবে। তবে সিডিইউ-র ঘনিষ্ঠ মিত্র এফডিপি দল যথেষ্ট আসন না পাওয়ায় গ্রিন পার্টিকে এবার জোটে শামিল করার চেষ্টা করা হতে পারে। এমনটি হলে ম্যার্কেলের নেতৃত্বে তিনদলীয় জোটের সরকার গঠিত হবে।

নির্বাচনি পূর্বাভাস অনুযায়ী ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ ফল করেছে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটি এসপিডি দল। ম্যার্কেল-এর প্রতিদ্বন্দ্বী মার্টিন শুলৎস দলের জন্য ভোটারদের যথেষ্ট আস্থা অর্জন করতে পারেননি। তবে আসনের বিচারে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে এসপিডি প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকা পেতে পারে।

যে দলকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি উৎকণ্ঠা ছিল, সেই এএফডি দল ৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে প্রথমবারের মতো জার্মান সংসদের নিম্ন কক্ষে প্রবেশ করতে চলেছে। তবে ম্যার্কেল আবার চ্যান্সেলর হলে এবং এসপিডি দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হওয়ার ফলে এএফডি তৃতীয় বৃহত্তম শক্তি হয়েও প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা পাবে না।

আগামী ২৪শে অক্টোবর নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন বসতে পারে। ওই দিনই স্পিকার নির্বাচন করা হবে। এরপর জোট সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হলে সেই জোটের সংসদ সদস্যরা আঙ্গেলা ম্যার্কেলকে চ্যান্সেলর নির্বাচিত করবেন।

সাপ্তাহিক ছুটির দিন রবিবারে নির্বাচন আয়োজন জার্মানির ঐতিহ্য। জার্মানির নির্বাচন আইন অনুযায়ী, নির্বাচন ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব হলো জার্মানির নির্বাচন প্রশাসনের। নির্বাচনি প্রশাসন ইতোমধ্যেই ভোটারদের বাড়িতে ছয় সপ্তাহ আগে নির্বাচনি এলাকার নাম, ভোটকেন্দ্রের ঠিকানা ও ভোট দেওয়ার সময়সহ কার্ড পাঠিয়ে দিয়েছে। ভোটাররা তাদের কাছে পাঠানো নির্বাচনি কার্ড ও পরিচয়পত্র নির্বাচনি স্বেচ্ছাসেবীদের দেখিয়ে ভোট দিতে পারবেন।

ভোটাররা প্রত্যেকে দুটি করে ভোট দিতে পারবেন। একটি ভোট স্থানীয় প্রার্থীকে অপরটি দলকে। কোনও দল মোট ভোটের ৫ শতাংশ ভোট না পেলে সেই দলের সংসদে যাওয়ার সুযোগ নেই। জার্মান পার্লামেন্টে ৫৯৮ আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে সরাসরি নির্বাচন হবে, আর বাকি ২৯৯টি আসনে দলীয় ভোটপ্রাপ্তির শতাংশের হিসাব অনুযায়ী বিভিন্ন দলের তৈরি করা প্রার্থী তালিকা থেকে সংসদ সদস্য হবেন। সূত্র: ডয়চে ভেলে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত