শিরোনাম

এখনও পুড়ছে রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ি: অ্যামনেস্টি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক  |  ১৩:৩৩, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৭

রোহিঙ্গা নিধনের আগুন এখনও জ্বলছে মিয়ানমারে।রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা মুসলিমদের কিছু গ্রাম থেকে এখনও ধোঁয়া উড়ছে। এর মধ্য দিয়ে দেশটির কার্যত নেতা অং সান সু চির সেনা অভিযান বন্ধের বক্তব্যের বিপরীত চিত্র পাওয়া যাচ্ছে।

রাখাইন রাজ্যে থাকা সূত্রের বরাত দিয়ে যুক্তরাজ্যের লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল দাবি করেছে, গতকাল শুক্রবার বিকেলে রোহিঙ্গাদের গ্রাম থেকে ধোঁয়া উড়ার ছবি পাওয়া গেছে। গ্রামগুলো পুড়িয়ে দেয় মিয়ানমারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় সন্ত্রাসীরা।

অ্যামনেস্টির সংকট মোকাবিলা তথা ক্রাইসিস রেসপন্স বিভাগের পরিচালক টিরানা হাসান শুক্রবার দিবাগত রাতে এক বিবৃতিতে বলেন, ‘তৃণমূল ও মহাকাশ থেকে নেওয়া মারাত্মক এই প্রমাণ বিশ্বের কাছে অং সান সুচির করা দাবির সম্পূর্ণ বিপরীত।’

‘সন্ত্রাসে ভীত হয়ে পালিয়ে যাওয়ার আগে, পালানোর ক্ষণে এবং পরেও রোহিঙ্গাদের বাড়ি ও গ্রাম পোড়ানো অব্যাহত আছে। রোহিঙ্গাদের বাড়ি থেকে বের করে দিয়েই ক্ষ্যান্ত হয়নি, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ তাদের বাড়িতে ফেরার কোনো সুযোগ দিতে চাচ্ছে না।’

অ্যামনেস্টির ক্রাইসিস রেসপন্স পরিচালক তিরানা হাসান বলেন, এই প্রমাণ অং সান সু চির বক্তব্যের অসারতা তুলে ধরেছে।“তিন সপ্তাহ পরেও আমরা দেখছি, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতার অবসান হয়নি। রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ি, গ্রাম জ্বলছেই। মনে হচ্ছে, রোহিঙ্গাদের ফেরার কোনো উপায়ই রাখা হচ্ছে না।”
রাখাইনে এই জাতিগত নির্মূল অভিযান বন্ধে মিয়ানমারকে চাপ বাড়াতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়েছে অ্যামনেস্টি।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে প্রায় এক মাস আগে শুরু হওয়া সহিংসতার বলি হয়ে চার লাখ ২৯ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

গত ২৫ আগস্ট রাখাইন রাজ্যের ৩০টি পুলিশ ও একটি সেনা ক্যাম্পে হামলা হয়। রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (এআরএসএ বা আরসা) এই হামলার দায় স্বীকার করে। এর পর থেকে রোহিঙ্গা মুসলিমদের গ্রামে অভিযান চালায় মিয়ানমারের সেনাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় স্থানীয় বৌদ্ধ সন্ত্রাসীরা। এই অভিযানের পর থেকে এখন পর্যন্ত চার শতাধিক রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে মিয়ানমার সরকার। তবে রোহিঙ্গাদের দাবি, নিহতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশে পালিয়ে আসার সময় নাফ নদে ডুবে শতাধিক রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশু নিহত হয়েছে।

সংঘর্ষের তিন সপ্তাহ পর মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে রাখাইনে ১৫ সেপ্টেম্বরের পর সেনা অভিযান বন্ধ হয়েছে বলে দাবি করেন মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় পরামর্শক অং সান সু চি। তবে বিবিসিসহ বেশ কিছু গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থা সেই দিন থেকেই সু চির দাবি নাকচ করে আসছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত