মার্কিন গণতন্ত্র হুমকির মুখে: বারাক ওবামা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১০:৩৮, জানুয়ারি ১১, ২০১৭

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা শিকাগো শহরে দেওয়া তার বিদায়ী ভাষণে ‘গণতন্ত্র হুমকির মুখে’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জনগণের প্রতি ‘গণতন্ত্র রক্ষার’ আহ্বানও জানিয়েছেন। তবে তার আট বছরের প্রশাসনে যুক্তরাষ্ট্র আরও ‘উত্তম ও শক্তিশালী’ হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

ওবামা জনগণকে সতর্ক করে বলেছেন, ‘আমরা স্বীকার করি বা না করি, গণতন্ত্র হুমকি সম্মুখীন হয়েছে।’ তিনি মার্কিন গণতন্ত্রের জন্য তিনটি হুমকির দিকে নির্দেশ করেছেন – অর্থনৈতিক বৈষম্য, বর্ণবাদ এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিভক্তি। জনগণকে ‘গণতন্ত্র রক্ষার’ আহ্বান জানান ওবামা।

‘আশা ও পরিবর্তনের’ অঙ্গীকার নিয়ে ২০০৮ সালে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন বারাক ওবামা। তবে ওবামার করা অনেক কাজ পরিবর্তন করার কথা আগেই ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলতি মাসের ২০ তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা গ্রহণ করবেন ট্রাম্প।

বিদায়ী ভাষণে ওবামা এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে এক প্রেসিডেন্ট থেকে অপর প্রেসিডেন্টের কাছে ক্ষমতার বদল হওয়াটা মার্কিন গণতন্ত্রের এক বিশেষ দিক। তবে সকলকে সমান অর্থনৈতিক সুযোগ না দিয়ে আমাদের গণতন্ত্র কার্যকর থাকতে পারে না।’   

বিদায়ী প্রেসিডেন্ট দেশটির সর্বস্তরের মানুষদের একে-অপরের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, ‘আমাদের একে-অপরের প্রতি মনোযোগ দিতে হবে এবং শুনতে হবে।’

এদিকে, বিদায়ী ভাষণে বারাক ওবামা মিশেল ওবামার কথা বলতে গিয়ে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন। এসময় তার চোখে পানি চলে আসে। এক পর্যায়ে ওবামা একটি সাদা রুমাল বের করে চোখের পানি মুছতে শুরু করেন।

সবসময় পাশে থাকার জন্য মিশেলকে ধন্যবাদ জানিয়ে ওবামা বলেন, তুমি আমাকে যেমন গর্বিত করেছো তেমনি দেশকেও গর্বিত করেছো।

মিশেলকে উদ্দেশ্য করে ওবামা বলেন, তুমি শুধু আমার সহধর্মিণী নও, আমার একজন ভাল বন্ধুও। যাকে সুখে-দুঃখে সব সময় পাশে পেয়েছি। হোযাইট হাউজে থাকা অবস্থায় মিশেলকে কোনো কাজের জন্য কখনো বলতে হয়নি। সব সময় নিজ দায়িত্বে যত্ন নিয়ে সব কাজ করেছেন তিনি।

বাংলাদেশ সময় বুধবার সকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা শিকাগোতে তার বিদায়ী ভাষণ দেন।



 

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
close-icon