শিরোনাম

বর্ণবাদ ও ইসলাম ভীতির বিরুদ্ধে এক নারীর অদম্য লড়াই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক  |  ১৬:১০, জুলাই ১৬, ২০১৯

২০১৭ সালে নিজের উপর ইসলাম ভীতিমূলক আক্রমণের দৃশ্য সম্বলিত একটি ভিডিও পোষ্ট করার পর তা অনলাইনে ভাইরাল হয়ে পড়ে। এরপরই মেহপারা খান নামের ওই নারী বর্ণবাদের বিরুদ্ধে কাজ করতে শুরু করেন।

নিউজিল্যান্ডের গণমাধ্যম আরএনজেড এ বিষয়ে মেহপারা খানের একটি বিস্তারিত সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে।

সাক্ষাৎকারে মেহপারা খান বলেন, নিউজিল্যান্ডের হান্টলি শহরে বেড়ানোর সময় এক নারী আমার ও বন্ধুদের দিকে কিছু বস্তু ছুড়ে মারে। এ ঘটনায় আমরা হতভম্ব হয়ে পড়ি। ভাবতে থাকি, নিউজিল্যান্ডের মত একটি দেশে এমনটাও ঘটতে পারে?

আর ক্রাইস্টচার্চে হামলার পর দেশজুড়ে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রচারণা স্বত্বেও মেহপারার মতে অনেক মুসলিম নারী এখনো দেশটিতে বর্ণবাদী অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হচ্ছেন।

মেহপারা বলেন, আমি নিজেকে সবসময় একজন একনিষ্ঠ নিউজিল্যান্ডর ভেবেছি। আমি অকল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করি এবং এখানেই বেড়ে উঠি।

তিনি বলেন, যেসব নারী হিজাব পরিধান করে অবশ্যই তারা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।

‘মুসলিমদের লক্ষ্য করে অনেক অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে। আমি মনে করি তারা দৃশ্যত অন্যদের চাইতে আলাদা এ কারণেই তাদের সাথে এমনটা করা হচ্ছে। আপনাকে মনে রাখতে হবে, ৯/১১ এর পর মুসলিমরা সন্ত্রাসী এরকম একটি বার্তা ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। যার কোনো বাস্তবতা নেই।’

মেহপারা খান নিউজিল্যান্ডের ঘৃণামূলক অপরাধ আইনের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন যাতে করে মুসলিমসহ নিউজিল্যান্ডের অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর লোকজনদের সুরক্ষা দেয়া যায়।

তিনি বলেন, মানবাধিকার আইনে কিছুটা মানবিক দিক রয়েছে কিন্তু এখানেও অনেক ফাঁক ফোকর রয়েছে। ধর্মের বিরুদ্ধে বৈষম্য ঢাকার জন্য কোনো কিছুই নেই।

‘এটি এমন একটি স্থানে রূপান্তরিত হয়েছে যেখানে এই নিউজিল্যান্ডে সংখ্যালঘু লোকজনদের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে অন্যরা সচেতন নয়।’

তিনি আরও বলেন, নিউজিল্যান্ডে এখনো বর্ণবাদী আচরণ একটি বড় সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে এবং আমাদের ক্রাইস্টচার্চের হামলার পর এখন বর্ণবাদকে দূরে সরানোর জন্য আহ্বান জানানো এখন অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মেহপারা খান বলেন, আমি সবাইকে একই পাল্লায় মাপতে চাই না। ক্রাইস্টচার্চ হামলার পর নিউজিল্যান্ডের প্রত্যেক প্রান্ত থেকে যে পরিমাণ সমর্থন এসেছে তা আসলেই বিস্ময়কর।

তিনি বলেন, আমি লোকজনদের বলতে চাই এ বিষয় নিয়ে কথা বলুন কারণ আমরা যদি আলোচনা বন্ধ করে দিই তবে কিছুতে পরিবর্তন আসবে না।

মেহপারা খান দীর্ঘদিন ধরেই অনলাইন অফলাইনে বর্ণবাদ ও ইসলামভীতি দূর করতে কাজ করছেন। তার আশা অচিরেই মানুষ এসব থেকে ফিরে আসবে। সেদিন সবাই শান্তিতে একসঙ্গে বসবাস করতে পারবে।

আরআর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত