শিরোনাম

‘ভারত শিগগির পাকিস্তানে পরিণত হতে পারে’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক  |  ১২:৪৮, জুলাই ১১, ২০১৯

২০৪৭ সালের আগেই ভারত পাকিস্তানে পরিণত হতে পারে বলে বিজেপির এক মুখপাত্র আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি এজন্য জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ আইন তৈরি করার দাবি জানিয়েছেন।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারে ক্ষমতাসীন বিজেপি মুখপাত্র অশ্বিনী উপাধ্যায় মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন।

তার দাবি, যদি অভিন্ন শিক্ষা, অভিন্ন দেওয়ানি বিধির পাশপাশি জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ আইন দ্রুত তৈরি করা না হয় তাহলে ভারত ২০৪৭ সালের আগে পাকিস্তানে পরিণত হবে।

এ ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গের কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর ড. গৌতম পাল বুধবার রেডিও তেহরানকে বলেন, এ ধরণের প্রবণতা বা এধরণের ভাবনাচিন্তা ভারতের যে সার্বভৌমত্ব ও একাধিকত্বের ধারণাকে আঘাত করে। আইন প্রণয়ন করে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। অধুনা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতির ফলে আমাদের মৃত্যু হার কমে গেছে। জনসংখ্যা বাড়ছে শুধু নয়, মৃত্যু হারও কমে গেছে।

তিনি বলেন, যারা বলছেন, যারা আগামী ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারত পাকিস্তান হয়ে যাবে আমি ওই মতে শরিক হচ্ছি না। এটাও তো হতে পারে আগামী ২০৪৭ –এ পাকিস্তান, বাংলাদেশ অখণ্ড ভারতের মধ্যে সংযোজিত হতে পারে। অখণ্ড ভারত আগের মতো ফিরে আসতে পারে।

অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করলে ধর্মীয় ও সামাজিক আঘাত আসতে পারে কি না তা ভাবতে হবে। অভিন্ন বিধি চালু করতে গেলে ভারতের অখণ্ডতা তা আগামীদিনে থাকবে কি না তা ভেবে নিয়ে ওই পদ্ধতি অবলম্বন করা উচিত। সার্বিকভাবে আমি মনে করি এই ধরণের চিন্তাভাবনা বাস্তবোচিত নয়।

এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে আলীগড়ে বিজেপি ঘনিষ্ঠ যোগগুরু রামদেব এক অনুষ্ঠানে দেশের বাড়তি জনসংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তা প্রতিরোধের উপায় হিসেবে যাদের দুইয়ের বেশি সন্তান আছে তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, যাদের দুইয়ের বেশি সন্তান, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করতে তাদের ভোটাধিকার, সরকারি চাকরি এবং চিকিৎসার সমস্ত সরকারি সুযোগ-সুবিধা কেড়ে নিতে হবে। তাহলেই একমাত্র দেশের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।

২০১৮ সালেও যাদের দুইয়ের বেশি সন্তান আছে তাদের সন্তানকে সরকারি স্কুলে ভর্তি করা উচিত নয়, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সুবিধা পাওয়া উচিত নয় এবং তাদেরকে সরকারি চাকরি দেয়া উচিত নয় বলে রামদেব মন্তব্য করেছিলেন।

আরআর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত