শিরোনাম

যে কারণে জরায়ু কেটে ফেলছেন ভারতীয় নারীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক  |  ১৫:১৯, জুলাই ০৬, ২০১৯

ঋতুচক্রের সময় মালিকের গালিগালাজ, মাস শেষে বেতন কাটা, এমনকি জরিমানাসহ নানা অভিযোগে অপারেশন করে জরায়ু ফেলে দিচ্ছেন ভারতের হাজার হাজার দরিদ্র নারী শ্রমিক। তাদের বেশির ভাগই ২০ থেকে ২২ এর মধ্যে। আবার অনেকেই দুই বা ততোধিক সন্তানের জননী।

ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সূত্র বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে যে ঘটনাগুলো সবচেয়ে বেশি আলোড়ন তুলেছে, তার একটি ঘটেছে ভারতের মহারাষ্ট্রে। হাজার হাজার তরুণী স্বেচ্ছায় জরায়ু কেটে ফেলছেন হাসপাতালে গিয়ে। এর ফলে কিছু গ্রাম এখন জরায়ুহীন নারীদের গ্রাম হিসেবে পরিচিত হয়ে গেছে।

আর যারা এ অপারেশন করাচ্ছেন, তাদের বেশিরভাগই কৃষি শ্রমিক। ক্ষেত থেকে আখ কাটেন।

মহারাষ্ট্র আখের চাষের জন্য অন্যতম। বছরে ৬ মাস এসব আখ ক্ষেতে কাজ করতে আসেন হাজার হাজার শ্রমিক। এই নারী-পুরুষরা একটানা ছয় মাস আখ কাটার কাজ করেন।

এছাড়া তামিলনাড়ু রাজ্যে গার্মেন্টস কারখানায় অনেক মেয়ে শ্রমিক কাজ করে। মূলত ঋতুচক্রের সময় তাদের শরীরে মাত্রাতিরিক্ত ব্যথার ফলে কাজে ব্যাঘাত ঘটে, সে ক্ষেত্রে তাদের দু’একদিন ছুটি কাটাতে হয়। এতেই ঘটে বিপত্তি।

ওই সময় ছুটি কাটাতে গিয়ে মাস শেষে জরিমানার মুখে পড়তে হয় সেসব নারীকে। ফলে তারা জরায়ু কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন।

এদিকে, গত মাসে মহারাষ্ট্রের রাজ্যসভায় নারীদের এই অবমাননাসূচক শারীরিক ক্ষতির প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন বিধায়ক নীলম ঘোরে। তার কথার সঙ্গে একমত হন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী একনাথ সিন্ধে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ৩ বছরে ভারতে চার হাজার ৬০৫টি হাইসটেরেকটমি সার্জারি হয়েছে। এতে বহু নারীর প্রজননতন্ত্রের প্রায় সবই কেটে ফেলা হয়েছে।

এসব অপারেশন শুধু আখ শ্রমিক নারীদের হয়েছে, তা কিন্তু মানতে নারাজ মন্ত্রী। তবে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য একটি তদন্ত কমিটি করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি (স্বাস্থ্যমন্ত্রী)।

জেডআই

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত