শিরোনাম

ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ, জয় পরাজয়ের সহজ সমীকরণ

সুলাইমান সাদী  |  ১৬:১১, জুন ২৬, ২০১৯

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আরব-পারস্য উপসাগরে যুদ্ধের দামামা শোনা যাচ্ছে। তেলের ট্যাঙ্গারগুলোতে গুপ্ত হামলা চালিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ডরা আমেরিকার ড্রোন আকাশেই বিধ্বস্ত করেছে।

সৌদি ও ইরাকের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হচ্ছে। আমেরিকা একটি সমুদ্রবহর ও আড়াই হাজার সৈন্য উপসাগরে পাঠিয়ে দিয়েছে। অর্থনৈতিক চাপও বৃদ্ধি করে দিয়েছে। এমনকি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অপারেশনের আইনি বৈধতা দিয়ে দেয়া হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে সংঘাতের ডোর টেনে ধরা সম্ভব। কিন্তু এতে সংকট আরো গভীর হতে পারে। হুরমুজে তেলের ট্যাঙ্কারে হামলার আশঙ্কা আরো বাড়তে পারে।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড ও অন্যান্য সমুদ্র ঘাঁটিগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিআক্রমণ হতে পারে। ইরানি বাহিনী ও মিলিশিয়া গ্রুপের পক্ষ থেকে ইরাক, সিরিয়া, আফগানিস্তানসহ অন্যান্য দেশগুলোতে বিদ্যমান মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা হতে পারে। পাশাপাশি মার্কিন ও জিসি ঘাঁটিগুলোর ওপরও ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে।

এদিকে হিজবুল্লাহ ও ইরানের মিত্র গোষ্ঠীগুলো ইসরাইলসহ অন্যান্য দখলকৃত ভূখণ্ডগুলোর ওপর আক্রমণ করতে পারে। এসব হামলার আশঙ্কা থেকে বাঁচতে আমেরিকা ও ইসরাইল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও সমুদ্রব্যবস্থা অকার্যকর করে দিতে বিমান হামলাও চালাতে পারে।

প্রসঙ্গত, এসব হামলার আশঙ্কা বাস্তবে রূপ পরিগ্রহ করলে ইরান কিন্তু পিছিয়ে পড়বে না। ইরান-ইরাক যুদ্ধের মাঝামাঝি সময়ে ইরানের দ্বিতীয়বার শক্তি সঞ্চয়ের অভিজ্ঞতার কথা মনে থাকলে একথা সহজেই বুঝে আসবে যে, বহিরাগত যে কোনো হামলাই ইরানকে এতোটা প্রভাবিত করতে পারবে না যে, শাসনব্যবস্থাই টলে পড়বে।

অবশ্য প্রেসেডেন্ট হাসান রুহানি ও মধ্যপন্থীদের সরিয়ে উগ্রপন্থী গোষ্ঠী ও ইরানি বিপ্লবী গার্ড ক্ষমতা দখল করার শক্তি রাখে।

ইরানের বর্তমান সরকার হটানোর জন্য ইরানের ওপর আমেরিকা ও তাদের মিত্র জোটের চূড়ান্ত হামলা চালাতে হবে। কিন্তু ইরাক-আফগানিস্তানের অভিজ্ঞতা দৃষ্টিগোচর করলে ওয়াশিংটন বা সীমান্তের কোনো শক্তিই এমন পদক্ষেপ নেয়ার সাহস করবে না।

ইতোমধ্যেই রাশিয়া-চীনকে আমেরিকা তাদের শত্রু সাব্যস্ত করেছে। দেশ দুটি যদি তেহরানের সঙ্গ দিয়ে প্রত্যক্ষ-অপ্রত্যক্ষভাবে যুদ্ধে অংশ না নেয় যুদ্ধের ফলাফল এমন দাঁড়াবে:

এক. ইরানে অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা ও দেশটির প্রদেশগুলোতে বিদ্রোহ ঘোষণা শুরু হবে।

দুই. আমেরিকা ও জোটবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধের ফলে ইরানি সেনা ও শিয়া মিলিশিয়া মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং সৈন্য সংখ্যাও কমে আসতে পারে।

তিন. তেহরানের কারণে ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন ও আফগান যুদ্ধের সংকটও বেড়ে যাবে।

চার. পারমাণবিক অস্ত্র পরিহারের চুক্তি অস্বীকার করে ইরান ধ্বংসাত্মক এ হাতিয়ারটি তৈরির প্রস্তুতি নেবে।

পাঁচ. উপসাগরে তেল উত্তোলনে বড় ধরনের দীর্ঘ মেয়াদী বাধা সৃষ্টি হবে। ফলে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি বাড়তেই থাকবে।

ছয়. বিশ্ব অর্থনীতিতে সৃষ্টি হবে চরম মন্দা।

ইরান-আমেরিকা যুদ্ধে সবার হার নিশ্চিত। দৃশ্যত ফলাফল যাই হোক, যারা এতে অংশ গ্রহণ করবে তাদের জন্য যেমন সংঘাতটি পরাজয়ের কারণ হবে, যারা অংশ নেবে না তারাও সামগ্রিকভাবে পরাজয়ের শিকার হবে।

এসএস

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত