শিরোনাম

খাশোগি হত্যাকাণ্ডে সৌদি প্রিন্সসহ উচ্চপদস্থরা দায়ী : জাতিসংঘ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক  |  ১৯:৪২, জুন ১৯, ২০১৯

বিশ্বব্যাপী আলোচিত সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডে সৌদি প্রিন্স মুহাম্মদ বিন সালমানসহ দেশটির উচ্চপস্থ কর্মকর্তারাই দায়ী। জাতিসংঘের একটি বিশেষ তদন্তে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

তুকী সংবাদমাধ্যম ডেইলি সাবা মতে জাতিসংঘের বিশেষ দূত অ্যাগনেস কলামার্ড এ হত্যাকাণ্ডটিকে একটি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বলে ঘোষণা করেছেন।

কলামার্ড গত অক্টোবরে ইস্তাম্বুলের সৌদি দূতাবাসে জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ড বিষয়ে ১০১ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন পেশ করেন।

এ প্রতিবেদনের মাধ্যমে জাতিসংঘ বা জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতারেসের কাছে একটি উচ্চতর ফৌজদারি তদন্তের দাবি করা হয়।

যেভাবে হত্যা করা হয় খাশোগিকে

ওয়াশিংটন পোস্টে কর্মরত জামাল খাশোগি ছিলেন সৌদি প্রিন্সের একজন সমালোচক। ২০১৮ সালের ২ অক্টোবর তাকে ১৫ জনের একটি দল তুরস্কের দূতাবাসের কাছে হত্যা করে।

জামাল খাশোগিকে হত্যা করার জন্য সেসময় তুরস্কে সৌদি কর্মকর্তাদের একটি দল উপস্থিত ছিলেন। খাশোগির মৃতদেহ টুকরো টুকরো করে গুম করার জন্যও ছিল আরেকটি দল।

এ সময় খাশোগি তার স্ত্রী হেটিস চেঙ্গিসের সঙ্গে তাদের বিবাহের কাগজপত্র তোলার জন্য তুরস্কের ওই দূতাবাসে হাজির হয়েছিলেন।

যা আছে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে

কলামার্ড দীর্ঘ ৬ মাসব্যাপী চালানো তদন্তের প্রতিবেদনে বলেন, এটি জাতিসংঘের বিশেষ দূতের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। মি. খাশোগিকে সুচিন্তিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। পূর্বপরিকল্পণা মাফিকই হত্যাকাণ্ডটি সম্পন্ন করা হয়েছে।

তিনি প্রতিবেদনে বলেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন মতে এ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের জন্য সৌদি আরবই দায়ী।

চলতি বছরই কলামার্ড ফরেন্সিক ও আইন বিশেষজ্ঞদের একটি দল নিয়ে তুরস্ক যান। তিনি প্রতিবেদনে জানান, তুর্কী সরকারের কাছ থেকে তিনি যাবতীয় প্রমাণাদি সংগ্রহ করেছেন।

কলামার্ড প্রতিবেদনে জানান, তদন্তের ভিত্তিতে নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়েছে, প্রিন্স মুহাম্মদ বিন সালমানসহ সৌদির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।

তদন্তের পেছনের কথা

গত জানুয়ারিতে শুরু হওয়া তদন্তের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা তুলে ধরেছেন কলামার্ড। তিনি সৌদি আরব সফরের জন্য বারবার অনুরোধ করেও তিনি কোনো জবাব পান না।

তিনি লেখেন, তিনি খাশোগি হত্যাকাণ্ডের সময় তুর্কী দূতাবাসের আশপাশের সিসি ক্যামেরার ৪৫ মিনিটের একটি রেকর্ড ট্যাপ পান। তুর্কী গোয়েন্দা সংস্থা তাকে ৭ ঘণ্টব্যাপী একটি রেকর্ডের তথ্য দিয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের প্রতিটি মিনিট বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটিতে এটিকে একটি ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করা হয়েছে। হত্যার পর খাশোগির দেহ টুকরো টুকরো করে ফেলার শব্দও শোনা যাচ্ছিল রেকর্ডটিতে।

যুক্তরাষ্ট্র খাশোগি হত্যার জন্য দায়ী ১৬ জন ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেছে। কিন্তু সেখানে সৌদি আরবের নাম ছিল না। বেশ কয়েকজন মার্কিন আইনজ্ঞ খাশোগি হত্যাকাণ্ডে সৌদি আরবের নাম না নেয়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিন্দা করেছেন।

ডেইলি সাবা অবলম্বনে সুলাইমান সাদী

এসএস

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত