শিরোনাম

৫ বছরে কতটা পাল্টেছে মোদির ভাষণ?

রোকন রাইয়ান  |  ২০:২২, মে ২৬, ২০১৯

বিশ্বজুড়ে নরেন্দ্র মোদির ভাষণের খ্যাতি আছে। স্টাইল ও বাগ্মীতায় তিনি অনন্য। ৫ বছর পর সেই যাদুতে ফের মন কেড়েছেন পুরো ভারতের। তবে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে দ্বিতীয় বারের মতো ক্ষমতা নিশ্চিত করে দেয়া নরেন্দ্র মোদির এবারের ভাষণের সঙ্গে ২০১৪ সালের ভাষণের রয়েছে বেশ তফাৎ।

গেল বার ক্ষমতায় বসার পর প্রথম ভাষণে মোদি জানিয়েছিলেন, তার সরকার গরিবদের সরকার। তাদের জন্য কাজ করবে বিজেপি। পুনরায় জনতার রায়ে নির্বাচিত হয়ে শনিবার নরেন্দ্র মোদি দেশের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত আমরা গরিব মানুষের কথা ভেবেই সরকার চালিয়েছি। তারাই ফের সরকার গঠন করলেন।’

২০১৪ সালে বিজেপি-র কেন্দ্রীয় স্লোগান ছিল- ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ।’ ৫ বছর পেরিয়ে এসে তার সঙ্গে মোদি যোগ করলেন- ‘সবকা বিশ্বাস।’ দেশবাসীর উদ্দেশে জানালেন, ভারতকে বিশ্ব দরবারে উচ্চতায় নেয়ায় তার লক্ষ্য।

বিশ্লেষণকরা বলছেন, ২০১৪ সালের ২০ মে জনতার উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে মোদি বারবার আগামী ৫ বছরে কী করবেন, তার ফিরিস্তি দিয়েছিলেন। কিন্তু এবার দ্বিতীয়বারের জন্য প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তার ভাষণ ছিল অনেক বেশি সংযত, দায়িত্বশীল।

সদ্যসমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে মোদির বক্তব্যে ছিল অনেক নতুন উপাদান। ২০১৪ সালে ভাষণে তিনি সংখ্যালঘুদের নিয়ে কিছুই বলেননি। এবার তিনি তাদের জন্য খরচ করেছেন অনেক শব্দ।

মোদি বলেছেন, ‘দেশে সংখ্যালঘুদের প্রতারিত করা হয়েছে ভোটব্যাংকের রাজনীতি করে। আমি এই ভেদাভেদ চাই না। আমি তাদের হারানো বিশ্বাস ফিরে পেতে চাই।’

গতপাঁচ বছরে দেশজুড়ে অনেক আপত্তিকর ঘটনাই ফুটে উঠেছে। হিন্দুত্ববাদ বারবারই জেগে উঠেছে এখানে সেখানে। সেই কা‍ঁচিতে কেটেছে অসংখ্য মুসলিম, নিম্মশ্রেণির মানুষ। কিন্তু এবার তিনি তাদের পক্ষে কথা বললেন। তার বক্তব্যে এবার প্রতিফলিত হলো ভারতের বহুত্ববাদী সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তা।

সেন্ট্রাল হলের ভাষণে তিনি দেশের বিভিন্ন এলাকার আঞ্চলিক প্রত্যাশাসমূহকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন। এই প্রসঙ্গটিও অনুপস্থিত ছিল ২০১৪ সালে ভাষণে।

তাই অনেকে বলছে, বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও শিবসেনা, আকালি দল, এআইএডিএমকে, জেডিইউ-এর মতো আঞ্চলিক দলগুলির সঙ্গে অকারণ দূরত্ব চান না প্রধানমন্ত্রী। সেজন্যই এমন বার্তা।

নির্বাচনি প্রচারপর্বেও এ বার বেশ সংযত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তবে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীকে একের পর এক আক্রমণ করেছেন তিনি। তা নিয়ে বিতর্কও হয়েছে। যদিও, ভোটের পর টুইট করে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রীকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন মোদি।

৫ বছর আগে প্রথমবার সংসদ ভবনে ঢোকার আগে ভবনটিকে নতজানু হয়ে প্রণাম করেছিলেন মোদি। ফের বিপুল জনসমর্থন পেয়ে ক্ষমতায় ফিরেছেন তিনি। এবার সেন্ট্রাল হলে প্রবেশের আগে তিনি প্রণাম করলেন দেশের সংবিধানকে।

মোদি তার এবারের বক্তব্যে নবনির্বাচিত এমপিদের সতর্ক করে বলেছেন, তারা যেন ভিআইপি কালচার এবং কাণ্ডজ্ঞানহীন ভাষণ-বিবৃতি থেকে বিরত থাকেন, কারণ এতে দল ও সরকারের ভাবমর্যাদা ক্ষুন্ন হয়ে থাকে।

তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবারো ২০১৪ সালের মতোই দলের সিনিয়র নেতাকর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন এবং নির্বাচনে জয় এনে দেয়ার কারণে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

‘আমরা দেশের স্বাধীনতার জন্য কিছু করতে পারিনি। তবে দেশ গড়ার কাজে অংশ নেয়ার অনেক সুযোগ ও সম্ভাবনা আমাদের আছে। দেশের জন্য নিজেদের উৎসর্গ করার সংকল্প নিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে পারি…’। ২০১৪ সালের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেছিলেন।

এবার তিনি প্রত্যেককেই জাতিগঠনের কাজে আত্মনিয়োগ করার আহবান জানিয়েছেন।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত