শিরোনাম

শ্রীলঙ্কায় বোমা হামলা : মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৯০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক  |  ০৫:৫২, এপ্রিল ২২, ২০১৯

শ্রীলঙ্কায় পৃথক বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৯০ জনে পৌঁছেছে। স্থানীয় সময় রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজধানী কলম্বো ও তার আশপাশে মোট আটটি বিস্ফোরণে তারা নিহত হন বলে বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

দেশটির পুলিশের মুখপাত্র রুয়ান গুনাসেকেরা বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে ২৯০ জনের মৃত্যুর খরব নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ২৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। হামলার ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। এ হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানান রুয়ান গুনাসেকেরা।

রয়টার্স বলছে, সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে কলম্বোরর একটি গির্জাসহ দেশটির তিনটি গির্জায় বোমা বিস্ফোরণ হয়। এছাড়া প্রায় একই সময়ে কলম্বোর তিনটি পাঁচ তারকা হোটেলেও হামলা হয়।

সকালে ছয়টি স্থাপনায় হামলার কয়েক ঘণ্টা পর দুপুরে কলম্বোর দক্ষিণাঞ্চলের দেহিওয়ালা এলাকায় একটি হোটেলে সপ্তম বিস্ফোরণটি ঘটে। এরপর কলম্বোর উত্তরে ওরুগোদাওয়াত্তা এলাকায় আরেকটি বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়।

এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কোচচিকাড়ে, নেগোমবো ও বাতিকেলোয়ায় তিনটি গির্জায় ইস্টার সানডের প্রার্থনা চলাকালে বোমা বিস্ফোরণ হয়। এই তিনটি গির্জার একটি রাজধানী কলম্বোতে। বাকি দু'টির একটি কলম্বোর পার্শ্ববর্তী শহর এবং আরেকটি দেশের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত।

তিনি জানান, এছাড়া রাজধানী কলম্বোতে অবস্থিত তিনটি পাঁচ তারকা হোটেল– শাংরি লা, সিনামন গ্র্যান্ড ও কিংসবুরিতে প্রায় একই সময়ে বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে নিহতদের মধ্যে ২৭ জন বিদেশি পর্যটক রয়েছেন বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

কারা এই হামলা চালিয়েছে তা নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। এছাড়া একযোগে বোমা হামলার এই ঘটনায় এখনও দায় স্বীকার করেনি কোনো গোষ্ঠী।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, হামলাগুলোর কয়েকটি ছিল আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দেশজুড় কারফিউ জারি করা হয়েছে। গুজব রোধে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং বার্তা পাঠানোর মাধ্যমগুলো ব্লক সাময়িক ব্লক করে দেওয়া হয়েছে।

তবে কখন কারফিউ তুলে নেওয়া হবে সে ব্যাপারে কিছু বিস্তারিত জানা যায়নি। দেশটির প্রেসিডেন্টের দফতরের বরাত দিয়ে স্থানীয় এক সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত পুরো দেশে কারফিউ বলবৎ থাকবে। পাশাপাশি সোম ও মঙ্গলবার সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

হামলার পর এক বিবৃতিতে শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা মানুষকে শান্ত থাকার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে হামলার পর করণীয় নির্ধারণে জরুরি বৈঠক ডাকেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে।

এছাড়া টুইটারে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী রনিল হামলার ঘটনাকে 'কাপুরুষোচিত' বলে উল্লেখ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, 'আমাদের জনগণের ওপর এই কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানাই।

শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ক্রান্তিকালে আমি শ্রীলংকার জনগণকে একত্রিত ও মানসিকভাবে শক্ত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে।'

বর্বরোচিত এই হামলার বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিশ্বের অনেক প্রভাবশালী নেতা। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সহমর্মিতা জানিয়ে বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্দা আহডার্নসহ আরও অনেকে।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত