শিরোনাম

প্রথম দফায় শোচনীয় পরাজয়ের ইঙ্গিত পেয়েছে বিজেপি!

প্রিন্ট সংস্করণ॥আমার সংবাদ ডেস্ক  |  ০০:৩৮, এপ্রিল ১৮, ২০১৯

ভারতে লোকসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে গত ১২ এপ্রিল। প্রথম দফার ভোটে প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বাধীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) পরাজয়ের ইঙ্গিত দিয়েছেন কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মেহবুবা মুফতি বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদির সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তিনি জাতিগত সংঘাতকে উসকে দিয়ে বিভাজন তৈরির চেষ্টা করছেন। এছাড়া বালাকোট হামলা নিয়ে নাটক করেছেন তিনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখন তারা (বিজেপি) প্রথম দফার নির্বাচনে পরাজয়ের মুখোমুখি। তিনি (মোদি) জনগণের মধ্যে এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছেন। আর এটার মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে তারা পাকিস্তানে আরেকটি হামলার পরিকল্পনা করছে যাতে করে বাকি ছয় দফার নির্বাচনের তারা ভোট পায়।’ কাশ্মীরের সাবেক এই মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেন, বিজেপি এই মুহূর্তে যা করছে তার সবকিছুই ভোট পাওয়ার জন্য করছে। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানে হামলা করা কিংবা কাশ্মীরে কঠোর হওয়ার বিষয়টি ভোটের রাজনীতি ছাড়া আর কিছুই নয়।’মুফতি আরও জানান, কাশ্মীরের পুলওয়ামায় সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে যে প্রশ্নগুলো উঠেছে তার মধ্যে অন্যতম হলো কেন এমন সময়ে (নির্বাচনের আগে) হামলা হলো? তিনি বলেন, ‘এই হামলার নেপথ্যের কারণ উদঘাটন ও সত্যটা জানার জন্য একটা পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হতে হবে।’ যেসব নেতা ধর্মনিরপেক্ষতার বিরুদ্ধে কথা বলছেন তাদের মানসিক চিকিৎসা করানো দরকার বলে জানান মেহবুবা মুফতি। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিজেপি নেতারা ভয়ের রোগে ভুগছেন। আমাদের দেশ ধর্মনিরপেক্ষ। যারা এর বিরুদ্ধে কথা বলছেন তাদের মানসিক চিকিৎসা নেয়া উচিত।’ ফেরদৌসে জ্বলছে পশ্চিমবঙ্গ, এবার বিজেপির নতুন অভিযোগভারতের নির্বাচনি প্রচারে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অভিনেতা ফেরদৌস আহমেদ। ফেরদৌসকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গে শুরু হওয়া এই সমালোচনা এখন রীতিমতো রাজনৈতিক উত্তাপে রূপ নিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে নির্বাচনি প্রচার চালানোর দায়ে গত মঙ্গলবার ফেরদৌসের ভিসা বাতিলের পাশাপাশি তাকে দেশে ফেরত যাওয়ার নির্দেশ দেয় ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রাতেই দেশে ফিরে এসেছেন দুই বাংলায় জনপ্রিয় এই চলচ্চিত্র অভিনেতা। কিন্তু এতেও থেমে নেই পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি। গতকাল বুধবার সকালে দমদম লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী শমীক ভট্টাচার্য নতুন অভিযোগ করে বলেছেন, ওপার বাংলা থেকে ভোটার এনে নির্বাচনি বৈতরণী পার করতে চাইছে তৃণমূল। সে কারণেই বাংলাদেশের তারকাদের প্রচারে ব্যবহার করা হচ্ছে। বাগুইআটিতে নির্বাচনি প্রচারে গিয়ে শমীক ভট্টচার্য বলেন, ফেরদৌস বা অন্য কোনো বিদেশি তারকাকে ভোট প্রচারে আনা অসাংবিধানিক। তৃণমূল আসলে কোনো রাজনৈতিক দলই নয়। এখানকার সংখ্যালঘু মানুষদের অন্য চোখ দিয়ে দেখে তৃণমূল কংগ্রেস। কোনো মানুষের ধর্ম তার রাজনৈতিক পরিচয় হতে পারে না।
বিজেপির এই প্রার্থী আরও বলেন, জয়ের জন্য যে কোনো ব্যবস্থা নিতে হবে; এমন রাজনীতি ঘৃণ্য। যেভাবে তৃণমূল এই কাজ করেছে, এরচেয়ে বেশি অসাংবিধানিক ও অরাজনৈতিক কাজ আর কিছু হতে পারে না। এর আগে ভারতীয় ভিসায় কালো তালিকাভুক্ত ফেরদৌস আহমেদের সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনেন পশ্চিমবঙ্গ শাখা বিজেপির নেতা রাহুল সিনহা। গত রোববার উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ জেলার তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী কানাইয়া লাল আগারওয়ালের পক্ষে ভোটের প্রচার চালান ফেরদৌস আহমেদ। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন টালিউড তারকা অঙ্কুশ হাজরা ও পায়েল। তৃণমূলের নির্বাচনি প্রচারে অংশ নেয়ার জেরে দেশটিতে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন বাংলাদেশি এই অভিনেতা। গত মঙ্গলবার ভারতের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) পশ্চিমবঙ্গ শাখা ফেরদৌস আহমেদকে ভিসা বিধি লঙ্ঘনের দায়ে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে দেশটির নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ দায়ের করে। পরে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শর্ত লঙ্ঘনের দায়ে ফেরদৌসের ভিসা কালো তালিকাভুক্ত করে দেশে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনও ফেরদৌসকে ভারত ত্যাগ করে দেশে ফেরার নির্দেশনা দেয়। ওই নির্দেশনা পাওয়ার পর রাতেই ঢাকায় ফেরেন তিনি।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত