শিরোনাম

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ইসলামের প্রভাব

ডিডাব্লিউ  |  ১৯:৫১, এপ্রিল ১৬, ২০১৯

ইন্দোনেশিয়ার আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ‘রাজনৈতিক ইসলাম' গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হয়ে উঠেছে৷ বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোটারদের বড় অংশ তরুণরাই এখন রক্ষণশীল ইসলামের সমর্থক৷

১৭ এপ্রিল ভোটের মাধ্যমে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট বেছে নেবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম অধ্যুষিত দেশ ইন্দোনেশিয়া৷ ১৯৯৮ সালে গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরুর পর দেশটি ধর্ম আর রাষ্ট্রকে পৃথক হিসেবে রাখার শক্তিশালী দৃষ্টান্ত স্থাপন করে৷ কিন্তু রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন অনেকটাই বদলে গেছে৷

‘‘ধর্মের ভূমিকাকে এখন ছোট করে দেখা উচিত হবে না৷ এটি রাজনীতিকে পরিচালনা করছে এবং সব পক্ষই তা ব্যবহার করছে,'' বলেন জার্মান গবেষণা সংস্থা গ্লোবাল ইসলামের পরিচালক সুজানে শ্র্যোটার৷

তাঁর কথার প্রমাণও মিলছে৷ দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো লাড়ছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রাবোয়ো সুবিয়ানদোর বিপক্ষে৷ যিনি জকোভিকে যথেষ্ট ‘ইসলাম ভাবাপন্ন নয়' বলে আক্রমণ করছেন৷

তিনি যথাযথ উচ্চারণে আরবি পড়তে পারেন না বলেও প্রচারণা চালানো হচ্ছে সুবিয়ানদোর নির্বাচনি শিবির থেকে৷ জোকোভি যে মুসলিম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেছেন, সে বিষয়কে সামনে নিয়ে এসে তা সামাল দিচ্ছেন তাঁর সমর্থকরা ৷

দেশটির রাজনীতিতে ধর্মের প্রভাব কতটা প্রকট হয়ে উঠছে সেটি পরিস্কার হয়ে ওঠে ২০১৭ সালে জাকার্তার গভর্নর নির্বাচনেই৷ ইন্দোনেশিয়ার রাজধানীর ৫০ বছরের ইতিহাসে প্রথম অমুসলিম গভর্নর ছিলেন বাসুকি জাহায়া পুর্নামা, যিনি আহোক নামেই বেশি পরিচিত৷ ২০১৬ সালে নির্বাচনি প্রচারের এক বক্তৃতার সূত্র ধরে তাঁকে কোরান নিয়ে বিরূপ মন্তব্যের জন্য অভিযুক্ত করা হয়৷

এর প্রতিক্রিয়ায় উগ্র ইসলামিক সংগঠনগুলো ২০১৬ সালের নভেম্বর ও ডিসেম্বরে রাস্তায় নামে এবং বড় আকারে প্রতিবাদ সমাবেশ করে৷ ২০১৭ সালের মে মাসে ব্লাসফেমি আইনে তাঁকে ২১ মাসের কারদণ্ড দেয়া হয়৷

ইন্দোনেশিয়া বিশেষজ্ঞ ব্যার্থল্ড ডামহয়জার বলেন, ‘‘এই রায় দেশটির জন্য একটি কলঙ্ক এবং ইন্দোনেশিয়ায় বেড়ে চলা ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার শক্তিশালী উদাহরণ৷'' তাঁর মতে, অনেক তরুণ ইন্দোনেশিয়ান এখন শরীয়া আইন বাস্তবায়নকে সমর্থন দিচ্ছেন৷ তাঁদের একটি অংশ এমনকি কথিত ‘ইসলামের শত্রুদের' বিরুদ্ধে সহিংস পদক্ষেপ নেয়ারও পক্ষপাতী৷ এক জরিপ অনুযায়ী, ২০১৭ সালে দেশটির ভোটারদের ৮০ ভাগইক ছিল ১৭ থেকে ৩৪ বছর বয়সি৷

ইসলামী সংগঠনগুলোর ইতিহাস
দেশটির রাজনীতিতে ইসলামের প্রভাব দেশের ভেতর ও বাহির দুই দিক থেকেই এসেছে৷ সুজানে শ্র্যোটারের মতে, তাদের মূল শেকড়টি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও ইন্দোনেশয়ার স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়কার৷

স্বাধীনতার পরে এই গোষ্ঠীগুলো ইন্দোনেশিয়ার রাজনীতিতে যুক্ত হতে পারেনি৷ ধর্মীয় পরিচয়ের বদলে সাবেক প্রেসিডেন্ট সুকর্ন ইন্দোনেশিয়ার জাতীয়তাবাদে ‘পঞ্চশীলকে' প্রাধান্য দেন, যা দেশটির সংবিধানের প্রাস্তবনাতেও উল্লেখ রয়েছে৷

পঞ্চশীলের মূল বিষয় ছিল বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীকে নিয়ে একটি জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা৷ ৫টি নীতির মধ্যে প্রধান ছিল ধর্মীয় বহুত্ববাদ, গণতন্ত্র ও সামাজিক ন্যায়বিচার৷ সুকর্নর পরে ক্ষমতায় আসেন কর্তৃত্বপরায়ন শাসক সুহার্তো৷ তিনিও উগ্র রক্ষণশীল মুসলিমদের রাজনীতিতে তেমন একটা প্রশ্রয় দেননি৷

সুজানে শ্র্যোটারের মতে, ১৯৯৮ সালে গণতন্ত্রের সংস্কারের মধ্য দিয়ে ইসলামপন্থিরা জনমনে একটি জায়গা করে নেয় এবং পরবর্তীতে সংগঠিত হওয়ারও সুযোগ পায়৷ এরপরে ইন্দোনেশিয়ার শিক্ষাব্যবস্থায় সৌদি আরবের রক্ষণশীল ‘ওহাবিজম' মতাদর্শের প্রভাবও তৈরি হয়৷

সুজানে শ্র্যোটার বলেন, সে সময় শিক্ষা বৃত্তির মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়ার শিক্ষার্থীরা সৌদি আরবে যেতো৷ পরে তাঁরা উগ্র রক্ষণশীল আদর্শ নিয়ে দেশে ফিরে তা ছড়িয়ে দিতে লাগল৷

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত