শিরোনাম

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলাকারী রিমান্ডে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক  |  ১২:১৪, মার্চ ১৬, ২০১৯

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুইটি মসজিদে হামলায় অন্তত ৪৯ জনকে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে ব্রেন্টন টারান্টকে রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির আদালত।

শনিবার (১৬মার্চ) ক্রাইস্টচার্চের ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে হাজির করা হয় ২৮ বছরের টারান্টকে। তাকে হাতকড়া পরিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তার গায়ে ছিল বন্দিদের সাদা পোশাক। আদালতে কোনো কথা বলেননি তিনি। তার পক্ষে কোনো জামিন আবেদনও হয়নি।

বিবিসি জানিয়েছে, শুধু খুনের অভিযোগ এনে তাকে হাজির করার পর আগামী ৫ এপ্রিল আদালতে পরবর্তী হাজিরার দিন পর্যন্ত তাকে আটক রাখার আদেশ দিয়েছেন আদালত। তবে তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ আনা হতে পারে। শুনানিকালে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক টারান্ট আদালতে কোনো কোনও কথাই বলেননি।

নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড জানিয়েছে, শুনানির সময় সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা যখন তার ছবি তুলছিলেন , তখন নির্বিকারভাবে তাদের দিকে তাকিয়ে হাসছিলেন টারান্ট।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন হামলাকারী ট্যারেন্টকে ‘উগ্র ডানপন্থি একজন সন্ত্রাসী’ আখ্যায়িত করেছিলেন। ট্যারেন্টের এই কাণ্ডকে সন্ত্রাসবাদ বলেছিলেন নিউ জিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা অ’ডুর্ন। ট্যারেন্টের পাঁচটি বন্দুক এবং আগ্নেয়াস্ত্রের একটি লাইসেন্স রয়েছে বলে নিউ জিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন। তবে নিউ জিল্যান্ডে অপরাধীদের খাতায় তার নাম ছিল না। ট্যারেন্টের পাশাপাশি সন্দেহভাজন আরও দুজন আটক রয়েছেন জানিয়ে নিউ জিল্যান্ড পুলিশ বলছে, এই ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে জুমার নামাজের সময় নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ৪৯ জনকে হত্যা করেন ট্যারেন্ট। নিহতদের মধ্যে অন্তত তিনজন বাংলাদেশি রয়েছেন। দুপরে প্রথম হামলাটি হয় ক্রাইস্টচার্চের ডিনস এভিনিউয়ের আল নূর মসজিদে। সেখানে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে হামলাকারী গাড়ি চালিয়ে মাইল তিনেক দূরের লিনউড মসজিদে যায় এবং একই কায়দায় গুলি শুরু করে। নিউজিল্যান্ড সফররত বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের কয়েকজন খেলোয়াড় আল নূর মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে গিয়ে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন।

হামলাকারী সম্পর্কে সর্বশেষ তথ্য :নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আর্ডেন বলেছেন মসজিদের হামলার এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ব্যক্তির পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং একটি লাইসেন্স ছিল। হামলার ঘটনার একদিন পর তিনি আরও জানিয়েছেন, দেশটির অস্ত্র আইন বদলানো হবে।পুলিশ জানিয়েছে তারা হামলার শিকার দুটো মসজিদ থেকেই গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে এবং সন্দেহভাজন একজনের গাড়ির ভেতর বিধ্বংসী ডিভাইস পাওয়া গেছে।

প্রধানমন্ত্রী আর্ডেন সাংবাদিকদের বলেছেন, হামলাকারীর বন্দুক লাইসেন্সে ছিল এবং সেটি ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে নেয়া হয়েছে।ওই ব্যক্তি বলেছে সে ২০১৭ সালে ইউরোপ ভ্রমণের পর থেকে এই হামলার পরিকল্পনা করছিল। মাথায় স্থাপন করা ক্যামেরা দিয়ে পুরো হামলার ঘটনা সরাসরি ইন্টারনেটে প্রচার করছিল হামলাকারী, তার বয়স ২৮ বছর এবং সে অস্ট্রেলিয়ান -নাম ব্রেন্টন ট্যারান্ট। ফুটেজে দেখা যায় সে নারী, পুরুষ ও শিশুদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। বন্দুকধারী এরপর প্রায় ৫ কিলোমিটার গাড়ি চালিয়ে আরেকটি মসজিদে গিয়ে হামলা চালায় বলে খবর পাওয়া যায়।

প্রধান সন্দেহভাজন : প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আর্ডেন সাংবাদিকদের বলেছেন, প্রধান সন্দেহভাজন ব্যক্তি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ভ্রমণ করেছেন এবং নিউজিল্যান্ডে বিক্ষিপ্ত সময় অতিবাহিত করেছেন। "তাকে আমি দীর্ঘ-কালীন বাসিন্দা বলবো না। হামলাকারীর বন্দুক লাইসেন্সে ছিল। আমাকে জানানো হয়েছে সেটি ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে নেয়া হয়েছে"।তিনি বলেন, "নিউজিল্যান্ডে গোয়েন্দা সংস্থা উগ্র চরমপন্থিদের বিষয়ে তদন্ত করছে কিন্তু "হত্যার দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি চরমপন্থার জন্য গোয়েন্দা সম্প্রদায়ের কিংবা পুলিশ কারও নজরেই আসেনি"। ওই ব্যক্তি ২০১৭ সালে ইউরোপ ভ্রমণের পর থেকে এই হামলার পরিকল্পনা করছিল এবং সেখানকার ঘটনার প্রেক্ষিতে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিল।১৯৯০ এর দশক থেকে যুদ্ধ বিধ্বস্ত বিভিন্ন দেশ থেকে শরণার্থী আসায় নিউজিল্যান্ডে মুসলিমদের সংখ্যা বাড়তে থাকে।

যেভাবে হামলার খবর জানা গেল : আল নুল মসজিদে হামলার খবর প্রথম আসে স্থানীয় সময় দুপুর একটা ৪০ মিনিটের দিকে। সামনের দরজা দিয়ে বন্দুকধারী প্রবেশ করে এবং মাথায় স্থাপন করা ক্যামেরা দিয়ে পুরো হামলার ঘটনা সরাসরি ইন্টারনেটে প্রচার করে হামলাকারী।তার বয়স ২৮ বছর এবং সে অস্ট্রেলিয়ান, নাম ব্রেন্টন টারান্ট। ফুটেজে দেখা যায় সে নারী, পুরুষ ও শিশুদের ওপর হামলা চালাচ্ছে।

জেসিন্দা আরডেন বলেছেন, "এটাকে কেবল একটি সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বর্ণনা করা যায়"।বন্দুকধারী এরপর প্রায় ৫ কিলোমিটার পথ গাড়ি চালিয়ে আরেকটি মসজিদে গিয়ে হামলা চালায় বলে খবর পাওয়া যায়।একজন প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা অনুসারে, সেখানে একজন মুসুল্লি তাকে নিরস্ত্র করে এবং এরপর সে দৌড়ে বাইরে অপেক্ষমাণ গাড়িতে উঠে যায়। বন্দুকধারী হামলাকারীকে ঠিক কোথায় গ্রেপ্তার করা হেয়ছে তা পরিষ্কার নয়। পুলিশ জানিয়েছে তারা হামলার শিকার দুটো মসজিদ থেকেই গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে এবং সন্দেহভাজন একজনের গাড়ির ভেতর বিধ্বংসী ডিভাইস পাওয়া গেছে।

বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া : শনিবার ক্রাইস্টচার্চ শহরের মেয়র লিয়ানে ডালযেইল এই সন্ত্রাসবাদী কাজের প্রতি নিন্দা জানিয়েছেন এবং আক্রান্তদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। "আমরা আমাদের শহরে নতুন মানুষদের স্বাগত জানাই। তারা আমাদের বন্ধ, আমাদের প্রতিবেশী"।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিউজিল্যান্ডের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা এবং শুভ কামনা প্রকাশ করে বলেছেন। "নিউজল্যিান্ডের জন্য যেকোনো কিছু করতে আমেরিকা পাশে আছে"উল্লেখ করে তিনি লেখেন, "ঈশ্বর সবার মঙ্গল করুন"।

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে নিউজিল্যান্ডের নাগরিকদের প্রতি গভীর সহানুভূতি জানিয়েছেন "ক্রাইস্টচার্চে ভয়াবহ হামলার ঘটনায় ব্রিটেনের জনগণের পক্ষ থেকে আমার গভীর সমবেদনা । এই অসুস্থ সহিংসতায় আক্রান্ত সকলের জন্য আমার শুভ কামনা"।

রানী এলিজাবেথ বলেছেন তিনি ক্রাইস্টচার্চের ঘটনায় গভীরভাবে দু:খিত । "যারা প্রাণ হারিয়েছে সেসব পরিবার এবং স্বজনদের প্রতি আমি এবং প্রিন্স ফিলিপ সমবেদনা জানাচ্ছি"। এই বেদনাদায়ক সময়ে তার শুভকামনা এবং প্রার্থনা নিউজিল্যান্ডের সাথে রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

পোপ ফ্রান্সিস "আন্তরিক সংহতি প্রকাশ করেছেন এবং সহিংসতার উন্মত্ততায় হতাহতের ঘটনার খবরে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।জার্মান চ্যান্সেলর এঙ্গেলা মের্কেল বলেছেন, শান্তিপূর্ণভাবে মসজিদে প্রার্থনারত অবস্থায় বর্ণবাদী ঘৃণার বশবর্তী ব্যক্তির হামলার শিকার হওয়া এবং প্রাণ হারানো নিউজিল্যান্ডবাসীর জন্য তিনি শোকাহত।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাঁক্রো একে "অযৌক্তিক আক্রমণ" উল্লেখ করে ফ্রান্সের অবস্থান "যেকোনো ধরনের চরমপন্থার বিরুদ্ধে" বলে জানিয়েছেন।

হামলার এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডডার্নের কাছে শোকবার্তা পাঠিয়েছেন তিনি। শোকবার্তায় হামলায় হতাহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন এবং সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

হামলাটির নিন্দা জানিয়ে বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ আরেক দেশ মালয়েশিয়ার ক্ষমতাসীন সরকার জোটের নেতৃত্বাধীন দলের নেতা আনোয়ার ইব্রাহিম। হামলাটিকে মানবতাবিরোধী উল্লেখ করে তিনি বলেন, হামলার ঘটনায় হতাহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। হামলায় একজন মালয়েশিয়ান নাগরিক আহত হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত