শিরোনাম

সাংবাদিকরা এখন থেকে গণমাধ্যমকর্মী

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ২০:১৬, অক্টোবর ১৫, ২০১৮

‘গণমাধ্যমকর্মী (চাকরির শর্তাবলী) আইন-২০১৮’-এর খসড়ার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এই আইনে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মরতদের ‘গণমাধ্যমকর্মী’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। ইংরেজিতে বলা হবে ‘মাস মিডিয়া এমপ্লয়িজ’। এর আগে গণমাধ্যমকর্মীদের চাকরির সুযোগ-সুবিধা ও অন্যান্য শর্তাবলী শ্রম আইন দ্বারা পরিচালিত হতো। তবে এবার কর্মীদের জন্য আলাদা আইনের প্রস্তাব করা হলো।

সোমবার (১৫অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘গণমাধ্যমকর্মী (চাকরির শর্তাবলী) আইন ২০১৮’ এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সরকার কর্তৃক গঠিত পরিদর্শন কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে গণমাধ্যমকর্মীদের চাকরির নিয়মাবলী স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান প্রণয়ন করবে। এক্ষেত্রে কর্মীদের সাপ্তাহিক কর্মঘণ্টা হবে সর্বোচ্চ ৩৬ ঘণ্টা। এর বেশি হলে তাদের ওভারটাইম দিতে হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মীরা গ্রুপ বিমার আওতায় অন্তর্ভুক্ত হবেন।

আইনে গণমাধ্যমকর্মীদের ছুটির বিষয়ে বলা হয়েছে- কর্মীরা বছরে ক্যাজুয়েল লিভ পাবেন ১৫ দিন। তাদের অর্জিত ছুটি জমা হবে ১০০ দিন। আগে তা ৬০ দিন ছিল। এ ছাড়া পূর্ণ বেতনে দুটি উৎসব ভাতা ও ১০ দিন উৎসব ছুটি পাবেন কর্মীরা।

এতে আরও বলা হয়- নারী গণমাধ্যমকর্মীরা সরকারি ছুটির মতো সমহারে মাতৃত্বকালীন ছুটি কাটানোর সুযোগ পাবেন। এ ছাড়া কর্মীরা তিন বছর পর পর ৩০ দিনের জন্য সবেতন ছুটি পাবেন। আইনে কর্মীদের ওয়েজ বোর্ড অনুসারে ন্যূনতম বেতন পরিশোধের পাশাপাশি তাদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে। এই ফান্ডে কর্মীরা চাকরির এক বছরের মাথায় চাঁদা জমা দিতে পারবেন। মালিক পক্ষকেও ওই ফান্ডে সমহারে চাঁদা জমা দিতে হবে। আগে প্রভিডেন্ট ফান্ডে টাকা জমা দিতে প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মীদের চাকরির বয়স দুই বছর পূর্ণ হতে হতো।

এদিকে আইনে বলা হয়েছে- গণমাধ্যমকর্মী ও মালিকপক্ষের মধ্যে সমস্যা সৃষ্টি হলে ‘এডিআর’র মাধ্যমে তা নিষ্পত্তি করতে হবে। মালিক পক্ষকে এই আইনের সব বিধান পালন করতে হবে। এর ব্যত্যয় হলে বা লঙ্ঘিত হলে সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে। আইনে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলা না থাকলেও জরিমানা অনাদায়ে সে ক্ষেত্রে কারাদ- প্রদানের বিধান রাখা হয়েছে।

সম্প্রচার আইনের খসড়া অনুমোদন: সংবাদ মাধ্যমে অসত্য বললে জেল-জরিমানা
বেতার, টেলিভিশন ও অনলাইন সংবাদ মাধ্যমে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার, মুক্তিযুদ্ধের তথ্য বিকৃতি বা ভুল তথ্য প্রচারের মতো ২৪টি অপরাধের শাস্তির বিধান রেখে ‘সম্প্রচার আইন, ২০১৮’ এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এ ছাড়া টকশোতে মিথ্যা ও অসত্য বললেই সাজার কথা বলা আছে এ আইনে।

সোমবার (১৫অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের জানান, সম্প্রচার আইনে ৭ সদস্যের সম্প্রচার কমিশন গঠনের কথা বলা হয়েছে, যার সদস্যদের নিয়োগ দেওয়া হবে সার্চ কমিটির মাধ্যমে। ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি কমিশনের সদস্যদের নিয়োগ দেবেন।

তিনি আরো জানান, সম্প্রচার মাধ্যমে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার, মুক্তিযুদ্ধের তথ্য বিকৃতি বা ভুল তথ্য প্রচারের মতো ২৪টি অপরাধের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এতে আইন লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদ- বা অনধিক পাঁচ কোটি টাকা জরিমানা করা হবে। শফিউল আলম দাবি করেন, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেই নতুন আইনটি করা হচ্ছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এ কমিশন সম্প্রচার যন্ত্রপাতির লাইসেন্স দেবে।

অনলাইন গণমাধ্যমের নিবন্ধন দেওয়ার ক্ষেত্রে কমিশনের একক কর্তৃত্ব থাকবে। খসড়া আইনে সম্প্রচার কমিশন গঠনের পাশাপাশি কমিশনারদের নিয়োগ, যোগ্যতা-অযোগ্যতা, মেয়াদ, পদত্যাগ, অপসারণ, পদপর্যাদা, পারিশ্রমিক ছাড়াও বিভিন্ন বিষয়ের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া আছে বলেও জানান তিনি। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমসহ মন্ত্রিসভার সদস্যরা অংশ নন।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত