শিরোনাম

ডিআইজি মিজান সাময়িক বরখাস্ত : জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক   |  ০৫:১২, জুন ২৬, ২০১৯

পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। মঙ্গলবার (২৫ জুন) এর মাধ্যমে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

মঙ্গলবার (২৫জুন)রাতে গণমাধ্যমে ডিআইজি মিজানের সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ।

তিনি জানান, ডিআইজি মিজানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সাজা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে পুরোপুরি বরখাস্ত করা যায় না। মঙ্গলবার এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে।

সাময়িক বরখাস্তের পর পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। আপাতত তাকে পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।

এর আগে গত ২০ জুন দুদকের আবেদনে ডিআইজি মিজানের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ দেন ঢাকার একটি আদালত। জব্দ করা হয় তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টও।

ডিআইজি মিজানুর ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গেল জানুয়ারির শুরুর দিকে তাঁকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়।

বিয়ে গোপন করতে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তারকে গ্রেপ্তার করানোর অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে।

তখন তাঁর বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। মিজানুরের বিরুদ্ধে এক সংবাদ পাঠিকাকে প্রাণনাশের হুমকি ও উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে বিমানবন্দর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) রয়েছে।

গত বছরের ৩ মে অবৈধ সম্পদসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে মিজানুরকে দুদক কার্যালয়ে প্রায় সাত ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রাথমিক অনুসন্ধান প্রতিবেদনে মিজানুর রহমান ও তাঁর প্রথম স্ত্রী সোহেলিয়া আনারের আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ কোটি টাকারও বেশি সম্পদের খোঁজ পায় দুদক।

মিজানুরের নামে ৪৬ লাখ ৩২ হাজার ১৯১ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ৭২ লাখ ৯০ হাজার ৯৫২ টাকার অসংগতিপূর্ণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের খোঁজ পাওয়ার কথা দুদকের বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়।

তদন্ত শুরু হওয়ার এক বছরের মাথায় দুদক পরিচালকের বিরুদ্ধে ঘুষ নেয়ার এই অভিযোগ পাওয়া গেল। দুর্নীতি দমন কমিশনের এক কর্মকর্তাকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দেয়ার দাবি ও তাদের কথোপকথনের রেকর্ড ফাঁস করে নতুন বিতর্ক তৈরি করেন ডিআইজি মিজান।

সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ডিআইজি মিজানের ব্যক্তিগত কোনো কাজের দায় পুলিশ বাহিনী নেবে না। পুলিশ হিসাবে বাড়তি কোনো সুযোগও তিনি পাবেন না। দোষী প্রমাণিত হলে সরকারি চাকরি বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এমএআই

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত