শিরোনাম

রাঙ্গাবালীর নয়নাভিরাম দ্বীপ সোনারচর

মো. মনিরুল ইসলাম, পটুয়াখালী  |  ১৮:০৮, মার্চ ০২, ২০১৯

চারদিকে সমুদ্রের জলরাশি। সবুজ ঘন ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল। সৈকতের তটরেখায় লাল কাঁকড়াদের ছোটাছুটি। সবুজ প্রকৃতি, বন্যপ্রাণী, পাখির ঝাঁক, জেলেদের উল্লাস। সাগরে যখন জোয়ারের পানি উতলে ওঠে, তখন অনন্য এক সৌন্দর্যের সৃষ্টি হয়। তটরেখায় আছড়ে পড়ে ছোট-বড় ঢেউ। রয়েছে ঢেউয়ের তালে দুলতে থাকা জেলে নৌকার বহর। সাগরে জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য, বিশেষ করে প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এর আবেদন অন্যরকম। সৌন্দর্যে ঘেরা এই জায়গাটির নাম ‘সোনারচর’। এর অবস্থান পটুয়াখালী জেলা থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নে।

সোনারচরের নামকরণ: সকাল কিংবা শেষ বিকেলে রোদের আলো যখন সোনারচরে বেলাভমিতে পড়ে, তখন দূর থেকে পুরো দ্বীপকে সোনালি রঙ্গের থালার মতো মনে হয়। বালুর ওপরে সূর্যের আলোয় চোখের দৃষ্টি চিকচিক করে। মনে হয় যেন কাঁচা সোনার প্রলেপ দেয়া হয়েছে দ্বীপটিতে। ধারণা করা হয়, বিশেষ এ বৈশিষ্ট্যের কারণেই রাখা হয়েছে দ্বীপটির নাম সোনারচর।

যা দেখবেন: সোনারচরে রয়েছে ১০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও পাঁচ কিলোমিটার প্রস্থ্যের বিশাল সমূদ্রসৈকত। রয়েছে সৈকতের যে কোনো জায়গায় দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দেখার অপূর্ব সুযোগ। এখানে রয়েছে পাঁচ হাজার একরের বিশাল বনভূমি। বন বিভাগের তথ্যমতে, অসংখ্য হরিণ আর বানর রয়েছে সোনারচরে। তবে ঘন অরণ্যের কারণে এগুলো দেখার সুযোগ খুব কম। বনাঞ্চলের কাছাকাছি গেলে সহজেই চোখে পড়বে বুনো মহিষ। দেখা মেলে বুনো গরু। এসব গরু, মহিষ দলছুট হয়ে বুনো হিংস্র পশুতে পরিণত হয়েছে। এর বাইরে এখানে রয়েছে শুকর, বানর, মেছোবাঘসহ আরও বিচিত্র সব প্রাণী। মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্যের নানা রকম প্রাকৃতিক আয়োজন রয়েছে এ দ্বীপে। রয়েছে সমুদ্র উপভোগের সুযোগ। ঢেউয়ের তালে সমুদ্রস্নানেও রয়েছে ভিন্ন আমেজ। এখানে গেলে দেখা মিলবে হাজারো জেলের। সাগর থেকে তুুলে আনা টাটকা মাছের স্বাদও নেয়া যাবে। শুঁটকিপল্লীতেও ঘুরে বেরানো যাবে। দেখা যাবে লাল কাঁকড়া যেন চাঁদর বিছিয়ে রয়েছে। মোট কথা, একদিকে দূর আকাশ, বিস্তীর্ণ সাগর ও বনাঞ্চল। দুটোরই স্বাদ মিলবে সোনারচরে। সেই সঙ্গে বন্যপ্রাণী ও পাখির কলরবে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যপিপাসুরা সোনার চরের রূপে মুগ্ধ হবেনই।

অতিথি পাখি : ছোট-বড় পাখি। দেশি-বিদেশি পাখি। দুর্লভ প্রজাতির নানা রঙের পাখি। যেন পাখির সমারোহ। শীত মৌসুমে এলেই উত্তর বঙ্গোপসাগর তীরে সোনারচরে অভয়ারণ্যে ব্যাপক সমাগম ঘটে পাখির। কেউ থাকে গাছের ডালে, আবার কেউ থাকে চরের ওপরে ঝাঁক বেধে। সবসময় এরা ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে বেড়ায়। প্রতি বছরই শীতের তিব্রতা থেকে রক্ষা পেতে সোনারচরে আশ্রয় নেয় ওইসব পাখি।

যেখানে থাকবেন : সোনারচরে রাত কাটানোর মতো নিরাপদ আরামদায়ক কোনো ব্যবস্থা এখনো গড়ে ওঠেনি। তবে সোনারচরে পর্যটকদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে ছোট তিনকক্ষের একটি বাংলো। যা এখন পরিত্যক্ত। তা ছাড়া রয়েছে বনবিভাগের ক্যাম্প। সেখানে কিছুটা কষ্ট হলেও রয়েছে পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা। চাইলেই সূর্যাস্ত দেখার পর ইঞ্জিনচালিত নৌকা বা ট্রলারে ৩০ মিনিটে চলে যেতে পারবেন চরমোন্তাজে। সেখানে রয়েছে বেসরকারি সংস্থা ও মহিলা উন্নয়ন সমিতির ব্যবস্থাপনায় রাত যাপনের মতো ভালো সুবিধাসম্পন্ন বাংলো। এ ছাড়া রয়েছে হোটেল।

রাঙ্গাবালী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘সোনারচরে আমি গেছি। দেখেছি সেখানকার মনোরম পরিবেশ। তা আমার হৃদয়ে সবসময় জেগে ওঠে। যদি আমরা যাতায়াত, থাকা এবং খাওয়ার সু-ব্যবস্থা করতে পারি তাহলে সোনারচরে সবসময় পর্যটকরা আসা-যাওয়া করবেন বলে আমার বিশ্বাস। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাশফাকুর রহমান বলেন, দক্ষিণে পর্যটন এলাকা হিসেবে সুপরিচিত ‘কুয়াকাটা’ পর্যটন এলাকা। কিন্তু কুয়াকাটা জনবহুল এলাকা। পর্যটকরা চান নিরিবিলি পরিবেশ। আর সোনারচরে যেহেতু নিরিবিলি, সুন্দর ও মনোমুগ্ধকর পরিবেশ, আমার বিশ্বাস এখানে একবার পর্যটক এলে বারবার আসতে চাইবেন এবং অন্যদের আসার জন্য উৎসাহিত করবেন।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত