শিরোনাম

পানির দেশে দৃষ্টিনন্দন দেড়শত মসজিদ

প্রিন্ট সংস্করণ॥জিয়া উল ইসলাম  |  ০০:৪০, ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০১৯

আটলান্টিক মহাসাগরের উপকূলে ক্রান্তীয় অঞ্চলে অবস্থিত গায়না। গায়না দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের উত্তর উপকূলের একটি দেশ । দক্ষিণ আমেরিকার একমাত্র ইংরেজিভাষী রাষ্ট ভাষার দেশও বলা হয়। গায়ানা একটি আদিবাসী আমেরিকান শব্দ, যার অর্থ ‘পানির দেশ’। এই পানির দেশের রাজধানীর নাম জর্জটাউন। এই দেশটি পশ্চিমে ভেনেজুয়েলা, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বে ব্রাজিল এবং পূর্বে সুরিনাম। যদিও গায়ানা দক্ষিণ আমেরিকার মূল ভূখন্ডে অবস্থিত, প্রাক্তন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জের ছোট ছোট দ্বীপগুলির সাথে এর সাংস্কৃতিক, ঐতিহাসিক ও অর্থনৈতিক বন্ধন বেশি। গায়ানাতে বসবাসরত নয়টি আদিবাসী উপজাতি রয়েছে: ওয়াই ওযাই, মাকুশি, পাতামোনা, লোকোনো, কালিনা, ওয়াপিশানা,পেমন, আকওয়ায়ো এবং ওযারাও। ঐতিহাসিকভাবে লোকেও ও কালীনা উপজাতিরা গায়ানার উপর কর্তৃত্ব করেছিল। যদিও ক্রিস্টোফার কলম্বাস তাঁর তৃতীয় যাত্রা (১৪৯৮ সালে) ভ্রমণের সময় গায়ানা দেখতে প্রথম ইউরোপীয় ছিলেন এবং ১৫৯৬ সালে স্যার ওয়াল্টার রালেহে একাউন্ট লিখেছিলেন, ডাচ ছিলেন প্রথম ইউরোপীয় উপনিবেশ স্থাপন করার জন্য: এসেকটিবো (১৬১৬), বার্বিস (১৬২৭), এবং ডেমেরার (১৭২৫)। ১৭৯৬ সালে ব্রিটিশদেরনিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর, ডাচ আনুষ্ঠানিকভাবে ১৮১৪ সালে এই অঞ্চলটি নিযুক্ত করে। ১৮৩১ সালে তিনটি পৃথক উপনিবেশ ব্রিটিশ গায়ানা নামে পরিচিত একটি ব্রিটিশ উপনিবেশ হয়ে ওঠে। গায়ানার পূর্বে নাম ছিল ব্রিটিশ গায়ানা পরে ১৯৬৬ সালে ১৫০ বছরের ঔপনিবেশিক শাসন শেষে ২৬ মে ১৯৬৬ সালে যুক্তরাজ্য থেকে স্বাধীনতা লাভ করে ব্রিটিশ গায়ানা থেকে হয়ে যায় দেশ গায়ানা। ১৮শ শতকের শুরু থেকেই আখ এখানকার প্রধান অর্থকরী ফসল। ইউরোপীয়রা এখানকার চিনির প্ল্যাান্টেশনগুলিতে প্রচুর আফ্রিকানদের দাস হিসেবে ব্যবহারের জন্য নিয়ে আসে। ১৮৩০-এর দশকে দাসপ্রথার অবলুপ্তি ঘটলে ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে বহু লোক প্ল্যান্টেশনগুলিতে কাজ করার জন্য নিয়ে আসা হয়। ২০শ শতকের শেষ নাগাদ ভারতীয় ও আফ্রিকানরা গায়ানার সবচেয়ে বড় দুইটি জাতিগত গোষ্ঠী গঠন করে। স্বাধীনতার পর গায়ানাতে জাতিগত রাজনৈতিক দল গড়ে ওঠে। এ পর্যন্ত মোটামুটিভাবে বামপন্থী দলগুলিই গায়ানা শাসন করেছে। ১৯৯০-এর দশক পর্যন্ত আফ্রিকান বংশোদ্ভূত গায়ানীয়রা সরকারে আধিপত্য বিস্তার করেছিল। এরপর ভারতীয় বংশোদ্ভূত গায়ানীয়দের একটি রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসে। গায়ানায় খ্রিস্টানদের সংখ্যা শতকরা ষাট জন বা তার থেকেও কম। সেখানকার বাকী জনগন ইসলাম, হিন্দুধর্ম এবং স্থানীয় আদিমতম ধর্ম সহ বিভিন্ন বিশ্বাস অনুসরণ করে। এখানে প্রায় দশ লক্ষ লোক বাস করে। ঔপনিবেশিক যুগে, গায়ানায় আফ্রিকা থেকে দাস হিসেবে অনেককে নিয়ে আসা হয়েছিল। এরমধ্যে ফুলা জাতিগোষ্ঠীর মানুষ সহ অন্য অনেক আফ্রিকান ছিল, যারা জীবনাচরনে ইসলামের অনুসরণ করতেন। মূলত ফুলাদের মাধ্যমে গায়ানা প্রথম ইসলামের সংস্পর্শে আসে। গায়ানায় এখনো সাধারণভাবে মুসলমানদের বোঝাতে ফুলা শব্দটি ব্যবহৃত হয়। গায়ানায় মুসলমানদের দ্বিতীয় পর্যায়ের আগমন ঘটে যখন ১৮৩৮ সালে যখন ব্রিটেন এখানে তাদের উপনিবেশ প্রতিষ্ঠা করে। এসময় ভারত থেকে ব্রিটিশরা এখানে বিভিন্ন কাজে লোক সরবরাহ করার জন্য ভারতীয়দের নিয়ে আসে। পরবর্তী ৮০ বছরে ভারত থেকে প্রায় দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার লোকের আগমন ঘটে, যাদের মধ্যে ৮৪ শতাংশ ছিল হিন্দু এবং ১৬ শতাংশ মুসলমান। যদিও জানা যায়না, গায়ানায় মোট মুসলমানদের সংখ্যা কত, তথাপি ধারণা করা হয় সংখ্যাটি ৭ থেকে ১০ শতাংশের মধ্যে হতে পারে। বর্তমানে গায়ানায় প্রায় আধুনিক স্থাপত্য দৃষ্টিনন্দন ১৫০টির মত মসজিদ রয়েছে। গায়ানায় ইসলাম সরকারীভাবে একটি স্বীকৃত ধর্ম এবং দুই ঈদে মুসলমানদের ছুটি দেওয়ারও ব্যবস্থা রয়েছে।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত