শিরোনাম

দেশে দেশে শীতের উৎসব

প্রিন্ট সংস্করণ  |  ০২:২৪, জানুয়ারি ১২, ২০১৯

এসেছে শীত গাহিতে গীত বসন্তেরই জয়- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সত্যিই বলেছেন। শীত এখন আর ভয় নয়, শীতকাল মানেই আনন্দ- উৎসব গান গাওয়া দিন। সাধারণত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ফেব্রুয়াারি পর্যন্ত শীতকাল। এই শীতকালে বিশ্বে বিভিন্ন অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। বরফ উৎসব, পিঠা উৎসব, কার্নিভাল, পার্টির আয়োজন এবার এই শীতকাল নিয়েই লিখেছেন - জিয়া উল ইসলাম

চীনের স্নো অ্যান্ড আইস ফেস্টিভ্যাল
দক্ষিণ চীনের হেইলিংজিয়াং প্রদেশের রাজধানী শহর হারবিনে প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয় ইন্টারন্যাশনাল স্নো অ্যান্ড আইস ফেস্টিভ্যাল। গত তেত্রিশ বছর ধরে হারবিনে চলে আসছে এ শীতকালীন বরফ উৎসব। ৫ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে উৎসব শেষ হয় ২৮ ফ্রেবুয়ারি ১৯৬৩ সালে স্থানীয়রা বরফ উৎসবের মাধ্যমে শুরু করেছিল এই উৎসব। সাদামাটা সে উৎসব এখন আন্তর্জাতিক আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাঝখানে চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সময় ১০ বছরের (১৯৬৬ থেকে ১৯৭৬) জন্য নিষিদ্ধ ছিল এটা। উৎসবটি কয়েক ভাগে ভাগ হয়ে থাকে। প্রধান আকর্ষণ হলো হারবিনের বরফ এবং তুষার রাজ্য। সাড়ে সাত লাখ বর্গমিটারজুড়ে এক লাখ ৮০ হাজার ঘনমিটার আয়তনের জায়গায় স্নাইস (বরফ ও তুষার) দিয়ে তৈরি হয় এই বরফের স্বর্গরাজ্য। বরফের ভাস্কর্যগুলো তৈরি করা হয় স্থানীয় লোকাচার ও ঐতিহ্যকে ভিত্তি করে। প্রতি বছরই এর ধরন পাল্টায়। চীনের আবহমান ঐতিহ্য, চিরায়ত লোকাচার ও দেবদেবীর ভাস্কর্য পর্যটকদের চোখ ও মনকে আকর্ষণ করে। চীনে জানুয়ারি মাসে হার্বিনের গড় তাপমাত্রা থাকে হিমাঙ্কের নিচে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। হার্বিনের মাঝখান দিয়ে চলে গেছে সংহুয়া নদী। তুষার ভাস্কর্যের কাঁচামাল এই নদী থেকেই আসে। নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সাংহুয়াতে এক মিটার গভীরতা পর্যন্ত বরফ জমে। যান্ত্রিক করাত দিয়ে সেই বরফ কেটে স্ত্রেজে করে প্রদর্শনীর স্থলে পাঠানো হয় ১৫০টি ফুটবল মাঠের সমান একটি এলাকায়। এই তুষার ভাস্কর্যগুলো সৃষ্টি করেন প্রায় ১০ হাজার শিল্পী। আবহাওয়া পক্ষে থাকলে পরবর্তী তিন মাস খোলা আকাশের নিচে অক্ষত থাকে। চীনের হার্বিনে শুধু তুষারের ভাস্কর্য নয়, আছে আইসক্রিম খাবার বার ও রেস্টুরেন্ট। জমে যাওয়া নদীর বরফে গর্ত করে মাছ ধরা যায়। এখানে কয়েক লাখ দর্শক ও অতিথিরা প্রতি বছর ভিড় জমিয়ে থাকেন। বিশ্বের নামকরা বরফ ও তুষার ভাস্কর্য শিল্পীরা সেখানে জড়ো হন। চীনের প্রাচীর কিংবা মিসরীয় পিরামিড আকার ও অলঙ্করণে মহীয়ান যে স্থাপত্যই হোক না কেন, সবই জড়ো করা হয় চীনের এ শহরটিতে। বরফে বাঁধা পড়েছে মানুষের এসব কীর্তির অনুলিপি। তবে হ্যাঁ, হিমশুভ্র রঙে নয়, এলইডি ইফেক্ট ফেলে হাজারো আলোর বর্ণচ্ছটায় মূর্ত করা হয় উৎসবের যাবতীয় দর্শনীয় স্থাপত্য। দেড়শরও বেশি কারিগর নানা প্রকল্প মাথায় নিয়ে তৈরি করেন এসব নান্দনিক নির্মাণ। কোথাও তুষারমানব, কোথাও আবার রীতিমতো দুই অঙ্কের ব্যালে। শুধু তা-ই নয়, অতিকায় ইমারত ও সুইমিং পুলও তৈরি করেন অনেকে। আর এসব স্থাপত্য দর্শকদের চোখ ধাঁধিয়ে যায়। আর এগুলো দেখতে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে হাজার হাজার দর্শনার্থী ভিড় জমিয়েছেন এখানে। গত দুটি বছরে হারবিনে আসা দর্শনার্থীর সংখ্যাও নেহাত কম ছিল না। সব মিলিয়ে ২৮ দশমিক ৫ মিলিয়ন দর্শনার্থী এসেছিল এ বরব উৎসবে। এ বছর ভাস্কর্য ও শিল্পকর্ম নির্মাণে কাজ করেছেন ১২টি দেশের ভাষ্কর । হারবিন আইস অ্যান্ড স্নো ওয়ার্ল্ডের এ বছরে প্রবেশমূল্য ধরা হয়েছে ৪৮ মার্কিন ডলার।

দ. কোরিয়ায় আইস ফিশিং ফেস্টিভ্যাল
দক্ষিণ কোরিয়ার হোয়াচেয়নে ২০০৩ সাল থেকে শুরু হওয়া মাছ ধরার এই উৎসবের নাম। আইস ফিশিং ফেস্টিভাল। বরফের মধ্যে মাইনাস জিরো ডিগ্রি তাপমাত্রায় অসমসাহসিকতার পরিচয় দিতে উৎসবে অংশ নেন মানুষ। জমাট বাধা বরফ পানিতে মাছ ধরার এই উৎসব স্থানীয় ভাষায় দ্য সানচেয়োনিও ফেস্টিভাল নামে পরিচিত। দক্ষিণ কোরিয়ার অন্যতম প্রধান এই উৎসব সাধারণত জানুয়ারি আরম্ভ হয়ে ও ফেব্রুয়ারিতে শেষ হয় । উৎসব ২৩ দিন ব্যাপি হয়ে থাকে। আর শুরু হয় শনিবারে। আইস ফিশিং ফেস্টিভাল উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর অনেক দেশের পর্যটক আসে দক্ষিণ কোরিয়ায়। জমাটবাধা হ্রদের প্রায় ১২ মাইল এলাকাজুড়ে ২৩ বছর ধরে চলা এই উৎসবে প্রতিবছর দেশি-বিদেশি ১৫ লাখেরও বেশি পর্যটক অংশ নিয়ে থাকেন। তারা বরশি দিয়ে মাছ ধরে। অর্থাৎ হ্রদের পানি যখন জমাট বেধে বরফ হয়ে যায় তখন ছোট ছোট গর্ত করে হ্রদের ভিতর বরশি দিয়ে মাছ ধরা হয়। প্রচন্ড ঠান্ডার মধ্যে বরফে মাছ ধরার বিষয়টি সত্যিই মজার। বাচ্চাদের সঙ্গে থাকেন। পর্যটকরা মাছ ধরে বারবি কিউ করে খান, সত্যি দারুন মজার উৎসব। যখন মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা থাকে তখন হাত দিয়ে মাছ ধরা শুরু করেন অনেকে।

অন্যান্য দেশে
শীতকালে ইতালি ভেনিসে আয়োজিত কার্নিভাল প্যারেডে করা হয় নাচ, সংগীত ও শোভাযাত্রার আয়োজন। ইভেন্ট শুরুর ৪০ দিন আগেই চলে তোড়জোড়। সেখানে মুখোশ পরাটা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কে কার থেকে আকর্ষণীয় মাস্ক পরবে তার প্রতিযোগিতা হয়। তবে ব্রাজিলের রিও-তে আয়োজিত শীতকালীন উৎসবটি সারা বিশ্বের বড় কার্নিভাল হিসেবে বিবেচিত। একদিনের এই অনুষ্ঠানে জড়ো হয় প্রায় দুই মিলিয়ন মানুষ, প্রদর্শিত হয় ঐতিহ্যবাহী পোশাকের সঙ্গে সাম্বা নাচ। ১৭২৩ সাল থেকে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দেশটির স্কুলের ছেলেমেয়েরা মুখিয়ে থাকে। নিউ অর্লিন্সের শীতকালীন উৎসবটি চলে ৬ জানুয়ারি ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। বিশ্বের মধ্যে সব থেকে জাঁকজমকপূর্ণ এই অনুষ্ঠানে পর্যটকরা আগেভাগেই ভিড় জমাতে থাকেন। এদিকে মিয়ামি বিচে লেসবিয়ান, গে, বাইসেক্সুয়াল ও ট্রান্সজেন্ডারদের গোষ্ঠী এলজিবিটির আয়োজিত হোয়াইট পার্টি হয় বিশাল পরিসরে। যা এই গোষ্ঠীর আয়োজিত অন্য সব অনুষ্ঠানের মধ্যে সবচেয়ে বড়। বিশ্বের কমপক্ষে ১০ হাজার অতিথির সামনে অনুষ্ঠানের ছয় দিন নয়টি নাচের ইভেন্ট সম্পন্ন করা হয়। অপরদিকে কানাডার আইস অন হোয়াইটি ফেস্টিভ্যালে বিশেষ এক ধরনের করাত, বাটালি, আগুন নিয়ে ভাস্কর্য শিল্পীরা ১০ দিনের জন্য চলে যান আউটডোরে। তাদের সঙ্গে পর্যাপ্ত খাবার, গান শোনার যন্ত্র ও অন্যান্য জিনিস থাকে। তারা রাশিয়া, লাটভিয়া, লিথুনিয়া, নিউজিল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, মালয়েশিয়া থেকে অংশ নেন। উল্লেখ করা যেতে পারে, জাপানের সাপ্পোরো স্নো ভেস্টিভ্যালকে। এটি চলছে ১৯৯০ সাল থেকে। হাইস্কুলের ছাত্রছাত্রীদের বানানো মাত্র ছয়টি বরফের ভাস্কর্য দিয়ে এই প্রতিযোগিতার শুরু। বর্তমানে সেখানে ৫০ হাজারের বেশি বরফের ভাস্কর্য প্রদর্শিত হয়। প্রতি বছর ২ মিলিয়নের বেশি অতিথি আসেন। এছাড়াও ফ্রান্সে ২৬ বছর, লাটভিয়ায় ১৯ বছর, আমেরিকায় ১৭ বছর ধরে এ ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আসছে। কানাডাতে তো রীতিমতো সবচেয়ে বড় একটি মিলনমেলা তৈরি করে এই আয়োজন। আগন্তুকদের আগ্রহের কারণে স্নোকিং নামের এই আইস ফেস্টিভ্যাল থাকে মাসব্যাপী স্থায়ী। প্রতি বছর মার্চে এই আয়োজন করা হয়। অপরদিকে নরওয়ে তো রীতিমতো এই উৎসবকে সাংস্কৃতিক রূপ দিয়ে বসেছে। আইস ফেস্টিভ্যালকে নরওয়ে একটি অনন্য ও নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। প্রতি বছর পূর্ণিমা রাতে খোলা আকাশের নিচে ভাস্কর্য প্রদর্শনের সঙ্গে সঙ্গে মনোমুগ্ধকর সুরের আয়োজন করা হয়। পরিবেশিত হয় গান, বাদ্যযন্ত্র। আগত অতিথিরা সারা রাত বসে এই সুরের মূর্ছনা উপভোগ করে। স্কি এবং ভাইকিংয়ের ব্যবস্থাও আছে।

বাংলাদেশে শীত মানেই উৎসব আনন্দ উপভোগের নাম
শীত বাংলা সনের পঞ্চম ঋতু। পৌষ ও মাঘ মাস এই দুই মাস মিলে শীতকাল । শীতকাল প্রধানত শুষ্ক এবং দিনের তুলনায় রাত হয় দীর্ঘ। বাংলাদেশে শীতের সময় খেজুরের রস দিয়ে বিভিন্ন ধরনের পিঠা পায়েস খাওয়া হয়। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ানো হয় এই শীত কালে । বিভিন্ন দেশ থেকে শীতের পাখি আসে শীত কালে, শীতের ফুল-ফলে ভরে ওঠে পুরো দেশ । শীতের পোশাক কেনারও ধুম পড়ে যায় বাজারে। সারাক্ষণ সবখানে উৎসবে আমেজ থাকে বিরাজমান। শীতে যা ঘটে বাংলাদেশ তা হলো-

শীতের পিঠা : শীতের সকাল মানেই নতুন কোন পিঠার সুস্বাদ নেয়া। শীত এলে তাই পিঠা বানানো হয়ে যায় আনন্দের অনুষঙ্গ। ভাপা, কুশলি, চিতই, পাকান, ম্যারা, ফুলপিঠা, পাটি সাপটা, পুলি, শ্যাওই ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।তবে চিতই বা রস পিঠা খাওয়া সবচেয়ে বেশি মজার। শীতের সময় গ্রামাঞ্চলে গেলে দেখা যায় বাড়িতে বাড়িতে উঠোনে পিঠা বানানোর ধুম। শীতে খেজুর রসের পায়েস এক মজাদার ব্যাপার। শীতের সন্ধ্যায় ‘সন্ধ্যে রস’ খাওয়ার মজাই আলাদা। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারী বেসরকারি ভাবে পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয় ।

শীতে বেড়ানো : শীত এলে আমরা সাধারণত নানা প্রোগ্রাম করে থাকি এর মধ্যে পিকনিক অন্যতম। তবে সময় হাতে থাকলে ভ্রমণের আদর্শ সময় হতে পারে এই শীত। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে শীতকালে বেড়ানো খুবই মজা। এছাড়াও কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত কিংবা সুন্দরবনে বেড়াতে যাওয়া জন্য শীতকাল হচ্ছে একটি মোক্ষম সময়। বগুড়ার মাহস্থানগড়ে শীতের সকাল দেখার মজাই অন্যরকম। সিলেটের জাফলং, তামাবিল, মাধবকুন্ড এসব জায়গায় আরও সুন্দর। পার্বত্য চট্রগ্রামের বান্দরবান বা রাঙামাটি বেড়ানোর জন্যে সুন্দর সময় এই শীতকাল।

শীতের সবজি : শীত কারে এদেশে শীতের সবজির ধুম পড়ে যায় । শীতে ফুলকপি, বাঁধাকপি, ওলকপি, সিম, টমেটো, গাজর, নতুন আলু, পেঁয়াজের ফুল, পালংশাক, খেসারি শাক, ছোলার শাক এমন আরও অনেক রকম সবজি রয়েছে। এসব পুষ্টকর শাক-সবজি শীতকালে এদেশে নিয়মিতই খাওয়া হয়।

শীতের ফল : শীতে রয়েছে অনেক রকমের ফল। এগুলোর মধ্যে বড়ই অন্যতম। তাছাড়াও কমলা, আঙ্গুর, আপেল, চেরিসহ আরও রয়েছে নানা করমের ফলমুল। এগুলো শীতের দিনে এই দেশে বেশি খাওয়া হয়।

শীতের পাখি : শীত কালে বিভিন্ন দেশ থেকে আসে অতিথি পাখি। এই অতিথি পাখি পরিবেশকে নতুন প্রাণ চাঞ্চল্যতা দেয় ।হাওর ও বিল এলাকা, বিভিন্ন নদী তট এবং বন এলাকায় এবং জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এসব পাখির আগমন ঘটে এসব অতিথি পাখি এদেশের চারপাশের চিরচেনা প্রাকৃতিক পরিবেশকে আরো মনমুগ্ধকর করে তোলে।

শীতের পোশাক : শীতের সময় গরম কাপড় পরা আরেক আনন্দ। এই দেশের আবহাওয়া ও জলবায়ুর অনন্যতার কারণে গরম কাপড় শুধুই শীতের সময়ই পড়া হয় ।
তাই সবাই শীতের কাপড় কিনতে ভিড় করে বাজারে। যদিও নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষকে শীতে বেশ কষ্ট করতে হয়। তবুও এই শীতের পোশাক সকলের মধ্যেই বাড়তি আনন্দ যোগ করে। শীতের পোশাকের মধ্যে রয়েছে, কোর্ট প্যান্ট, ব্লেজার, চাঁদর, মাফলার, টুপি ইত্যাদি।

শীতের ফুল : শীত কালে এই দেশে অনেক ফুল ফোটে যেমন অশোক, ইউক্যালিপটাস, কুরচি, ক্যামেলিয়া, বাগানবিলাস, গোলাপ এবং সরিষা ফুল । এ সময় ঘন কুয়াশা হয়, পাতা ও ঘাসে শিশির বিন্দু দেখা যায়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত